সাম্প্রতিক

ভালো বাসতে বাসতে ফতুর করে দেবার দিন আজ

সাম্প্রতিকী ডেস্কঃ আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘ভ্যালেন্টাইনস ডে’। তরুণ-তরুণীদের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। “ ভীরু মনের কলি” প্রষ্ফুটনের মোক্ষম সময় আজ। কবি ত্রিদিব দস্তিদারের মত “ ভাল বাসতে বাসতে ফতুর করে দেব” –র মত সাহসি উচ্চারণে অঙ্গীকারাবদ্ধ হওয়ার দিন আজ। আজ কিছুতেই “ গোপন কথাটি রহিবে না গোপনে।” মনের যত বাসনা, অব্যক্ত কথা ডালাপালা মেলে ছড়িয়ে পড়বে বসন্তের মধুর হাওয়ায়। মনে লাগবে দোলা, ভালোবাসার রঙে রঙিন হবে হৃদয়। ‘হৃদয়ের কথা বলিতে ব্যাকুল’  প্রহরের হবে অবসান। প্রেমপিয়াসিদের মনের না-বলা কথা প্রস্ফুটিত হবে আজ।এমন শরাব প্রেমের সুরাহী দিনের দক্ষিণা হাওয়া হৃদয়ে বুনে দিক ভ্রমর গুঞ্জন। অমরাবতীর তীর ছুঁয়ে স্বর্ণরেণু পলকে মেখে ভেসে আসুক বর্ণিল প্রজাপতি ও ভ্রমরের ঝাঁক। কারণ আজ দিবস ও রজনী শুধুই ভালবাসার।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ভাষায় ‘আমার জীবনে তুমি বাঁচো ওগো বাঁচো/ তোমার কামনা আমার চিত্ত দিয়ে যাঁচো…’ কবির বাঁচা মরার এবং চিত্র দিয়ে ভালবাসা বোঝাবুঝির চিরন্তন বোধ আজ  হয়তো একটু বেশিই অনুভূত হবে গোলাপ বিনিময় ও শরীরী ভাষায়। প্রেমদেব কিউপিড এদিন প্রেমশর বাগিয়ে ধরে হৃদয় কন্দরে কন্দরে ঘুরে বেড়াবেন। সে অনুরাগে প্রেমপাগল প্রেমিক প্রেমিকাদের হৃদয় বিদ্ধ হবে দেবতার বঙ্কিম ইশারায়। মনে লাগবে দোলা, ভালবাসার রঙে রাঙবে হৃদয়। ভালবাসা উৎসবে মুখর হবে জনপদ। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও কাল পালিত হচ্ছে দিনটি।

শুধু শহর কেন? এ উৎসবের ছোঁয়া লাগবে গ্রাম-বাংলার জনজীবনেও। মুঠোফোনের মেসেজ, ই-মেইল অথবা অনলাইনের চ্যাটিংয়ের পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় হয়ে উঠবে পল্লবিত, ফুল্ললিত। প্রকৃতির সাথে মানুষের হৃদয়ের সুনিবিড় সম্পর্কের দার্শনিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইবনে খালদুন। প্রকৃতিবাদীদের মতে, ফেব্রুয়ারির এ সময়ে পাখিরা তাদের জুটি খুঁজে বাসা বাঁধে। নিরাভরণ বৃক্ষে কচি কিশলয় জেগে ওঠে। তীব্র সৌরভ ছড়িয়ে ফুল সৌন্দর্যবিভায় পরিপূর্ণভাবে বিকশিত হয়। তাই তো এমন দিনের মাঙ্গলিক্ষণে হৃদয়ের পূর্ণতা বড় প্রয়োজন। এ দিনে চকোলেট, পারফিউম, গ্রিটিংস কার্ড, ই-মেইল, মুঠোফোনের এসএমএস-এমএমএসে প্রেমবার্তা, হীরার আংটি, প্রিয় পোশাক, জড়াজড়ি করা খেলনা মার্জার অথবা বই ইত্যাদি শৌখিন উপঢৌকন প্রিয়জনকে উপহার দেয়া হয়। নীল খামে হালকা লিপস্টিকের দাগ, একটা গোলাপ ফুল, চকোলেট, ক্যান্ডি, ছোট্ট চিরকুট আর তাতে দু’ছত্র গদ্য অথবা পদ্য হয়ে উঠতে পারে উপহারের অনুপম অনুষঙ্গ।

