সাম্প্রতিক

আহমদ ফারুকের গল্পগ্রন্থ “ভালোবাসা আহমেদ” পাঠ ও পতিক্রিয়া

1512817_10153317674939168_7301619837351977965_nনজরুল ইসলাম: বাস্তবের কিছু গল্পের কষ্ট কল্পনার কষ্টকেও হার মানায়। নুপুরের গল্পটাও তেমন। অত্যন্ত শান্ত শিষ্ট মেয়ে। একেবারেই চাওয়া পাওয়ার তেমন কিছু নেই। টিউশনী করে জীবন চালাত সে। এক রাতে পুরাতন ঢাকার বাবু বাজার থেকে টিউশনী করে ভাসির্টি ফেরে সে। সে রাত ছিল ঝড়ের রাত। তাই ফিরতে অনেক রাত হয়ে যায়। যখন সে গোলাপ শাহ এর মাজারের সামনে আসে তখন শুরু হয় পুলিশ রেট। ভাসমান যৌনকর্মীদের ধরতে পুলিশ অভিযান চালায়। গ্রেফতারের ভয়ে যৌন কর্মীরা ওসমানী উদ্যানে পালায়। কিছু না বুঝে নুপুরও দৌড় দেয়। ফলে বিনা কারণেই সে ধরা পড়ে পুলিশের হাতে। আইন কানুন না জানা একটা মেয়ে হাজতে থেকে যায় সে রাতে। অতি সাধারণ ঘটনাই বটে। অথচ এই ঘটনাই একসময় তাকে মানসিক প্রতিবন্ধী করে তোলে। কারণ বাংলাদেশ সরকারের ১৯৪৯ নং ধারা অনুযায়ি যৌনকর্মী ধরা পড়লে তারা মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। যে মুচলেকায় লেখা থাকে আমি যৌনকর্মী, ভবিষ্যতে আমি আর যৌন পেশায় যাবো না।
সে রাতে ধরা পরা সব কলগার্ল মুচলেকার সাথে ২০০ টাকা জরিমানা দিয়ে ছাড়া পায়। কিন্তু নুপুর মুচলেকা দিতে অস্বীকৃতি জানায়। তার এক কথা সে তো যৌনকর্মী নয়। সে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের ছাত্রী। কিন্তু ভুল বোঝাবুঝির কারণে সে রাতে ছাড়া পায় না নুপুর। বরং তার নামে কেস হয়। সে রাতে হাজতে থেকে যেতে হয়। পত্রিকায় ছবি আসে। ফলে নুপুর আসলে কি তা নিয়ে বিতর্ক তৈরী হয়। কেউ বলে চরিত্রহীন মেয়ে ছিল। আসলেই সে এই পেশায় যুক্ত। কেউ বলে পুলিশ তাকে ফাসিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা হলো নুপুর সমাজ থেকে ছিটকে পড়ে। মেধাবী এই মেয়ের জীবন এখানেই শেষ হয়ে যায়। বর্তমানে মেয়েটি মানসিক রোগী। সে কাউকে চিনতে পারে না।
এমনি এক হৃদয় বিদারক সত্য ঘটনা নিয়ে ‘ভালোবাসা আহমেদ’ উপন্যাস লেখা হয়েছে। গল্পের সুবিধার্থে মেয়েটির নাম বদলে নুপুর রেখেছেন কথাসাহিত্যিক আহমেদ ফারুক। এছাড়াও গল্পে উঠে এসেছে কিছু বাস্তবতা। প্রতিটা চরিত্রে ফুটে উঠেছে এক একটি গল্প।
‘ভালোবাসা আহমেদ’ উপন্যাস অবলম্বনে শিগগিরই চলচ্চিত্র মুক্তি পেতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র নিয়ে কাজও চলছে পুরোদমে। বইটি প্রিয়মুখ প্রকাশনী থেকে বইমেলা ২০১৫ তে প্রকাশিত। রকমারীর মাধ্যমে বইটি সারাদেশের যে কোনো প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করা যাবে। এছাড়াও প্রিয়মুখের শো-রুমÑ ১৪/এ, সেঞ্চুরি আর্কেড, মগবাজার ওয়্যারলেস, সিদ্ধেশরী ঢাকা, এই ঠিকানায় পাওয়া যাবে।