সাম্প্রতিক
সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতকারী গ্রেফতার
সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতকারী গ্রেফতার

সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতকারী গ্রেফতার

সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতকারী গ্রেফতার

সিঙ্গাপুর প্রবাসীদের ২৯ লাখ টাকা আত্মসাতকারী গ্রেফতার

সিঙ্গাপুর প্রবাসী বাংলাদেশিদের মূল্যবান সামগ্রী ও স্বর্ণালঙ্কার অভিনব কায়দায় আত্মসাৎ করতেন মো. নাছির উদ্দিন ওরফে পারভেজ (৩২)। এ পর্যন্ত প্রবাসীদের প্রায় ২৯ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছেন এই ব্যক্তি।

মঙ্গলবার রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকার কামারপাড়ার নিশাতনগর থেকে ওই ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকা মেট্রোর একটি বিশেষ দল।

এসময় তার কাছ থেকে ২টি বাংলাদেশি পাসপোর্ট, ১টি স্বর্ণের নেকলেস, ৪টি স্বর্ণের চেইন, ২টি স্বর্ণের নুপুর, ২টি স্বর্ণের ব্রেসলেটসহ অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করা হয়।

বুধবার পিবিআই ঢাকা মেট্রো’র বিশেষ পুলিশ সুপার মো. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পিবিআই জানায়, মো. সাগর (২৬) নামে মুন্সিগঞ্জের এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন যে তার ভগ্নিপতি নাসির প্রায় তিন বছর আগে সিঙ্গাপুরে যান। সেখানেই তার সঙ্গে নাছির উদ্দিন পারভেজের সঙ্গে পরিচয় হয় এবং সুসম্পর্ক গড়ে উঠে। সাগরের ভগ্নিপতিকে পারভেজ জানায় সে ২৯ আগস্ট বাংলাদেশে ফিরবে। তখন নাসির সিঙ্গাপুর চেঙ্গি বিমানবন্দরে পারভেজের সঙ্গে ২টি স্বর্ণের পায়েল, ২টি স্বর্ণের ব্রেসলেট, ১টি স্বর্ণের নেকলেস, ৪টি স্বর্ণের চেইন পরিবারের জন্য পাঠায়। এসব স্বর্ণালঙ্কারের মূল্য অনুমানিক ৪ লাখ টাকা। এছাড়া পরিবারের জন্য দুইটি আইফোন ১০ এক্স মোবাইলও পাঠায় নাসির, যার মূল্য ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা।

পারভেজ এসব জিনিস বাংলাদেশে নাসিরের পরিবারের কাছে পৌঁছে দেয়া বাবদ নগদ ৯ হাজার টাকা আদায় করে। পরে ২৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর নাসিরের শ্যালক সাগরের সঙ্গে দেখা করে পারভেজ জানায় বিদেশ থেকে পাঠানো স্বর্ণালঙ্কারগুলো কাস্টমসে রেখে দিয়েছে আর দ্রুত বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

একই কায়দায় সিঙ্গাপুর প্রবাসী চাঁদপুর জেলা সদর থানাধীন গাজিবাড়ী পুরানবাজার এলাকার মো. আসিফ, নওগাঁ জেলা সদর কালিপুর এলাকার আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ জেলা সদর চর সৈয়দপুর এলাকার মো. দিদার, নোয়াখালী জেলার কোম্পানীগঞ্জ থানাধীন চর খাগরা এলাকার মো. ইমামসহ আরো বেশ কয়েকজনের সঙ্গে প্রতারণা করেন পারভেজ।

জিজ্ঞাসাবাদে আটক পারভেজ জানায়, সে ২০০৭ সালের দিকে এনালগ পাসপোর্টের মাধ্যমে সিঙ্গাপুর যায়। সিঙ্গাপুরে থাকা অবস্থায় ডিজিটাল পাসপোর্ট পাওয়ার জন্য এম্বাসির মাধ্যমে আবেদন করে। আবেদনের প্রেক্ষিতে তার প্রকৃত ঠিকানায় ডিজিটাল পাসপোর্ট ইস্যু হয়।

পরবর্তীতে সে প্রতারণর মাধ্যমে স্বর্ণালঙ্কার আত্মসাৎ করার জন্য এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা খরচ করে পাবনার ঠিকানায় পাবনা জেলার সাথিয়া থানা এলাকার সাইদুর ইসলাম, আব্দুর রব এবং পাবনা জেলা পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মো. সুমনের মাধ্যমে একটি ভুয়া ঠিকানা দিয়ে ২য় পাসপোর্ট তৈরি করে।

পারভেজ জানায়, সে সিঙ্গাপুর আসা-যাওয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন বাংলাদেশি প্রবাসীদের কাছ থেকে স্বর্ণালঙ্কার ও বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল নিয়ে তা পরিবারের কাছে পৌঁছে দেবে বলে খরচ বাবদ টাকা পয়সা গ্রহণ করে। কিন্তু বাংলাদেশে আসার পর সেসব মালামাল নিজেই আত্মসাৎ করে এবং আত্মগোপনে থাকে।

কিছু কিছু ক্ষেত্রে বিমানবন্দরে অপেক্ষমান প্রবাসীদের আত্মীয় স্বজনদের মালামাল প্রদান করলেও স্বর্ণালঙ্কার রেখে দিয়ে এমিটিশনের অলঙ্কার বুঝিয়ে দিয়ে কৌশলে সেখান থেকে চলে যায়। পরে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা ২য় পাসপোর্টের ঠিকানায় গেলে দেখেন ঠিকানাটি সঠিক নয়। এভাবে প্রবাসীদের সর্বমোট প্রায় ২৯ লাখ টাকার মালামাল আত্মসাৎ করেছে এই পারভেজ।

পিবিআই আরো জানায়, আসামির বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মঙ্গলবার মামলা (মামলা নং-০৮) করা হয়েছে। মামলাটি পিবিআই ঢাকা মেট্রোর এসআই মো. আল-আমিন শেখ তদন্ত করছেন। ভুয়া ঠিকানায় পাসপোর্ট তৈরির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না