সাম্প্রতিক

চেরিতে রঙিন নিউইয়র্ক

শীতের শেষে উষ্ণ আবহাওয়া মানেই আমেরিকায় বসন্তের শুরু। আর এ সময় দেখা যায়, পত্রপল্লবহীন বিমর্ষ ন্যাড়া-গাছগুলো প্রাণ পেতে শুরু করে। গাছের ডালে ডালে ফোটে নানান রঙের ফুল। কিছু ডালে কলিরা ফোটার অপেক্ষায় পাপড়ি মেলতে থাকে। এ সময়ে হালকা গোলাপি আভায় নিথর কাঠে ফুটে ওঠা সহস্র ফুলের বাহারে মন মাতানো যে ফুল দৃষ্টি কাড়ে, তা হচ্ছে চেরি ফুল। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, শুভ্র মেঘ  বুঝি তার রং পাল্টে গোলাপি বর্ণ ধারণ করেছে। চেরি ফুলের ঋতু খুব সংক্ষিপ্ত হয়ে থাকে, দুই সপ্তাহ।

চেরি ফুলের উৎসবের ইতিহাস এক শ বছরের পুরোনো। ১৯১২ সালের ২৭ মার্চ দু দেশের বন্ধুত্বের সম্পর্ক আরও জোরদার করতে ওয়াশিংটনের মেয়রকে চেরি গাছ উপহার দিয়েছিলেন জাপানের রাজধানী টোকিওর মেয়র। তাই ওয়াশিংটন ডিসি জুড়ে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য চেরি গাছ। বসন্তে সেখানে ফোটে হাজার হাজার চেরি ফুল।

