সাম্প্রতিক

আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের তেলেসমাতি

ব্যাংক কর্মকর্তার দৃঢ় ভূমিকার কারণে ভেস্তে গেল আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নের ৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পের (২য় সেশন) তেলেসমাতি। ওই ইউনিয়নের চলমান কর্মসৃজন প্রকল্পের ২৬ জন শ্রমিক উপস্থিত হয়ে ১৪৩ জনের বিল তুলতে গেলে ব্যাংক কর্মকর্তার অস্বীকৃতির কারণে ফিরে গেছে। ২৩ মে গোকুলখালী সোনালী ব্যাংকে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর ইউনিয়নে ৪০ দিনের কর্মসৃজনের (২য় সেশন) ৫টি প্রকল্পে ১৪৩ জন দরিদ্র শ্রমিক কাজ করার মাস্টাররোল তৈরি করা হয়েছে। ওই ৫টি প্রকল্পের পিআইসি হলেন – ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, আব্দুল হান্নান, আব্দুল হালিম, মুসলিমা খাতুন ও কারুন বাশার। তাদের অধীনে মোট ১৪৩ জন শ্রমিকের কাজ করছে মর্মে মাস্টাররোল তৈরি করা হয়েছে। সপ্তায় ৫দিন কর্মদিবস। সপ্তা শেষে প্রত্যেক শ্রমিক ৮৫০ টাকা পাবেন। মাস্টাররোল তালিকাভূক্ত শ্রমিকদের স্থানীয় গোকুলখালী সোনালী ব্যাংকে হিসেব খোলা আছে। নিয়মানুযায়ি মাস্টাররোলভূক্ত শ্রমিকদের স্ব-শরীরে উপস্থিত হয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তার নিকট নিজের কার্ড জমা দিয়ে ব্যাংক থেকে পারিশ্রমিক উত্তোলন করবেন। গত সপ্তার বিল প্রদানের নির্ধারিত তারিখ ছিল গতকাল ২৩ মে।
এদিকে, হাতে গোনা কয়েকজন শ্রমিক সোনালী ব্যাংক গোকুলখালী শাখায় উপস্থিত হয়ে ১৪৩ জন শ্রমিকের টাকা উত্তোলন করে নিচ্ছে – এমন সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে কয়েকজন সাংবাদিক গতকাল সংশ্লিষ্ট ব্যাংক শাখায় উপস্থিত হন। তারা ব্যাংক কর্মকর্তার নিকট দাবি জানান যে কার্ডধারী শ্রমিকের চেহারার সাথে কার্ডের ছবি মিলিয়ে টাকা প্রদান করতে। ব্যাংক কুর্তৃপক্ষ নিয়ম মেনে ছবি মিলিয়ে নিশ্চিত হয়ে টাকা প্রদানে নীতিগত সিদ্ধান্ত নেন। প্রায় ৬০/৬৫ জন শ্রমিক ব্যাকে উপস্থিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্মকর্তা তাদের চেহারার সাথে মাত্র ২৬ জনের কার্ডের ছবির মিল পান। সে সময় খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ইউপি সদস্য আবুল হোসেন, আব্দুল হান্নান ও নার্গিস খাতুন। তারা সিদ্ধান্ত নেন ওই দিন বিল উত্তোলন না করার। অন্য আরেকদিন প্রকৃত সকল শ্রমিক উপস্থিত করেই টাকা উত্তোলন করবেন জানিয়ে ব্যাংক অফিস ত্যাগ করেন।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শীবপুর গ্রামের রানু নামের এক মহিলার কাছে রহমান, মতিয়ার রহমান ও রকিবুল এই ৩ জনের কার্ড পাওয়া যায়। তার নিকট অতিরিক্ত ৩ জনের কার্ড কেন জিজ্ঞেস করলে রানু জানান যে মেম্বর তাকে দিয়েছেন। জিজ্ঞাসাবাদকালে বিধবা ওই মহিলা আরও বলেন, ৩ শ টাকার বিনিময়ে তিনি ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করে দতে এসেছেন।
বিল উত্তোলন করতে আসা পাঁচকমলাপুর গ্রামের হাতেম আলী কোন প্রকল্পে কাজ করছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, তিনি কাজ করেন না, সরকার তাদের টাকা দিচ্ছেন তাই টাকা নিবেন। আরিফ হোসেন বলেন, তিনি ব্রীজে কাজ করছেন। কীসের টাকা তুলতে এসেছেন জিজ্ঞেস করলে একই গ্রামের শুকুর আলী বলেন, তা তিনি বলতে পারবেন না। তাদের মেম্বর আব্দুল হান্নান গোকুলখালী বাজার থেকে ডেকে এই চেক দিয়ে বলেছেন যে ব্যাংকে গেলে টাকা দেবে।
গোকুলখালী সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা সহিদুর রহমান জানান, আগত শ্রমিকদের ভেতর ছবির সাথে ২৬ জনের মিল পরিলক্ষিত হয়। পরে সকলে উপস্থিত হয়ে বিল উত্তোলন করবেন জানিয়ে তারা চলে যান।
গোকুলখালী সোনালী ব্যাংকের ম্যানেজার আব্দুল হান্নান বলেন, নিয়মভির্ভূত একজনেরও টাকা উত্তোলন করতে সুযোগ দেবে না ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের পিআইসি, ট্যাগ অফিসার ও উপসহকারি প্রকৌশলীর (প্রকল্প) স্বাক্ষরের পর মাস্টাররোলে পিআইও স্বাক্ষর করেন। তাছাড়া তিনি স্বাক্ষরের পূর্বে যাচাই করে যে শ্রমিকগুলি অনুপস্থিতির তথ্য পেয়েছেন, তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।