এদিকে ডিজিটালের যুগে তরুণ তরুণীরাই বেশি ক্রেজি হয়ে উঠেছে দিনটি পালনে। প্রযুক্তির কল্যাণে হাইটেক ডিজিটালের যুগে মুঠোফোনের ক্ষুদ্র বার্তা, ই-মেইল অথবা ফেসবুকে পুঞ্জ পুঞ্জ প্রেমকথার কিশলয় পল্লবিত হয়ে উঠবে আজ রাত ১২টার পর থেকেই। কবির ভাষায় একে অন্যকে বলবে- ‘তোমাকে ভালবাসি। ভালবেসে সখী নিভৃত যতনে আমার নামটি লিখো তোমার মনের মন্দিরে…।’ প্রেমহীন হৃদয়ের ক্রন্দন ধ্বনি আকাশ বাতাস আলোড়িত করে তুলে। যার প্রেম নেই, মনে হবে সারা পৃথিবীতে কিছুই নেই। ধু-ধু শূণ্য। তবে জার্মান দার্শনিকের মতে – সে শূণ্যতা পুরণের পথে পা বাড়ানো তো মৃত্যুর দিকে পা বাড়ানো। তারপরও প্রেমপিপাসুর অন্তরে প্রেমই সোনার হরিণ। সোনার হরিণ তার চায় চায়। এ ক্ষেত্রে প্লেটোর “সিম্পোজিয়াম” কোন বাঁধা হতে পারে নি। তারপরও হয়তো মুখচোরা অথবা “পাছে লোকে কিছু বলে” –র ভয়ে দ্বিধাজড়িত কন্ঠে গেয়ে উঠবে নিধুবাবুর মত “ ভালবাসিবে তাই ভালবাসিনে।/ আমা স্বভাব এই, তোমা বিনে আর জানিনে।”

চন্ডিদাসের অনাদিকালের সেই সুর “দুহঁ করে দুহঁ কাঁদে বিচ্ছেদ ভাবিয়া/ আধতিল না দেখিলে যায় যে মরিয়া/ সখী কেমনে বাঁধিব হিয়া…’ ক্রন্দন ধ্বনি হয়ে চরাচর ছাপিয়ে যাবে। এ আবেদনও বাজবে কারও কারও হৃদয় ব্যথিত করে। হয়তো আরও গহন বেদন সকরুণ রাগিনি হয়ে ঝড় তুলে যাবে কারও কারও হৃদয়ে। “ বধু কেমনে রাখিব হিয়া/ আমার বধু আন বাড়ি যায় আমার আঙ্গিনা দিয়া।” অনেকেই হয়তো পুরনো প্রেম ভুলে নতুনের জয়গানে একাকার হতে পারবেন না। হৃদয়ের তলদেশের এক অষ্ফুট বেদনারাশি মুহুর্মুহু নীলচে বেদনার মহাসাগরে ভাসাবে। বড় বেদনা বেহাগের সুর হয়ে বুক চিরে অষ্ফুট বের হবে “ আমি চিরতরে দূরে চলে যাব/ তবু আমারে দেব না ভুলিতে।” “ কাহার বেদনা তীর হয়ে বিঁধবে।” তবে চির সাধনার ধন সকলের বুকে ফিরে আসুক। শেষের কবিতার নায়ক অমিতের মত সকল প্রেমিক/ প্রেমিকার হৃদয়ে কবি জন ডান সরব হয়ে উঠুক। অপরিসীম প্রত্যয় আর আত্মবিশ্বাসে আবৃত্তি করুক –

“ দোহাই তোদের একটুকু চুপ কর

দে আমারে ভালবাসিবারে অবসর।”

“ for god sake , hold your tung and let me love.”