সাম্প্রতিক

দিন যায় দিন আসে  (ধারাবাহিক- ১পর্ব)

শুভ্রঃ হ্যালো!  হ্যা—-লো!

লালিমাঃ এতদিনে তাহলে সময় হল সাংবাদিক সাহেবের?

শুভ্রঃ “ এখন আমার সময় হয়েছে,/তোমার এবার সময় কবে হবে ?/ সাঝের প্রদীপ সাজিয়ে ধরেছি/ শিখাটি তার জ্বালিয়ে দিবে কবে।”

লালিমাঃ কবিতা থামাও সাঙ্ঘাতিক সাহেব! অনেক হয়েছে! সস্তা কথায় আর চিড়ে ভিজবে না। গত তিন দিন ধরে কল দিচ্ছি। খোঁজ নেই। ব্যস্ততা দেখাও তাই না। তুমিই কাজের মানুষ, আর সকলে ভেলনা ভাজে। এমনটাই ভাবো তাই না।

শুভ্রঃ তুমি সামনে থাকলে অসুবিধা ছিল না। রেগে গিয়ে ঝগড়া করার সময় তোমাকে কি যে সুন্দর দেখাতো গো! তোমার কপোল-কমল অনিন্দ্য সুন্দর রামধনুর সাত রঙে রেঙে উঠে। দুর্ভাগ্য তুমি নেই। তাই দূর পরবাসে বসে তোমার শুধু শুধু ঝগড়া বড্ড পানসে লাগছে। রাখ তবে আজ ঝগড়া। “এমন শরাব প্রেমের সুরাহী দিন/ এসো সখি হয়ে যায় একাকার লীন/ সকল মান-অভিমান ভুলে।

মহুয়া মাতাল এই ফাগুন দিনে/ যায়না এ দীলের জ্বালা তোমায় বিনে/ এসো সখি এই মহুয়ামূলে।”

লালিমাঃ এই রোখো রোখো! প্রেম এখন দেখছি উথলে উঠছে। আমি এখন আলো ঝলমল সিঙ্গাপুর থেকে নিমেষেই তোমার চুয়াডাঙ্গার অস্তিত্ববিলীয়মান ভাটুই নদীর ধারে মহুয়ামুলে ছুটে যাব? তাই না। অপেক্ষা কর। হায় আমার কৃষ্ণ গো! থামাও এবার তোমার প্রেমের জোয়ার। আসল কথা বল।

শুভ্রঃ না তুমিই বল আমি শুনি। আজ তোমার অমৃত কথামালায় আমার কর্ণকুহরে বেজে উঠুক পাপিয়ার গায়কী হয়ে।

লালিমাঃ প্লিজ একটু সিরিয়াস হও না!

শুভ্রঃ আচ্ছা বল। এই তো নির্বাণ লাভ করে কেমন তোমার লক্ষ্মী শ্রমণ হয়ে উঠেছি। এবার বল।

লালিমাঃ আচ্ছা আমার লক্ষ্মীমন্ত শ্রমণ! শোন- তুমি বিশ্ব নারী দিবস উপলক্ষে ফেসবুকে কী স্ট্যাটাস দিয়েছো? নারীদের পার্সনালিটি নেই? ছি! তুমি এভাবে লিখতে পারলে!

শুভ্রঃ আবার ঝগড়া, তোমাকে নিয়ে আর পারিনে। শোন তবে-

আমাদের দেশের রাষ্ট্র ও এনজিওগুলো নারী উন্নয়ন বলতে ক্ষমতায়ন, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বনে অনেক বছর ধরে কাজ করছে। একেবারে ফলোদয় যে হয়নি তা নয়। কিন্তু তা কী কাঙ্ক্ষিত মাত্রায়? অবশ্যয় নয়। একটা উদাহরণ দিই- বলিউড নায়িকা ঐশ্বরিয়ার তো বহু অর্থ। ক্ষমতাও মাশা আল্লাহ কম নয়। তারা দেশের রাজনীতি এমনকি মাফিয়াও নিয়ন্ত্রণ করেন। তার সিনেমা তো দেখছো। প্রচন্ড তুষারপাতের মধ্যে শারা শরীর গরম পোষাকে মোড়ানো নায়কের সাথে ন্যূড হয়ে কাঁপতে কাঁপতে  অবলীলায় স্বাচ্ছন্দে অভিনয় করেন। এ সকল প্রভাবশালী নায়িকাদের অনেকেই অক্সফোর্ড ও ক্যামব্রিজ থেকে পড়ালেখা করেছেন। শিক্ষা, অর্থ কিংবা ক্ষমতা কোন দিক দিয়েই তারা অবহেলিত না। তাহলে তাদের কেন এমন হীন অবস্থা?

