সাম্প্রতিক

কামারুজ্জামানের ফাঁসির মুখে ভাল নেই নিজামী-মুজাহিদ

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ক্ষণ গণনা শুরু হয়ে গেছে। আনুষ্ঠানিকতা বলতে রিভিউ আবেদনের সঙ্গে আছে মার্সি পিটিশন। আইনজীবীদের ধারনা এ সবের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হতে হয়তো আগামী মাসের প্রথমার্ধ পেরুবে না।

এদিকে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীর এই হাল শুনে কারাগারে অনেকটাই মুষড়ে পড়েছেন দলটির আমির মাওলানা মতিউর রহমান নিজামী ও সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ।
জামায়াতের শীর্ষ এই দুই নেতার বিরুদ্ধেও মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে।নিজামী রয়েছেন কাশিমপুরে এবং মুজাহিদ রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ কারাগারে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর থেকেই তাদেরকে সারাক্ষণ চিন্তাযুক্ত মনে হচ্ছে। প্রায়ই তাদেরকে অন্যমনস্ক হয়ে বসে থাকতে দেখা যায়। খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও অনাগ্রহী দেখা যাচ্ছে।
কাশিমপুর হাই-সিকিউরিটি কারাগারে রয়েছেন মতিউর রহমান নিজামী। সেখানে তার সময় কাটে টিভি, পত্রিকা পড়ে এবং নামাজ-কালাম আদায় করে। তিনি চট্টগ্রামের ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায়ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হওয়ায় কারাগারে নিজামীর ডিভিশন বাতিল করা হয়েছে। একারণে তাকে সাধারণ বন্দীর জীবনযাপন করতে হয়। মাসে একবার পরিবারের সদস্যদের সাথে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি। কারাগারের দেওয়া সাধারণ খাবারই খান।
কারারক্ষীরা জানান, বিশেষ করে কামারুজ্জামানের মৃত্যু পরোয়ানা জারির পর থেকে নিজামীকে বেশ অমনযোগী দেখা যাচ্ছে।খাওয়া-দাওয়া থেকে শুরু করে নামাজ-কালাম সবই পড়ছেন। তবে ইদানিং হঠাৎ হঠাৎ অমনযোগী হয়ে পড়তে দেখা যাচ্ছে তাকে।বেশির ভাগ সময়ই ধর্মীয় বইপত্র, পত্রপত্রিকা পড়ে সময় কাটাতে দেখা যায়। মাঝে মধ্যে অন্যান্য বন্দীদের সাথে গল্পেও মেতে উঠেন এই জামায়াত নেতা।
কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, কারাগারে নিজামী সাহেব ভালো আছেন। তবে ভাই মৃত্যুর ভয় সবারই আছে। তার সহকর্মীর ফাঁসি হবে এতে কেউ তো খুশি হবে না।নিজামীও তার ব্যতিক্রম নয়।
জানা গেছে, জামায়াতের সহকারি সেক্রটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লার ফাঁসির খবর শোনার পরও তিনি ভেঙ্গে পড়েছিলেন। কারাগারে বসে তাকে অঝোরে কাঁদতে দেখা গেছে। এবার আরেক সহকর্মী কামারুজ্জামানের মৃত্যুর পরোয়ানা জারির খবর এলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নারায়ণগঞ্জ জেলা কারাগারের এক কারারক্ষী বলেন, মুজাহিদ সাহেব এখন আগের মতো কাউকে দ্বীনের দাওয়াত দেন না। সারাক্ষণ কী যেন চিন্তায় নিমগ্ন থাকেন।ফজরের আজানের আগে ঘুম থেকে ওঠেন। ফজরের নামাজ শেষে সবাইকে নিয়ে দোয়া-দুরুদ পড়েন। এরপর সকালের নাস্তা শেষে বই ও সংবাদপত্র পড়ে তিনি দিন কাটান।তবে চিন্তিত থাকলেও মুজাহিদ নিয়মিতই দেশের খোঁজখবর রাখছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের আশা করছেন তিনি।
কারাগারে মুজাহিদ কেমন আছেন জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ কারাগারের জেলার মো. ফোরকান আলী বলেন, কারাগারে মুজাহিদ সাহেব ভালো আছেন। কারাবিধি মোতাবেক সবধরনের সুযোগ-সুবিধা তিনি পাচ্ছেন।