সাম্প্রতিক
আমি নূরে আলম, আমি মেয়র আনিছুর নই’
আমি নূরে আলম, আমি মেয়র আনিছুর নই’

আমি নূরে আলম, আমি মেয়র আনিছুর নই’

আমি নূরে আলম, আমি মেয়র আনিছুর নই’

আমি নূরে আলম, আমি মেয়র আনিছুর নই’

অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র মো. আনিছুর রহমানের জামিন নিতে তার স্থলে নূরে আলম নামে এক আত্মীয় প্রক্সি দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমান খান রাজধানীর কোতোয়ালী ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানাকে এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আদেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত ৮ সেপ্টেম্বর মেয়র আনিছুর ইন্দোনেশিয়া যান। পরদিন গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে তার রূপ ধারণ করে কারাগারে যান আত্মীয় নূরে আলম।

সোমবার ঢাকার বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালতে তিনি তা স্বীকার করেন।

এ সম্পর্কে দুদকের প্রসিকিউটর রুহুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানান, আমরা একটি পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি যে, আসামি আনিছুর রহমানের স্থলে তার এক আত্মীয় আত্মসমর্পণ করে কারাগারে গিয়েছেন। তাই আমরা আজ আদালতে দরখাস্ত দেই। ওই মামলাগুলোর একটি মামলায় সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য থাকায় ওই আসামিকেও আদালতে আনা হয়। ফলে বিচারক তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে তখন তিনি সত্য বলে দেন।

আসামি নূরে আলাম আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘আমার নাম নূরে আলম, পিতা তলিফ উদ্দিন। আমি গাজীপুর জেলার শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান নই। মেয়র আনিছুর রহমানই এই মামলার আসামি। তার স্থলে আমি এই মামলায় গত ৯ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের প্রার্থনা করি। আদালত জামিনের দরখাস্ত নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠান। আমি আনিছুরের রূপ ধারণ করে আত্মসমর্পণ করে ভুল করেছি। আমি ক্ষমা চাই।

এ বিষয়ে মেয়র আনিছুরের আইনজীবী রেজাউল করিম বাবু পরিবর্তন ডটকমকে বলেন,  আমি মেয়র আনিছুরকে কোনো দিন দেখিনি। গতকাল একজন আমার কাছে এসে জানান তিনি শ্রীপুরের মেয়র আনিছুর। আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নেবেন। বড় তদবির আছে। আমি তার পক্ষে ওকালতনামায় সত্যায়ন করি। এ মামলায় সিনিয়র অ্যাডভোকেট সৈয়দ রেজাউর রহমান জামিন শুনানি করেন। আদালত জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠান। আজ শুনছি ওই ব্যক্তি মেয়র আনিছুর ছিলেন না।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর শুনানি শেষে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ মিজানুর রহমান খানের আদালতে আনিছুর রহমান চার মামলায় ও আ. মান্নান দুই মামলায় আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুরের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ২০১০ সালে আসামিদের মধ্যে পরস্পর যোগসাজশে শ্রীপুর পৌরসভার অন্তর্ভুক্ত পাঁচটি হাট-বাজার থেকে ৭ লাখ ৩৫ হাজার ২০০ টাকা আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৪ সালের ১৭ জুলাই দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি করেন। ২০১৫ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর মামলাটি তদন্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ইকবাল হোসেন।

অপর তিন মামলায় অভিযোগে বলা হয়, পৌরসভার রশিদের মাধ্যমে আদায়কৃত ট্যাক্স ও বিবরণীর ৪৩ লাখ ৭৬ হাজার ১০৭ টাকা পৌরসভার তহবিলে জমা না করে আত্মসাৎ করেন। ওই ঘটনায় ২০১৫ সালের ২১ জানুয়ারি দুদকের উপসহকারী পরিচালক ফখরুল ইসলাম মামলাটি করেন। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ২০১৬ সালের ১২ জুলাই চার্জশিট দাখিল করেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না