সাম্প্রতিক

নারায়ণগঞ্জে তরুণীকে ধর্ষণ শেষে খুন, ধর্ষকের বীভৎস হাসি!

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি :: ২২ বছর বয়সী এক অজ্ঞাত তরুণীকে নয়জন মিলে পালাক্রমে গণ ধর্ষণ শেষে হত্যার ঘটনায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে তিন ধর্ষক। এরা তিনজনই নিজেদের দোষ স্বীকার করে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিও দিয়েছে।

সর্বশেষ গ্রেপ্তার দুই ধর্ষক হলো- শুক্কুর আলী ও টিক্কা রাকিব। বুধবার (৩০ জানুয়ারি) বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালত শুক্কুরের ও সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহমেদ হুমায়ূন কবীরের আদালত টিক্কা রাকিবের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়। এসময় গণমাধ্যমাকর্মীরা তাদের স্থিরচিত্র নেয়ার সময় এক ধর্ষক ভয়ানক বীভৎস ভঙ্গিকে হাসতে খাকে।

শুক্কুর (২২) খাগড়াছড়ি জেলার দিঘিনালা থানার ছোট মেরুল ২নং কলোনী ট্রাষ্ট টিলার মোহাম্মদ আলীর ছেলে ও টিক্কা রাকিব (২০) চাঁদপুর জেলার হাইমচর থানার গাজীবাড়ী গ্রামের মোক্তার হোসেনের ছেলে। তারা দীর্ঘদিন ধরে ফতুল্লায় বসবাস করে।

মামলার তদন্তকারী অফিসার ফতুল্লা মডেল থানার পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা বলেন, গ্রেফতারকৃত শুক্কুর আলী ব্যাটারি চালিত অটো রিকশা চালক। জবানবন্দিতে শুক্কুর আলী জানিয়েছে, ধর্ষণ শেষে খুন হওয়া মেয়েটি মানসিক প্রতিবন্ধি ছিলো।

৮ জানুয়ারী রাত সাড়ে ৯টায় শহরের কলেজ রোডে মেয়েটিকে ঘুরতে দেখে ব্যাটারি চালিত অটো রিকশায় উঠিয়ে কাশিপুরের ভোলাইল এলাকায় নিয়ে যায় শুক্কুর। সেখানে নিয়ে মেয়েটির গায়ে হাত দিয়ে দেখে শরীরে প্রচন্ড জ্বর ও মুখ দিয়ে লালা পড়ছে। এ অবস্থায় তারা ৮ জন মাঠে নিয়ে পর্যায়ক্রমে ধর্ষণ শেষে শ্বাসরোধে হত্যা করে।

শুক্কুরের বন্ধু টিক্কা রাকিব জানিয়েছে, সে রাস্তায় দাড়িয়ে ছিল। এসময় শুক্কুর এসে তাকে বলে এখানে একটি মেয়ে দাড়িয়ে ছিল সে কোথায়। তখন টিক্কা রাকিব বলে জুয়েল, অনিক, আবু তালেব, তওফিক, সাগর এবং রাসেল মেয়েটিকে কোলে করে মাঠের দিকে নিয়ে গেছে।

এরপর শুক্কুরের সঙ্গে টিক্কা রাকিবও মাঠে যায়। গিয়ে দেখে ওই ৭জন মিলে পর্যায়ক্রমে মেয়েটিকে ধর্ষণ করছে। পরে শুক্কুরও মেয়েটিকে ধর্ষণ শেষে টিক্কা রাকিবকে ধর্ষণ করতে বলে। ওই সময় মেয়েটি হাত পা এদিক-সেদিক ছুড়ছিল।

টিক্কা রাকিবের দাবী, সে ধর্ষণ করেনি। মেয়েটির এই অবস্থা দেখে জুয়েল বলে একে বাঁচিয়ে রাখলে সমস্যা হবে। এরপর জুয়েলের কথা মত শুক্কুর মেয়েটির গলা টিপে ধরে। সাগর, রাসেল এবং আবু তালেব মেয়েটার হাত ধরে। টিক্কা রাকিব, অনিক এবং তৌহিদ পা চেপে ধরে। তখন শুক্কুর মেয়েটাকে হত্যা করতে ব্যর্থ হলে জুয়েল মেয়েটার বুকে দুইটি ঘুষি মেরে গলা টিপে ধরে মৃত্যু নিশ্চিত করে।

কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক হাবিবুর রহমান জানান, জবানবন্দি গ্রহন শেষে দুই আসামীকে কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।

পরিদর্শক (আইসিপি) গোলাম মোস্তফা জানান, শুক্কুর ও রাকিবকে আটকের আগে মঙ্গলবার বিকেলে কাশিপুর ভোলাইল এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে জুয়েল হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত ৯ জানুয়ারি ফতুল্লার ভোলাইল এলাকায় পরিত্যক্ত জায়গা থেকে ২২ বছর বয়সী এই তরুণীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। যার পরিচয় এখনও পাওয়া যায়নি।