সাম্প্রতিক

আধুনিক মালয়েশিয়া যেমন দেখেছি

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম অধ্যুষিত সবুজ আর পাহাড়ে ঘেরা একটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দেশ, যার নাম মালয়েশিয়া। একটি বহুজাতিক ও বহু ধর্মের অনুসারী শান্তিপ্রিয় জাতি। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে একটি উন্নত ও ধনী দেশ। সিঙ্গাপুর ও ব্রুনাইয়ের পরই তৃতীয় স্থানে এর অবস্থান। যার মাথাপিছু আয় বর্তমানে মার্কিন ১০ হাজার ডলারের বেশি। অনেক দেশই মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে উন্নত হলেও কিন্তু জনগণের ব্যক্তি জীবনে প্রকৃত আয় ও জীবনযাত্রার মান তেমন ভালো নয়। কিন্তু মালয়েশিয়া তার কিছুটা ব্যতিক্রম। ধনী-দরিদ্রের মধ্যে আয়ের বিরাট পার্থক্য থাকলেও মোটামুটি সব নাগরিকই সচ্ছল। বলতে গেলে বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর মতো সবারই বাড়ি-গাড়ি ও প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র আছে। সবাই চিকিৎসাসেবা ও শিক্ষার সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে।

বিশেষ কারণে দ্বিতীয়বারের মতো আমাকে মালয়েশিয়া যেতে হলো। এবার আমি লেখার উদ্দেশ্যে কিছু কিছু ব্যবস্থা ও স্থান পর্যবেক্ষণ করার চেষ্টা করেছি। যদিও লন্ডনের ফ্রিজিং ঠাণ্ডা থেকে যাওয়ার কারণে অসম্ভব গরম অনুভব করছিলাম, যে কারণে ইচ্ছামতো ঘোরাফেরা করতে পারিনি। যতটুকু পর্যবেক্ষণ করতে পেরেছি তা সংক্ষেপে পাঠকদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরলাম।

ভৌগোলিক অবস্থান ও জনসংখ্যা : আয়তন হচ্ছে ৩৩০৮০৩ বর্গকিলোমিটার। উত্তরের বর্ডারে থাইল্যান্ড ও দক্ষিণে সিঙ্গাপুর অবস্থিত। ২০১৩ সালের জরিপের হিসাব অনুযায়ী, মালয়েশিয়ার জনসংখ্যার ৬০ শতাংশ তথা দুই কোটি মুসলিম যাদেরকে ভূমিপুত্র বলা হয়। কারণ, তারাই এই ভূমির আদিবাসী। ৩০ শতাংশ তথা এক কোটি চাইনিজ ও ১০ শতাংশ অর্থাৎ ৩৩ লাখ ইন্ডিয়ান তথা হিন্দু, শিখ ও অন্যান্য ধর্মাবলম্বী যাদের ব্রিটিশ চীন থেকে আমদানি করে এনেছে।

ইতিহাস : মালয়েশিয়ার ইতিহাস খ্রিষ্টপূর্ব প্রায় ছয় হাজার বছরের পুরনো। ইসলামের আগে বিভিন্ন জাতি ও ধর্মাবলম্বী ছিল। ৬৭৪ খ্রিষ্টাব্দে আরব মুসলিম ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে। ইসলামের দাওয়াত পৌঁছার আগে বিভিন্ন জাতিভেদ প্রথা ছিল। বিভিন্ন শ্রেণিভেদ ছিল। আজকের ভারতের মতো হিন্দুদের উঁচু-নীচু প্রথা অত্যন্ত প্রকট ছিল। আরবের মুসলিম বণিকেরা যখন ব্যবসার জন্য মালয়েশিয়ায় গেলেন, তখন চিরাচরিত নিয়মে জীবিকার জন্য ব্যবসা-বাণিজ্যের সাথে ধর্মীয় কর্তব্য হিসেবে ইসলামের দাওয়াত দেয়া শুরু করলেন। মুসলিমদের সাম্য, ন্যায়নীতি, ভ্রাতৃত্ব ভাব ও চারিত্রিক মাধুর্য দেখে লোকেরা মুগ্ধ হয়ে দলে দলে ইসলাম কবুল করতে শুরু করলেন। ধীরে ধীরে মালয়েশিয়ার শাসকদের কাছেও ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে। তখনকার শাসক ইসলাম গ্রহণ করার কারণে এ ভূখণ্ডের প্রায় সবাই ইসলাম গ্রহণ করেন। ইসলাম যে তলোয়ারের জোরে প্রসারিত হয়নি, এটাই তার জীবন্ত প্রমাণ।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা : আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় মালয়েশিয়ার অধ্যাপক ড. এস এম আবদুল কুদ্দুস খুব সুন্দরভাবে তিনটি কথায় মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা তুলে ধরেছেন। রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আদি সংখ্যগরিষ্ঠ মালয়ী মুসলিমরা। অর্থনীতি নিয়ন্ত্রণ করে নবাগত এক-তৃতীয়াংশ চাইনিজ কমিউনিটি। আর সেবা খাত অর্থাৎ রেস্টুরেন্ট হোটেল ও অন্যান্য সেবা খাত নিয়ন্ত্রণ করে ভারত থেকে আসা অধিবাসীরা।

