সাম্প্রতিক

দিন আসে দিন যায় (ধারাবাহিক ২য় পর্ব)

শুভ্রঃ হ্যালো, হ্যালো!

লালিমাঃ যাক, শেষাবধি তাহলে রিং দিলে?

শুভ্রঃ না, তুমিই তো গত সপ্তায় বলেছিলে ফ্যামিলি ট্যুরে যাবে। সে কারণেই রিং দিয়ে ঝামেলা করতে চাইনি।

লালিমাঃ মেনে নিলাম, কিন্তু সাঙ্ঘাতিক মেসেজ তো পাঠাতে পারতে। এক সময় তো খুব চিঠি লিখতে। মনে আছে?

শুভ্রঃ কেন নয়? প্রেমপত্রের কথা কি প্রেমিকরা ভুলে সখি?

লালিমাঃ তোমার প্রথম প্রেমের চিঠি যেটা তুমি আমার কাজিনকে লিখেছিলে সেটি আজও আমার মুখস্ত। তখন তো তুমি আমাকে পাত্তা দিতে না। সাথি আপায় আপাদমস্তক মজেছিলে। চিঠিটি মুখস্ত বলবো?

শুভ্রঃ আরে না, কী শুরু করলে বলতো?

লালিমাঃ স্মৃতি রোমস্থন। বলি হ্যাঁ।

শুভ্রঃ আচ্ছা, বল।

লালিমাঃ তুমি তো সাথি আপাকে কমরেড সম্মোধন করে লিখতে।

 

“কেমন করে দিন কাটাচ্ছে আমার প্রিয়তম কমরেড?  জীবন যখন টগবগ করছে তারুণ্যে আর মন ভরে আছে প্রেমের সৌরভে।

আমার তো দিন কাটে প’লে প’লে কমরেডেরই প্রেমে। আর তোমার? আমাকে একটি সদয় ও মধুর জবাব দিয়ে কৃতার্থ করো।

ইতি-

কমরেডেরই একান্ত সহযোদ্ধা হতে ইচ্ছুক একজন ।”

এই প্রেমের প্রস্তাবসংবলিতপত্র হাতে পেয়ে সাথি আপার বড় ভাই কি মারধোরই না করেছিল। বাদবাকি সবই এখন স্মৃতি।

শুভ্রঃ তারপর সখি তোমাকেই করিয়াছি জীবনের ধ্রুব তারা।

লালিমাঃ তা তো জানিই। আমাকে প্রেম নিবেদনের সে কী কৌশল তোমার! বিখ্যাত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের প্রেমের চিঠি তুমি আমাকে লিখে পাঠাতে। বলতে এটা ভলতেয়ারের, এটা রাসেলের, এটা চার্চিলের। আমি ভাবতাম তুমিই নিজে লিখে এ সকল বিখ্যাত ব্যক্তিদের নামে চালাচ্ছো। আমি বুঝতাম আসলে তুমি আমাকেই লিখেছো। সাথির ব্যাপারটা যেহেতু আমি জানতাম, সেকারণেই তুমি এমন কৌশল করতে। উফ! কী আন্তরিকতায় আমি সে সব চিঠি গভীর রাতে বার বার পড়তাম। জানো, তোমার সব চিঠি আমার এখনও মুখস্ত। বার্নার্ড শ’র চিঠিটা শোনায়–

“স্টেলা মন দিয়ে শোন,

গভীর রাতের মত এক রমণীকে চাই।

এক ঝুড়ি নিষিদ্ধ আপেল নিয়ে সে আসবে,

সাতটা প্রদীপ জ্বলবে, চাই হাসি, চাই সঙ্গীত,

চাই বোকামি করার অনুমতি! আর চাই অমরত্ব।

প্রেরণা চাই, চাই স্বার্থপর হতে,

আলো ছুঁড়ে মারতে ঐ সাগরের পারে। আজ

হাতের ঝাঁকুনিতে গুটিয়ে ফেলতে চাই

পৃথিবীর সব মরুভূমি। তারা চাই, অগুনতি

নামহীন সুখ চাই।

আর চাই স্বপ্ন।

কবে দেবে ঠিক করে বলো তো?

বার্নার্ড শ ”

শুভ্রঃ অন্য কিছু বল না।

লালিমাঃ আচ্ছা ভারত কী চুক্তি করতে চাচ্ছে নতুন করে? শুনছি আবার ২৫ বছরের গোলামি চুক্তির নগড়ে সরকারি দল বাঁধতে চায় জাতিকে। অবশ্য আওয়ামীলীগ বলছে দেশের জন্য ক্ষতিকর কোন চুক্তিই করা হবে না। আসলে সমঝোতা চুক্তির মধ্যে গুরুতর কী থাকতে পারে? জানো কিছু?