লালিমাঃ এজন্য পুরুষতান্ত্রিকতা দায়ি। দায়ি পুরুষের ভোগের সীমাহীন উন্মত্ততা।

শুভ্রঃ না গো না, তা নয়। অনাবশ্যক পুরুষের উপর ঝাল ঝেড়না। এর জন্য আসলে নারীর ব্যক্তিত্ব দায়ি। লেখাপড়া শিখেও বেশিরভাগ নারী নারীসুলভ আচরণের উর্দ্ধে উঠতে পারেন না। আর এ নিয়ে কথা না। ৮ মার্চ বেশ কয়েক দিন পূর্বেই অতিক্রম করে এসেছি। নতুন কিছু বল।

লালিমাঃ পুল শিক্ষক নিয়োগের দুর্নীতির একটা দায়সারা নিউজ পড়লাম তোমার সাম্প্রতিকী ডট কমে। কি সাংবাদিকতা যে কর বুঝি না। শিক্ষা নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে শুধু তোমরাই পার।আগে তো শিক্ষাকে পণ্য করে তুলেছো। এখন যে টুকু অবশিষ্ট রেখেছো তারও আর কিছু বাকী রাখলে না। আলমডাঙ্গা তো আশপাশের জেলা –উপজেলা এমনকি চুয়াডাঙ্গা সদর থেকেও উচ্চ শিক্ষায় পিছিয়ে। তোমাদের আলমডাঙ্গার একটি স্কুল তো শ শ জিপিএ-৫ পয়দা করে। জেলায় শ্রেষ্ঠত্বের বড়াই করে। তো ওই প্রতিষ্ঠানের জিপিএ-৫ ধারীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কিংবা বুয়েটে ভর্তির যোগ্যতা হয়না কেন? এত জিপিএ-৫ ও গোল্ডেন অথচ এ্যাডমিশনের ক্ষেত্রে পার্শ্ববর্তি গাংনী উপজেলা এমনকি চুয়াডাঙ্গা সদরের চে’ তোমরা যোজন যোজন পেছনে পড়ে। বিসিএস-এ প্রতিবছর কয়টি ছেলে মেয়ে বর্তে যায় তার খোঁজ রাখ? কোন বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে তা কি শেখাতে হবে?

শুভ্রঃ তোমার কাছে কোন তথ্য থাকলে জলদি বাতাও সোনা।

লালিমাঃ আমার বান্ধবীর সাথে ফোনে কথা বলার এক পর্যায়ে জানা গেল তো অনেক কথা। চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কয়েকজন দালাল সব জায়গায় রয়েছে। আলমডাঙ্গায় তার দালাল হিসেবে কাজ করছে এক সাবেক শিক্ষক নেতা।

শুভ্রঃ কি নাম?

লালিমাঃ বুদ্ধু ওটুকু তুমি বের কর। পুল শিক্ষককে পছন্দের স্কুলে নিয়োগ দিতে নাকি ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত নিচ্ছেন ভদ্রলোক। একটা কাহিনি বলি তোমাকে – এক দুর্দশাগ্রস্থ পুল শিক্ষক পছন্দের স্কুলে নিয়োগ পেতে ক্ষমতাবান অনেকের কাছে ঘুরেছেন। দয়াপরবশতঃ অনেকেই তার জন্য ডিপিইও’র নিকট সুপারিশ করেছিলেন। এক পর্যায়ে ডিপিইও তাকে ডেকে পাঠালে তিনি খামের ভেতর করে পাঁচ হাজার টাকা তুলে দেন। বলেন- স্যার আমার দুরাবস্থ্যার কথা শুনেছেন। তারপরও আমি সাধ্যমত চেষ্টা করেছি আপনার মর্যাদা রাখতে। কিন্তু ডিপিইও সাহেব মেনে নেননি। বেতন পাইলে তাকে আরও পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে শর্তে নিয়োগ দিয়েছেন।

শুভ্রঃ হ্যাঁ বিষয়টি খোঁজ রাখছি।

লালিমাঃ শেয়ার বাজার লুটকারি তস্কর সালমান এফ রহমান নাকি বিশ্বের শ্রেষ্ঠ ধনীদের নামের তালিকায় স্থান পেয়েছে।

শুভ্রঃ তাই তো আমি ও বলি – সেকুলাস কি বিচিত্র এই দেশ!

 

লালিমাঃ এই সাংঘাতিক, আমার প্রকৌশলির আসার সময় হচ্ছে। অনেক কাজ। আজ রাখি হ্যাঁ। তুমি গো-হাট নিলামের বিষয়ে খোঁজ রাখ।

শুভ্রঃ এখনই রাখবে?

লালিমাঃ রাখতেই তো হচ্ছে। “মাধবী আসলেই বলে যায়” তাই না। ও আর শুন, বয়স কিন্তু কম হচ্ছে না। বেশি রাত জেগো না। তাড়াতাড়ি ঘুমোতে যাবে। আচ্ছা রাখি। শুভ সন্ধ্যা।

শুভ্রঃ তোমাকেও।

 

                                                                   – রহমান মুকুল