১৯২৪ সালে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তখনকার দিনের ডাচ দখলদারদের সাথে এক চুক্তির মাধ্যমে মালয়েশিয়ার দখল নিয়ে নেয়। মালয়েশিয়া ১৯৫৭ সালের ৩১ আগস্ট ব্রিটিশের কাছ থেকে স্বাধীনতা লাভ করে।

ড. কুদ্দুস সাহেবের তথ্য অনুযায়ী, মালয়েশিয়ায় প্রত্যেক ধর্মাবলম্বী অন্য ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে যোগদান করে। যে কারণে সবার মধ্যে সহাবস্থান ও শান্তিতে বসবাসের একটি পরিবেশ সৃষ্টি হয়ে আছে। 
রাজনীতিতে ভূমিপুত্র মালয়ী আদিবাসিন্দা মুসলিমরা সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রেখেছে। ভোটে তারাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। অতএব, রাজনীতি তাদের হাতে থাকাই স্বাভাবিক।

মাহাথির মোহাম্মদের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশে অর্থনৈতিক বিপ্লব ঘটে। সারা বিশ্বকে তাক লাগিয়ে মাত্র ২০ বছরের মধ্যে গরিব দেশ থেকে উন্নয়নশীল ও উন্নত দেশের দিকে বিদ্যুৎ গতিতে অগ্রসর হয় মালয়েশিয়া।

উন্নয়ন : স্বাধীনতা পাওয়ার পর আমনো (টগঘঙ) পার্টি দেশ পরিচালনা করে আসছে। অ্যাগ্রিকালচার বা কৃষিনির্ভরশীল দেশ। কোনোভাবে দেশ চলছিল। ১৯৮১ সালে ডা: মাহাথির মোহাম্মদ যখন প্রধানমন্ত্রী হলেন, তখনই দেশের অর্থনীতির চাকা দ্রুত অগ্রসর ও উন্নতির দিকে রকেট গতিতে চলতে থাকে। তার কথা ছিল পশ্চিম নয়, পূর্বই আমাদের আদর্শ। অর্থাৎ জাপান ও চায়নাকে অনুসরণ করা শুরু করলেন। কৃষিনির্ভরতা থেকে শিল্পায়নে জোর দিলেন। বিশ্বের বড় বড় কোম্পানিকে সুযোগ-সুবিধা দিয়ে দেশে ইনভেস্ট করার আহ্বান জানালেন। কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করার সাথে সাথে দেশীয় শ্রমিকের অভাব দেখা দিলো আর বিদেশ থেকে বিশেষ করে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়া থেকে লাখ লাখ সস্তা শ্রমিক আমদানি করে কলকারখানা চালু রাখলেন, যেভাবে এক সময় ব্রিটেন ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও আফ্রিকা মহাদেশ থেকে লাখ লাখ শ্রমিক এনে কলকারখানা প্রতিষ্ঠা করে উৎপাদন করে বিশ্ব মার্কেট দখল করে নেয়।

শিক্ষা খাতেও প্রচুর ইনভেস্ট করলেন তিনি। ’৭০-এর দশকে একসাথে দেশের প্রায় দেড় লাখ ছাত্রছাত্রীকে লন্ডনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে সরকারি খরচে উন্নত শিক্ষার জন্য পাঠিয়ে দিলেন, যার বেশির ভাগই ছিল মালয়ী মুসলিম। ডিগ্রি শেষ করে প্রত্যেক ছাত্রছাত্রী নিজ দেশে গিয়ে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও শিক্ষকতা এবং অফিস-আদালতে ও বিভিন্ন সেক্টরে কাজে মনোনিবেশ করলেন। অথচ অনেক মেধাবী ছাত্রছাত্রীকে ব্রিটিশ সরকার সে দেশে থাকার ও সিটিজেনশিপ দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। কিন্তু আমার জানা মতে, একজন ছাত্রছাত্রীও সে প্রস্তাব গ্রহণ না করে, নিজ দেশে গিয়ে উন্নয়নে শরিক হন।

’৭০ ও ’৮০-এর দশকে উন্নয়নের সিম্বল ছিল টুইন টাওয়ার বানানো। মালয়েশিয়াও তাই পেট্রোনাস নামে আমেরিকান ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারের নমুনায় টুইন টাওয়ার ও শপিং সেন্টার বানিয়ে সারা দুনিয়াকে জানান দিলো যে, তারাও উন্নত দেশের সমপার্যায়ে পৌঁছার পথে। নুতন এয়ারপোর্ট তৈরি করা হলো, যা তখনকার দিনে ১০০ বছর সামনে রেখে করা হয়েছিল। সারা দেশে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছিল।

নিরাপত্তা : মালয়েশিয়া একটি নিরাপদ দেশ। তুলনামূলকভাবে কুয়ালালামপুরের নিরাপত্তা খুবই জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া মালয়েশিয়ার অধিবাসীরা একটি শান্তিপ্রিয় জাতি। কিন্তু স্থানীয় লোকজন থেকে জানা গেল বাইরের লোকদের মধ্যে কিছু অপরাধ হচ্ছে। বিভিন্ন দেশের লোকদের সাথে কিছু বাংলাদেশীও নাকি জড়িত। আর এই অপরাধগুলো নিজেদের মধ্যে বেশি হচ্ছে। অর্থাৎ স্থানীয়দের সাথে সহজে অপরাধ করার এখনো সাহস করে না। তবুও সব সময় খোঁজখবর নিয়ে চলাফেরা করা উচিত। বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করার আগে পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা থেকে খোঁজখবর নেয়াই ভালো।

সংস্কৃতি ও পরিবেশ : যেহেতু একটি বহুজাতিক দেশ, তাই তাদের খাওয়া-দাওয়া, চাল-চলন ও পোশাক-আশাকে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের মধ্যে অসম্ভব সহনশীলতা দেখা যায়। কারণ, চাইনিজ কমিউনিটি যে পোশাক পরে রাস্তাঘাটে ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যায়, তা পশ্চিমা দেশগুলোতেও আজকাল সাধারণত দেখা যায় না। অথচ মুসলিম ছেলেমেয়েরা তাদের ধর্মীয় ও শালীন পোশাক পরেই সব খানে চলছে। অনেক মুসলিম মেয়ে শালীন পোশাক ও মাথায় স্কার্ফ পরেই হোটেল-রেস্টুরেন্ট, দোকান ও অফিস-আদালতে কাজকর্ম করছেন। অন্য দিকে চাইনিজ মেয়েরা মিনি প্যান্ট পরে রাস্তাঘাটে স্বাধীনভাবে চলাফেরা করছেন।

যাতায়াত, থাকা ও খাওয়া-দাওয়া : ট্রেন, বাস ও অনেক ট্যাক্সি আছে। বিভিন্ন জায়গায় যেতে লোকেরা অহরহ ট্যাক্সি ব্যাবহার করেন। এয়ারপোর্টে, রাস্তাঘাটে, হোটেলের সামনে ট্যাক্সি অপেক্ষারত অবস্থায় পাওয়া যায়। অথবা প্রায় সবাই অ্যাপস ব্যবহার করে ডাকার কয়েক মিনিটের মধ্যেই হাজির হয়ে যায়। ডাকার সাথে সাথে মোবাইলে আপনার জন্য যে কার আসবে তার নাম্বার পেয়ে যাবেন। আপনার নামও সম্ভবত চলে যাবে। অতএব, কোনো অসুবিধা হয় না। ভাড়া আয় অনুপাতে সহনশীল। এয়ারপোর্ট থেকে আগে থেকে জানা না থাকলে কয়েক গুণ বেশি দাবি করে। অতএব, সম্ভব হলে আগে থেকে হোটেল বা পরিচিত লোকজনের কাছে জেনে নিলে বেশি দিতে হবে না। এয়ারপোর্টের ভেতরেই ট্যাক্সি অফিস আছে। তবে কোনো কোনো অফিস দুই-তিন গুণ বেশি চায়। একবার ফিক্সড হয়ে গেলে তার বেশি নিতে পারবে না। কারণ এয়ারপোর্ট থেকে অগ্রিম ভাড়া দিয়ে রিসিট নিয়ে নেবেন। লোকাল ট্যাক্সি মিটারে চলে, তাই ধোঁকা বা অতিরিক্ত চার্জ করার সুযোগ নেই। রাজধানী থেকে অন্য শহরে যেতে দ্রুতগামী ট্রেন আছে।

পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার : এটি মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নতির একটি নিদর্শন। মালয়েশিয়া গেলেই ১ নম্বর দর্শনীয় স্থান। ৮৮ ফ্লোর ও গ্রাউন্ডে আরো পাঁচ ফ্লোর সর্বমোট ৯৩ ফ্লোর, যা ১৯৯৮ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর সর্বোচ্চ উঁচু বিল্ডিং ছিল। এই টুইন টাওয়ারের উচ্চতা ১৪৮৩ ফুট। শুধু টুইন টাওয়ার নয়, মাঝখানে পানির ফাউন্টেইন আরো অনেক সুউচ্চ বিল্ডিং। গ্রাউন্ড ফ্লোরে বিশাল শপিং এরিয়া। প্রথম ফ্লোরে এবং ওপরে প্রায় সব রকমের জিনিস ও খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্থা আছে। রাতে লাইট, পানির ফোয়ারা ও সঙ্গীতের মূর্ছনায় সেই এক অদ্ভুত অনুভূতি পাবেন। দুইন টাওয়ার সংযুক্তকারী স্কাই ব্রিজে ওঠার সুযোগ আছে, যেখানে ওঠার পর কুয়ালালামপুর শহর এক নজরে দেখা যায়।

জামেক মস্ক (জামে মাসজিদ) : এ মসজিদটি ১৯০০ সালের দিকে তৈরি করা হয়েছে। মালয়েশিয়ার মধ্যে এটি একটি পুরনো মসজিদ। অসংখ্য লোকজন এ মসজিদটি পরিদর্শন করে। কারণ এটি মুরিস স্টাইলের আর্কিটেকচারাল কারুকার্য খচিত এবং ক্লাংগ ও গোম্বেক নদীর সংযোগ স্থানে অবস্থিত। ভ্রমণকারীরা শালীন ও উপযুক্ত পোশাক পরে পরিদর্শন করতে পারেন। এখানকার পানির দৃশ্য খুবই মনোরম ও মনোম্গ্ধুকর। এ ছাড়াও কোনো এক সময় এই মসজিদ কুয়ালালামপুরের প্রধান নামাজের স্থান হিসেবে গণ্য করা হতো এবং অনেক প্রসিদ্ধ ধর্মপ্রচারক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ এ মসজিদে নামাজ পড়তেন ও ওয়াজ-নসিহত করতেন।

জাতীয় মসজিদ : মসজিদটি মালয়েশিয়ার জাতীয় মসজিদ; ১৯৬০ সালের দিকে তৈরি। অনেক বড় আকৃতির। যেখানে একই সাথে ১৫ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। এই মসজিদে ইসলামিক আর্কিটেকচার অনুসরণ করা হয়েছে। এ মসজিদের ছাদ ১৬ তারকাবিশিষ্ট পয়েন্টে বানানো হয়েছে। মসজিদের ভেতরে পানির ফোয়ারা পুলের প্রতিচ্ছবি করা হয়েছে। এ মসজিদ শালীন ও উপযুক্ত পোশাক পরে, যা কর্তৃপক্ষ বিতরণ করে থাকে ভিজিট করা যায়।

সানওয়ে লেগুন থিম পার্ক : এ পার্কটি সিটি সেন্টার থেকে একটু দূরে পেটালিং জায়া শহরতলিতে তৈরি করা হয়েছে। এই সানওয়ে লেগুন থিম পার্ক ১৯৯৭ সালে শুরু করার পর থেকে পরিবারের সব সদস্যকে নানা প্রকার আনন্দ দিয়ে আসছে। এখানে নানা প্রকার আনন্দ উৎসবের সাথে সাথে একটি সেøাগান সবার মুখে মুখে, ‘আসুন আনন্দ উৎসব অনুভব করুন’। এখানে দর্শনার্থীদের জন্য শুধু থিম পার্ক নয়, বরং পাশেই রয়েছে ওয়াটার পার্ক, জীবজন্তু, এক্সট্রিম পার্ক, বিভিন্ন রাইড ও নানা খেলাধুলার আয়োজন। এখানে আরো রয়েছে একটি চিড়িয়াখানা, রেস্টুরেন্ট ও শপিং সেন্টার এবং বিভিন্ন স্মৃতিচিহ্নও কেনা যায়।

শ্রী মাহামারিয়াম্মান মন্দির : ১৯ শতকে তৈরি কুয়ালালামপুরের অত্যন্ত প্রসিদ্ধ হিন্দুমন্দির। এই মন্দির খুব সুন্দর। এখানে বিভিন্ন দেবতা ও অন্য ধর্মগুরুদের ছবি দেখা যায়।

থিন হও বুদ্ধিস্ট মন্দির : থিন হও কুয়ালালামপুরের একটি বিখ্যাত বৌদ্ধমন্দির। কনফিউসিয়ান, থাও ও বুদ্ধিস্ট ডেকোরেটিভ জিনিসগুলো ভেতরে শোভা পাচ্ছে। লাল পিলারগুলো বুদ্ধিস্ট প্রথামতো সব দর্শনার্থীকে অভ্যর্থনা জানায়। লাল ও সোনালি মিশ্রিত রঙের আকর্ষণীয় ছাদ দেখার মতো।