সাম্প্রতিক

লাঞ্ছিত জাতির বিবেক ; আমাদের দায়

sampadakiaরহমান মুকুল : প্রত্যেকটি মূল্যবোধের দুটি দিক থাকে। একটি প্রকাশমান, অন্যটি অদৃশ্য আন্তরিক দিক। মূল্যবোধের এ আন্তরিক দিক তাৎক্ষণিকভাবে পরিমাপের সুযোগ নেই বটে। তবে এ দিকটি জীবনের বিভিন্ন কর্মকান্ডে প্রতিফলিত হয়ে উঠে। বেশ প্রখরভাবেই। অত্যন্ত আন্তরিকভাবে জীবনব্যাপি আš‘রিক এ দিক লালনের মাধ্যমে একজন মানুষ মহান ব্যক্তিত্বে পরিনত হয়। হয়ে উঠেন প্রকৃত মানুষ।
আমাদের রাজনীতিকদের আš‘রিক মূল্যবোধের দীনতা ভয়ানকভাবে বেদনাদায়ক। সাংবাদিকতার দায় দায়িত্বের প্রকৃত মূল্যায়নের ক্ষেত্রে তারা নিষ্ঠার সাথে ক্রমাগত ব্যর্থতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। বলা উচিত সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষ ভেবে নিয়েছেন। আমাদের দেশের আমজনতা আজোবধি সেই অর্থে তেমন সচেতন হয়ে উঠেনি। অব¯’া এমন যে, আমরা যে আনুপাতিকহারে অসচেতন, একই আনুপাতিকে সুবিধাবাদীও। বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি বর্তমানে নেহায়েত নির্জীব, ঔপনিবেশিক কাল থেকেই প্রশাসন সরকারের নষ্টামির ক্ল্যাসিক দোসর। সেকারনে স্বে”ছাচারি সরকার জনগণ, বিরোধী দল কিংবা প্রশাসন কাউকেই তোয়াক্কা করে না। স্বভাবতই সরকার ও প্রশাসনের একমাত্র প্রতিপক্ষ স্বাধীন সাংবাদিকতা। এই স্বাধীন সাংবাদিকতা স্তব্ধ করার ষড়যন্ত্রের কারনে অনেক সাংবাদিককে প্রাণ দিতে হয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় প্রাণ দিতে হয়েছে সাগর- রুনিকে। এত কিছুর পরও রাজনৈতিক কর্তাদের সর্বত্র উ”চকণ্ঠ। অবাক লাগে তারা যখন সভা-সেমিনারে প্রকাশ্যে গলাফাটিয়ে – সাংবাদিকরা জাতির বিবেক বলে চিৎকার করেন। তবে কারা জাতির বিবেকের সে উ”চ কণ্ঠরোধ করতে চা”েছ? এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রের বাকপটু মন্ত্রীরা অবশ্য ততোধিক নিরব। সরকারের দায়িত্ব ছিল সাংবাদিকদের প্রতিপক্ষের মুখোশ খুলে দেওয়ার। কিš‘ সরকার সে দায়িত্ব পালন করেনি। বরং ওই অপশক্তিকে আড়াল করতেই সচেষ্ট। সরকারের এমন মানসিকতার পরিচয় পেয়ে সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি সোৎসাহে শুরু হয়েছে সাংবাদিকদের উপর পুলিশি নির্যাতনও। জাতির বিবেক পেটানোর ক্ষেত্রে সরকারের প্রত্যক্ষ আস্কারায় পুলিশ বিপদজনকভাবে বেপরোয়া। বর্তমানে সাংবাদিকদের জীবনের নিরাপত্তা শূণ্যের কোটায়। এমন ভয়াবহ পরি¯ি’তিতে সাংবাদিকতার ও সাংবদিকদের উৎকট প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে অসৎ সরকারি কর্মকর্তা, সুবিধাবাদী রাজনৈতিক নেতা, নেতাদের তল্পিবাহক, এমনকি পাড়ার মাদক আখড়ার কারিগররা পর্যন্ত।। সাংবাদিক পেটানোর ক্ষেত্রে পুলিশের যোগ্যতার ঘাটতি পূরণ করতেই বুঝি মানবিক বোধজ্ঞানশূণ্য এ সকল দায়িত্ববানরা বিশেষ দায়িত্ব নিয়েছেন।
দিনে দিনে স্বাধীণ সাংবাদিকতার পথে প্রতিবন্ধকতার সংখ্যা বাড়ছে। এক্ষেত্রে দেশের অন্যান্য এলাকার চে’ চুয়াডাঙ্গা মোটেও পিছিয়ে নেই। অতীতেও ছিল না। সাংবাদিকরা পিছু হটলে অবিসংবাদিতভাবে এদেশ নৈরাজ্যজনক রাষ্ট্রে পরিণত হবে। তাহলে কি চুয়াডাঙ্গায় বিকাশমান স্বাধীণ সাংবাদিকতা স্তব্ধ হবে ? নাকি সচেতন জনগোষ্ঠি সাংবাদিকদের পাশে এসে দাঁড়াবেন ?

x

Check Also

আশা জাগালেন জেলা প্রশাসক

রহমান মুকুলঃ মানব সভ্যতার উত্তরাধুনিক যুগে এসেও নতুন করে ভাবতে হচ্ছে আমাদের অস্তিত্বের নিয়ামক হিসেবে ...