সাম্প্রতিক

জনতার টিভির চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির পরিচয়ে আলমডাঙ্গায় বেকারীতে চাঁদাবাজির অভিযোগ

অনলাইন চ্যানেল জনতার টিভির সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে আলমডাঙ্গায় কয়েকটি বেকারী ফ্যাক্টরীতে চাঁদাবাজি করার অভিযোগ উঠেছে। জনতার টিভির নির্বাহি সম্পাদক সোহেল চৌধুরীর নাম ভাঙ্গিয়ে নিজেকে চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি আরিফ পরিচয় দিয়ে আলমডাঙ্গার বিভিন্ন বেকারীতে এ চাঁদাবাজি করা হয়।
আলমডাঙ্গার মডার্ন বেকারীর মালিক মিলন মিয়া জানিয়েছেন, ১৫ মে এক মোটরসাইকেলে ৩ যুবক বেকারীতে উপস্থিত হন। তারা নিজেদেরকে অনলাইন চ্যানেল জনতার টিভি ও জনতার টিভি পত্রিকার নির্বাহি সম্পাদক সোহেল চৌধুরীর লোক দাবি করেন। ৩ কালো মোটাতাজা যুবকের মধ্যে একজন নিজেকে জনতার টিভির চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি আরিফ দাবি করেন। বাকী দুজন যুবককে কথিত সাংবাদিক আরিফকে স্যার বলে সম্বোধন করছিলেন। তারা বিভিন্ন বেকারীতে হঠাত করে ঢুকে হুটহাট ভিডিও করা শুরু করেন। তারপর অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্নতার অভিযোগ তুলে টাকা দাবি করেন। এভাবে আলমডাঙ্গার ক্যানেলপাড়ার মণি ফুডের মালিক মনিরুজ্জামানের নিকট থেকে ৫০০, শহরের মামুন বেকারীর মালিক টুম্পা খাতুনের নিকট থেকে ৫০০, মোড়ভাঙ্গার সেতু ফুডের মালিক বাচ্চু মিয়ার নিকট থেকে ১৬ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। এরপর ওই চক্রটি যায় মডার্ন বেকারীতে। মডার্ন বেকারীর মালিক তাদেরকে অনিচ্ছা সত্ত্বেও এক প্রকার জোর করে শো-রুমে বসান। চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন সাংবাদিকের নাম বলে তাদেরকে চেনেন কিনা জিজ্ঞেস করে। চুয়াডাঙ্গার প্রবীণ সাংবাদিকদের কেউ তাদের চেনেন কিনা জিজ্ঞাসা করতেই টাকা না নিয়ে দ্রুত সটকে পড়েন। এরপর চক্রটি ফরিদপুরের রকিব ফুডের মালিক মৃনাল হোসেন, আলমডাঙ্গা আনন্দধামের মুসলিম বেকারীতে যান। সেখানেও উপরোক্ত প্রক্রিয়ায় চাঁদা দাবি করলেও তারা কোন টাকা দেয়নি।
এদিকে, সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজী করা চক্রটি বিভিন্ন বেকারীতে জনতার টিভির নির্বাহী সম্পাদক সোহেল চৌধুরীর ভিজিটিং কার্ড দিয়ে এসেছে। ভিজিটিং কার্ডে উল্লেখিত মোবাইলফোন নাম্বারে সোহেল চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে তিনি এখন ঢাকাতে অবস্থান করছেন। চুয়াডাঙ্গাতে আরিফ নামে তাদের কোন প্রতিনিধি নেই। তবে আশিক বিশ্বাস নামে একজন আছে। তাছাড়া আলমডাঙ্গাতে সাকিব নামে একজন প্রতিনিধি আছে। তারা এ চাঁদাবাজ চক্রের সাথে জড়িত কিনা তা একটু পরে জানাচ্ছি বলে মোবাইলফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে রিং দিয়ে বলেন, গতকাল তাদের চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধির নিকট থেকে আরিফ নামের এক যুবক জনতার টিভি সোহেল চৌধুরীর ২টি ভিজিটিং কার্ড চেয়ে নিয়েছিল।
ভূক্তভোগি বেকারী মালিকরা সাংবাদিকের নাম ভাঙ্গিয়ে এ অপচক্রের চাঁদাবাজীর ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন।