সাম্প্রতিক

নির্বাচন সুষ্ঠু করাই বড় চ্যালেঞ্জ সরকারের

তানিম আহমেদ

এবারই প্রথম দলীয় প্রতীকে হচ্ছে পৌরসভার নির্বাচন। আর তাই এ নির্বাচনকে গুরুত্বের সাথে দেখছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এরই মধ্যে প্রার্থী বাছাইয়ে গঠন করা হয়েছে স্থানীয় সরকার/পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ড। যার নেতৃত্বে আছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এবারের পৌরসভা নির্বাচনে সরকারের জন্য দুটি চ্যালেঞ্জ আছে। যার একটি হল নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠ করা। অন্যদিকে দলীয় প্রার্থীর জয়।

প্রথম দুই দফার পর উপজেলা নির্বাচন এবং ঢাকা ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ সরকারকে সমালোচনায় ফেলেছে। পৌরসভা নির্বাচনকে প্রভাবিত করার কোন চেষ্টা হলে সেটা ক্ষমতাসীন দলের জন্য সুখকর হবে না-বলছেন নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা।

তারা বলেন, আওয়ামী লীগ টানা দুই দফায় ক্ষমতায়। তাই এ নির্বাচনে একক প্রার্থী নির্ধারণ করতে দলটিকে হিমশিম খেতে হবে। আবার একক প্রার্থী নির্ধারণ হলেও বিদ্রোহী প্রার্থীরা সমস্যায় ফেলতে পারে তাদেরকে।

জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের সম্পাদক বদিঊল আলম মজুমদার বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে পৌর নির্বাচনে সরকার দলকে দলের মধ্যেই সমস্যা মোকাবেলা করতে হতে পারে। আওয়ামী লীগের তৃণমূলের কোন্দল প্রকাশ্য হয়ে যাবে। প্রার্থীতা নিয়ে দলটির নেতাকর্মীরা সহিংসতায় লিপ্ত হতে পারে’।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, আমরা চাই সব দল অংশগ্রহণ করুক। একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করাই আমাদের চ্যালেঞ্জ। এক প্রশ্নের জবাবে হানিফ বলেন, ‘সৎ ও যোগ্য প্রার্থী হবে এটাই আমাদের মূল লক্ষ্য’।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মনোনয়ন বোর্ড

প্রার্থী বাচাইয়ে বৃহস্পতিবার আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী বৈঠকে শেখ হাসিনাকে সভাপতি করে গঠন করা হয় মনোনয়ন বোর্ড। এছাড়াও বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সমম্পাদক এবং স্থানীয় সংসদ সদস্য একজন প্রার্থীকে সমর্থন করবেন। তাদের সুপারিশ করা প্রার্থী বা একাধিক যোগ্য প্রার্থীর জীবন বৃত্তান্ত আওয়ামী লীগের বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের দপ্তরে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে জমা দিতে হবে। এই তালিকা সাংগঠনিক সম্পাদকরা স্থানীয় সরকার/পৌর মেয়র মনোনয়ন বোর্ডে জমা দেবেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ড বাচাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে নির্বাচন কমিশনের কাছে চিঠি দেবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচন জোটগতভাবে করলেও পৌরসভায় শরিক দলগুলোকে কোন ছাড় দিতে নারাজ আওয়ামী লীগ। এককভাবে পৌর নির্বাচনে লড়াই করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে দলের পক্ষ থেকে।

দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হবে বলে তৃণমূলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা এবার তুলনামূলকভাবে বেশি। এই নির্বাচনী প্রতীকের প্রতি দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আবেগ অন্য রকম। তাই ‘নৌকা প্রতীকের’ প্রার্থীতা নিশ্চিত করতে কর্মী-সমর্থকরা এরই মধ্যে আগাম প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। আর নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে দলের মনোনয়ন ও কর্মীদের সমর্থন পেতে নেতারা ধর্ণা দিতে শুরু করেছেন কেন্দ্রীয়, জেলা, উপজেলা নেতা ও স্থানীয় সংসদ সদস্যদের কাছে।

সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের রাজনৈতিক অবদান, দল বা স্থানীয় সরকারে অতীতে কোন পদে থাকলে কী কী করেছেন অথবা কত ভোটের ব্যবধানে গত নির্বাচনে হেরেছেনÑ এসব বিষয়ে জানাচ্ছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের।

পৌর নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিচ্ছে ধরে নিয়েই আগাচ্ছে ক্ষমতাসীন দল। এই নির্বাচনে জয়-পরাজয় দেশ পরিচালনায় শাসনক্ষমতায় কোন প্রকাশ্য বদল আনবে না। তবে যেহেতু প্রায় সব জেলাতেই ভোট হবে, সেহেতু দলের জনপ্রিয়তা যাচাই এবং বিরোধী দলের প্রতি মানুষের মনোভাব জানার একটি সুযোগ তৈরি হয়েছে। এ জন্য স্থানীয় পর্যায়ে নেতাদের নিজেদের মধ্যে দ্বন্দ্ব-বিরোধ ভুলে একাট্টা হয়ে ভোটের লড়াইয়ে নামার নির্দেশ দেয়া হয়েছে কেন্দ্র থেকে।

উপজেলা নির্বাচনে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা অন্তত ৫০টি নির্বাচনী এলাকায় আওয়ামী লীগ সমর্থিতদের পরাজয়ের কারণ হয়েছেন। এবার যেন এমনকি কোনবাবেই না হয়, সে জন্য সতর্ক দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, ‘আমরা টানা দুই দফা ক্ষমতায়। তাই একটি পৌরসভায় একাধিক প্রার্থী থাকতেই পারে। তবে এবার যেহেতু দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হচ্ছে তাই কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে তাতে প্রভাব পড়বে না। অন্যদিকে বিদ্রোহী প্রার্থী দমনে আমরা এবার কঠোর অবস্থানে থাকবো। দলীয় শৃঙ্খলার ভঙ্গের বিষয়ে কোন ছাড় দেয়া হবে না’।

জানতে চাইলে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন বলেন, আওয়ামী লীগ অনেক বড় দল। তাই একটি পৌরসভায় একাধিক যোগ্য প্রার্থী থাকাটাই স্বাভাবিক। এক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে কিছুটা জটিলতাও তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত প্রার্থী বাচাইয়ের পর এ সমস্যা আর থাকবে না।

নিয়মানুযায়ী থানা নির্বাচনী অফিসগুলোতে স্থানীয়ভাবে চিঠি দিয়ে দল মনোনীত প্রার্থীর নাম জানাতে হবে। সে ক্ষেত্রে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিনে থানার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক চিঠি দিয়ে পৌরসভা ও ইউনিয়নে দলের মনোনীত প্রার্থীর নাম নির্বাচন কমিশনকে জানাবেন।

x

Check Also

আশা জাগালেন জেলা প্রশাসক

রহমান মুকুলঃ মানব সভ্যতার উত্তরাধুনিক যুগে এসেও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আমাদের অস্তিত্বের নিয়ামক হিসেবে ...