শুভ্রঃ সম্ভাব্য এ চুক্তি নিয়ে যতেষ্ঠ রাখ-ঢাক রয়েছে। তবে যতটুকু ধারনা করা হচ্ছে- বাংলাদেশ এখন নিয়োমিত চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাস্ট্র থেকে অস্ত্র কিনছে। সম্প্রতি চীন থেকে দুটি সাবমেরিন কিনেছে। ভারত  – চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাস্ট্র থেকে অস্ত্র কেনা বন্ধ করতে চায়। ভারতের নিকট থেকে অস্ত্র কেনার ব্যাপারে চুক্তি করতে বাধ্য করতে চায়। সেনাবাহিনিকে প্রশিক্ষণ দিতে চায়। কিন্তু বিষয়টি সেনাবাহিনি কীভাবে নিবে সেটাও একটা বিষয়। কারণ বাংলাদেশ সেনাবাহিনি তো বিশ্বমানের। তাদের ট্রেইনিংও বেশ উন্নত। দ্বিতীয়তঃ কিছু কিছু সন্ত্রাস মোকাবেলায় ভারত যৌথ অভিযান পরিচালনা করতে চায়। এ ব্যাপারে চুক্তি চায়। আসলে ভারতের ৭ সিস্টার হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তি আসাম, মিজোরাম, ত্রিপুরা, সিকিম, মনিপুর, নাগাল্যান্ড ও গোরখাল্যান্ড এই ৭টি দেশের স্বাধীনতাকামি উগ্রপন্থা নিয়ন্ত্রণের জন্য বাংলাদেশের ভূমি ব্যবহার ভারতের জন্য অত্যাবশ্যকীয়। সেকারণে এ চুক্তিটিতে এই বিষয়টি অগ্রগণ্য হতে পারে।  তবে এ সকল চুক্তিও হবে পূর্বের চুক্তির মতই ২৫ বছরের।

লালিমাঃ ভারত কেন এত আগ্রহী এ চুক্তি করতে?

শুভ্রঃ ৭ সিস্টারের স্বাধীনতাকামিদের দমন করতে। চীন-পাকিস্থানের ক্রমঃবর্ধমান হুমকির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশকে বাগে রাখতে পারলে অনেক সুবিধে ভারতের।

লালিমাঃ কিন্তু বাংলাদেশের তো এ চুক্তিতে কোন স্বার্থ খুঁজে পাচ্ছিনা। তাহলে সমঝোতাচুক্তি হবে কেন?  শুভ্রঃ বাংলাদেশের স্বার্থ না থাকলেও সরকারের স্বার্থ রয়েছে। কে না জানে বাংলাদেশের ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে ভারতের সাহায্য কতটা প্রয়োজন। তাছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে চার হাজার কোটি টাকার একটা টোপও দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

লালিমাঃ আমার বেশি খারাপ লাগছে সেভেন সিস্টারের স্বাধীনতাকামিদের প্রতি আমাদের সম্ভাব্য এমন নিষ্ঠুর আচরণে। আমাদের স্বাধীনতা সংগ্রামে কত জাতিগোষ্ঠীর সাহায্য পেয়েছি। তাছাড়া স্বাধীনতা মানে আমাদের মত কয়টা জাতি বোঝে। সেই আমরা প্রতিবেশি রাস্ট্রের কয়েকটি রাজ্য যখন স্বাধীনতার জন্য উন্মুখ, আমরা তাদের সহযোগিতা না করে বরং দমনের ব্যবস্থা করছি। বাঙ্গালী তো এতটা অকৃতজ্ঞের জাতি না।

শুভ্রঃ বাঙ্গালী গদির জন্য সব পারে। এখনও বোঝনি?

লালিমাঃ সেকুলাস কী বিচিত্র এই দেশ! থাক এবার আলমডাঙ্গার কথা বল। তোমাদের আলমডাঙ্গায় নাকি আওয়ামীলীগের গ্রুপ রাজনীতি আরও স্পস্ট হয়েছে?

শুভ্রঃ এটাতো সময়ের সাথে সাথে বৃদ্ধি পাবেই। আমোঘ একটা ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছ। আলমডাঙ্গার পৌর মেয়র উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হাসান কাদির গনুর অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। আসলে আমাদের চুয়াডাঙ্গা -১ আসনের এমপি সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার এখন “ ওয়ান ম্যান শো’র” বিপদ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন। তিনি ব্যতিত দলে তার গ্রুপে নেতৃত্ব দেওয়ার মত যোগ্যতম কাউকে গড়ে উঠার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এর নগদ সুফল তিনি এতদিন মুঠোভরে পেয়েছেন। এখন কুফল কুড়ানোর পালা।

লালিমাঃ অনেক কথা হল। আজ রাখ। ২ দিন বাদে রিং দিও।

শুভ্রঃ বেশি ব্যস্ত না থাকলে অবশ্যই।

লালিমাঃ আচ্ছা, সাঙ্ঘাতিক, না হয় আমিই রিং দেব। ভাল থেকো। শরীরের প্রতি যত্ন রেখ।

শুভ্রঃ তুমিও ভীষণ ভীষণ ভাল থেকো।