সাম্প্রতিক
অনলি লাভ (উপন্যাস)

অনলি লাভ | ভালোবাসার এপিঠ ওপিঠ

অনলি লাভ (উপন্যাস)

সমালোচনা: তামান্না স্নিগ্ধা

বইয়ের নাম: অনলি লাভ (উপন্যাস)
লেখকের নাম: এরিখ সেগাল
অনুবাদ: বদরুল মিল্লাত
প্রকাশকাল: ২০১৭ বইমেলা
মূল্য: ২৬০ টাকা
পৃষ্ঠা: ২০৬ পাতা

‘অনলি লাভ’ সত্যি বলতে কি নামটা দেখে আমার বইটা পড়ার তেমন একটা আগ্রহ জাগেনি। বড্ড বেশি ন্যাকা ন্যাকা সাদামাটা এই নাম দেখে ভেবেছিলাম নরমাল কোন প্রেমের উপন্যাস হবে হয়ত। শুধু নিউ ইয়র্ক টাইমস এর বেস্টসেলার আর লেখক এরিখ সেগাল বলেই কিছুটা ভরসা নিয়েই পড়া শুরু করেছিলাম ।

বইয়ের মূল চরিত্র ম্যাথিউ হিলার। যে পেশায় একজন ডাক্তার আবার মিউজিশিয়ান ও। মেডিকেল নাকি মিউজিক? পেশা হিসাবে কোনটা বেছে নেবে এটা নিয়ে বড়ই দ্বিধা থাকলেও শেষপর্যন্ত হাসপাতালে নাইট ডিউটির সময় এক বাচ্চার হাত ধরে থাকাকালীন সময় তার কাছে মানবতার সেবাটাই জয়ী হয়। কিন্তু তার বুকের ভিতর থেকে যায় সঙ্গীতের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা। তার রক্তে যে মিশে অাছে পিয়ানোর সুর। অথচ সেই কি না কালের বিবর্তনে ভুলে যায় বাজাতে!!!

গল্পের নায়িকা ইতালির বিখ্যাত কোম্পানি ফামা কর্পোরেশন এর একমাত্র উত্তরাধিকারী সিলভিয়া দালেসান্দ্রো। হুলস্থুল পরিমাণ বড়লোক বাবার সন্তান হওয়ায় সারাক্ষণই তাকে থাকতে হয় কঠোর নিরাপত্তা বলয়ে। কোথাও গেলেও পাশে পাশে থাকে নিরাপত্তারক্ষী। সে পরিত্রাণ পেতে চায় বাবার শাসনের এই বলয় থেকে। পারে কি?

আফ্রিকার দেশ ইরিত্রিয়ায় চলছে গৃহযুদ্ধ। মানবিক দিক বিবেচনা করে ডাক্তারদের এক টিম সেখানে যাচ্ছে সেবাপ্রদানে। সিলভিয়া বাবার অমতে সেখানে নাম রেজিস্ট্রেশন করে। ম্যাথিউ যায় কিছুটা সেবা কিছুটা অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ের অভিপ্রায়ে। ইরিত্রিয়ায় এই মিশনের কাজে একত্রে যাওয়ার সময় তাদের দুজনের প্রথম দেখা হয়। বিভিন্ন গল্পে গল্পে দু’জন শুরুতে তাদের জীবনের কাহিনি শোনায়। তাদের দু’জনেরই আছে লুকানো এক অন্ধকার অতীত, যেই অতীতের কথা তারা কাউকে জানতে দিতে চায় না। কিন্তু কেন??

আফ্রিকায় এসে মানুষদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি তারা নিজেদেরকে আরও ভালোভাবে আবিষ্কার করে। গভীর ভালবাসায় সিক্ত হয়। মুহূর্তের সিদ্ধান্তে দুজনে বিয়ে করতে চলে যায় স্থানীয় এক চার্চে। কিন্তু ফাদার তাদের বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে বিয়ে ছয় মাস পিছিয়ে দেয়। চার্চে কি কখনো বিয়ে পিছায়? তাও এত দিনের জন্য? অদ্ভুতুড়ে এই কাণ্ডের মানে কী?

এর ভিতর একদিন রিফিউজি ক্যাম্পে যাওয়ার পথে মাথায় গুলি খায় ম্যাথিউ। অার তারপর থেকেই সিলভিয়া নিরুদ্দেশ। হাসপাতালে ম্যাথিউ তার খবর পাওয়ার জন্য অস্থির। কিন্তু একেবার ভোজবাজির মত সে উধাও। কোথাও নেই সে! অথচ কিছুদিন পর দেশ বিদেশের সংবাদপত্রে নিউজ হলো, বিয়ে করেছে সে নিকো রিনালদিকে। তার বাবার ব্যবসায়ীক পার্টনারের ছেলেকে। কিন্তু কেন? এরকম কেন করলো সে!

ম্যাথিউর স্কুলে পড়াকালীন সময়ে এক বান্ধবী ছিলো ইভি নাম। সেও ছিলো একজন মিউজিশিয়ান। এতোদিনে ইভি ডিভোর্সি প্লাস দুইমেয়ের মা। মনে মনে ভালোবাসলেও ইভির প্রতি অপ্রকাশিত ভালোবাসার অনুভূতি কারো সাথেই ম্যাথিউ কখনো শেয়ার করেনি। তাই এবার ইভির সাথে নতুন করে দেখা হলে, সে আর ভুল করে না, গাঁটছড়া বাঁধে ইভির সাথে। কিন্তু হুট করেই ম্যাথিউ এর জীবনে আবার ফিরে আসতে চায় সিলভিয়া। কি মুশকিল! ম্যাথিউ এখন কী করবে? জানতে হলে পড়তে হবে বইটা।

অনুবাদ বিষয়ক আলোচনা: অরজিনাল না পড়ে অনুবাদ কেনার রয়েছে বহুল সমস্যা। আমার মতে একজন খারাপ অনুবাদক একটা ভালো বইয়ের গলা টিপে হত্যা করে ফেলতে পারে। বদরুল মিল্লাতের অনুবাদ যথেষ্ট প্রাঞ্জল এবং উপভোগ্য। ক্ষেত্রবিশেষ আপনার মনে হবে অনুবাদ না মৌলিক পড়ছেন। পুরো উপন্যাসে বেশ কিছু টুইস্ট আছে, অনুবাদের সাবলীলতার জন্য টুইস্টগুলো বেশ ভাল্লাগছে।

আমার রেটিং – ৭.৫/১০

প্রেমের উপন্যাস কম পছন্দ করি বলে হয়তো যারা বইটা পড়ছেন তাদের কাছে রেটিং কম দেয়া হয়েছে বলে মনে হতে পারে। তবে বইটা পড়লে নিশ্চিত আপনাদের ভাল্লাগবে। হ্যাপি রিডিং।