এপ্রিল মাস। ওয়াশিংটন ডিসিতে চলছে চেরি উৎসব বা চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল। বসন্ত ঋতুর আগমন বার্তা জানাতে ওয়াশিংটন শহরে ৩ হাজার চেরি গাছ নিয়ে হয় চেরি উৎসব। ২২ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত চলে এখানে চেরি ব্লসম ফেস্টিভ্যাল। এ সময় অগণিত পর্যটক এই উৎসব দেখতে ওয়াশিং ডিসিতে আসে। বছরের অন্য সময়ে এখানে ফুড কোর্টের অনুমোদন না থাকলেও চেরি ব্লসমের সময়ে রাস্তার পাশে ফুড কোর্ট দেখা যায়। 
যে কেউ অনলাইন চেরি ম্যাপ অ্যাপসটি ব্যবহার করে জেনে নিতে পারেন ব্রোকলিং বোটানিকাল গার্ডেনের কর্মসূচি। নিউইয়র্ক বোটানিকাল গার্ডেনের কর্মসূচি ট্র্যাক করতে ব্যবহার করতে পারেন nybg.org ওয়েবসাইট। 
আমেরিকার বেশ কয়েক স্থানে হয় চেরি ব্লসম উৎসব। 
রিভারসাইড পার্ক চেরি ওয়াক
১০০তম স্ট্রিট থেকে ১২৫তম স্ট্রিটে রিভারসাইড পার্কের চেরি ওয়াক উৎসব বেশ উপভোগ করার মতো। নিউইয়র্কের জাপানি অভিবাসীদের কমিটি ১৯০৯ সালে শহরটিতে উপহার হিসেবে ২ হাজার চেরি গাছ সরবরাহ করেছিল এবং প্রায় ৭০০টি চেরি গাছ এখানে রোপণ করা হয়েছিল। আসল রোপণের কিছু বেঁচে থাকা গাছ ওয়াশিংটন ডিসিতে লাগানো হয়। 
ক্যাডমান প্লাজা পার্ক
ব্রুকলিন হাইটস ক্যাডম্যান প্লাজা পার্কটি অস্থায়ী ব্যবসার জন্য বেশ দারুন। এখানে ব্রুকলিনাইটদের স্মরাণার্থে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভের কাছে চেরি গাছ রয়েছে। বসন্তে দৃষ্টিনন্দন চেরি ব্লসম দেখা যায়। 
ফ্লাশিং ম্যাডোস করোনা পার্ক
কুইন্সের সাবেক ‘ওয়ার্ল্ড ফেয়ার’ এলাকার দিকে মুখ করে থাকা চেরি গাছগুলো বেশ উপভোগ্য। প্রতি বছর ২০ এপ্রিল এখানে সাকুরা মাতসুরি উৎসব উদ্‌যাপিত হয়। এই উৎসব দেখতে অনেক পর্যটক এখানে ভিড় করেন। 
দ্য ব্রোকলিং বোটানিক্যাল গার্ডেন
৯৯০ ওয়াশিংটন অ্যাভিনিউয়ে অবস্থিত বোটানিক্যাল গার্ডেনে ২০০টির বেশি চেরি গাছ রয়েছে। এর মধ্যে ২৬ প্রজাতির ফুল রয়েছে যা চেরি ওয়াক ও জাপানি হিল-ও-পন্ড গার্ডেনজুড়ে বিস্তৃত। প্রতি বছর উদ্যানের পক্ষ থেকে চেরি ব্লসম নিয়ে একটি বার্ষিক সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন করা হয়। সাকুরা মাতসুরি উৎসব পালিত হয় ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। এবারও যথারীতি উৎসব হবে। এটি দেখতে অগ্রিম টিকিট কাটতে হবে।
প্রসপেক্ট পার্ক
৫৮৫ একর এলাকাজুড়ে অবস্থিত রুকলিনের সর্ববৃহৎ পাবলিক পার্ক হচ্ছে প্রসপেক্ট পার্ক। এখনে মৌসুমি চেরি ব্লসম দেখতে একটি উষ্ণ দিন বেছে নেওয়া যায়। মনোরম একটি চেরি ব্লসম দৃশ্য এখানে দেখতে পাওয়া যায়। 
নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেন ইন দ্য ব্রঙ্কস
নিউইয়র্ক বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ২৯০০ সাউদার্ন বুলেবার্ডে অবস্থিত। ব্রঙ্কসের মধ্যে চেরি ব্লসম উপভোগ করতে এই স্থানটির তুলনা নেই। এই উদ্যানের কাছাকাছি বিভিন্ন জায়গায় দেখা যায় প্রায় দুই শ ফুটন্ত চেরি গাছ।
রুজভেল্ট আইল্যান্ড
এখানে কেবল সারি বাঁধা ইস্ট রিভার লাইনের চেরি গাছের সৌন্দর্যই দেখা যায় না, বরং এখান থেকে ম্যানহাটনের দৃষ্টিনন্দিত দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ১৩ এপ্রিল বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত এখানে চেরি ব্লসম উৎসব হবে। সঙ্গে যোগ করা হবে চা পর্ব অনুষ্ঠান, পিকনিক, সংগীত, নাচ এবং মার্শাল আর্ট পারফরম্যান্স ও জাপানি সাংস্কৃতিক মেলা।
এ ছাড়া ব্রুকলিনের জাতীয় ঐতিহাসিক স্থান গ্রিনউড হাইটসের ব্যাটল অ্যাভিনিউতে চলছে উৎসব। প্রধান ফটক টুয়েন্টি ফাইভ স্ট্রিট ও ফিফথ অ্যাভিনিউ। ৪৩-৫০ মেইনস্ট্রিটে অবস্থিত কুইন্স বোটানিক্যাল গার্ডেনটি ঘুরে আসতে পারেন। বসন্তে এখানকা চেরি সার্কেলটি দেখার মতো। এ ছাড়া র‌্যানডল্‌স আইল্যান্ড, দ্য ইউনাইটেড ন্যাশনস হেডকোয়ার্টার ইন মিডটাউন ও সেন্ট্রাল পার্কে রয়েছে চেরি ব্লসম নিয়ে নানা রকমের উৎসব ও অনুষ্ঠান। 
বসন্তের শুরুতে আমেরিকা-জাপান মৈত্রীর প্রতীক শতবর্ষী চেরি বৃক্ষের সবুজ কুঁড়িগুলো একটু একটু করে ফুটতে শুরু করেছে। জাপানের মাটিতে জন্মানো এই গাছগুলোর প্রকৃত নাম প্রনাস সেরুলতা। যখন ফুল ফোটে তখন জাপানি ভাষায় গাছ ও ফুলকে বলা হয় সাকুরা। বসন্তের শুরুতে চেরির এই প্রস্ফুটন পাল্টে দেয় আমেরিকান রাজধানীসহ অনন্য শহরের দৃশ্যপট। প্রকৃতি বিলাসীরা তাদের অবকাশের সময় হিসেবে এই সময়টাকে বেছে নেয়।