সাম্প্রতিক

নূর হোসেন-এর গল্প

গল্পকার: শাহনেওয়াজ বিপ্লব

wiEWlhzgIc9t
ভণিতা …
নূর হোসেন নামে আমাদের এক বন্ধু ছিল। খুবই সাধারণ, আর দশের মধ্যে হারিয়ে যাওয়া একজনের মতন। ছেলেটা খেয়ে দেয়ে আর কাজ পেল না-হঠাৎ একটা স্বপ্ন দেখতে শুরু করল। বেশ তো, স্বপ্ন যদি দেখেই থাকে তবে দেখুক না, বাধা দিচ্ছে কে? দেয়ওনি। মুশকিলটা হল অন্য জায়গায়, স্বপ্নটা আপাত সাধারণ মনে হলেও সাধারণ নয়। কেমন যেন, মনের মধ্যে একটা শিহরণ জাগায়, আবার অজানা আশংকায় মনটা ভীত হয়ে পড়ে। স্বপ্নটা এ রকম। থাক্, বরং নুর হোসেন এর কাছ থেকেই শোনা যাক স্বপ্নটার বিবরণঃ-
“আমি একটা স্বপ্ন দেখি। আমি যেন সমুদ্রের বালিয়াড়িতে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পায়ের সামনে আছড়ে পড়ছে সমুদ্রের ঢেউ। হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ ঢেউ। আমি দাড়িয়ে থেকে এক মনে সেই ঢেউ গুনি”
এই পর্যন্ত স্বপ্নটা ঠিকঠাক। বিপদ হল পরে, অর্থাৎ স্বপ্নটার শেষ কয়েকটি কথায় ঃ-
“হঠাৎ চেয়ে দেখি, সেই ঢেউগুলি আর সমুদ্রের পানির  নয়, হাজার হাজার মানুষের ঢেউ”
এই স্বপ্নের কথাই ও বলেছিল। যাই হোক, এই স্বপ্ন দেখার ফল নূর হোসেন হাতে হাতে পেয়েছিল কিছুদিনের মধ্যেই। কারণ, তেমন কিছু নয়, ও ওর স্বপ্নটাকে বাস্তবে রূপ দিতে চেয়েছিল। বোকা, বোকা। কেনরে বাবা, বেশতো ছিলি ! হঠাৎ মাথায় এ সব পোকা ঢুকল কেন? আর দশজনের মতো খেয়ে, বসে, ঘুমিয়ে কাটিয়ে দে । তা নয়। একটা ফালতু স্বপ্নের পেছনে ছুটে বেড়ালি। লাভ কি হল তোর? কি হাতি ঘোড়াটা কিনলি? আরে বাবা, ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়াবার ভারটা পড়ল তোই ওপর? বোকা তুই নূর হোসেন । একদম বোকা। তোর জন্য দুঃখ হয়। তোর ওপর করুণা হয়। তোকে দয়া করতে ইচ্ছে করে। নিজে তো জ্বলে মরলি, আমাদেরও কম জ্বালাচ্ছিস না আজকাল। কে তোকে অধিকার দিয়েছে এ রকম জ্বালাবার? টুম্পার কথা ভেবেছিস একবারের জন্যও-আমাদের কথা না হয় ছেড়েই দিলাম। কিন্তু টুম্পা? ওর জন্য কি রেখে গেলি তুই? জানি তুই অনেক বড় বড় কথা বলবি। স্বপক্ষে অনেক বড় বড় যুক্তি দেখিয়ে আত্মতৃপ্তির নরম গালিচায় টান্ টান্ হয়ে শুয়ে পড়বি। তুই তা পারিস। এ রকম ভাবে আমরা নূর হোসেনকে আজকাল আক্রমণ করি। কিন্তু জানি, তাতে ওর কিচ্ছু হয় না। হবেও না। তাই ও কথা থাক। বরং আসল কথায় আসা যাক।

আসল কথা/ টুম্পা
এই মাত্র ওরা ওর দেহটা নিয়ে চলে গেল আমার চোখের সামনে দিয়ে। আচ্ছা, মৃত্যুর পর মানুষকে কি দেখতে সুন্দর লাগে? বোধ হয় তাই। তাছাড়া ওকে অত সুন্দর লাগছিল কেন? চিৎ হয়ে যেন একটি নিষ্পাপ শিশু শুয়েছিল এতক্ষণ। মৃত্যু মানুষকে সুন্দর করে কিনা জানি না, তবে মহান করে তোলে। কেন জানি এ কথাই বার বার মনে হচ্ছে। বিশেষ করে এ রকম মৃত্যু। যে মৃত্যুর জন্য একটা কারণ থাকে পেছনে। যে মৃত্যু নিঃশব্দে আসে না, অথচ যে মৃত্যুর অস্তিত্ব টের পাওয়া যায়। যেন কানে কানে বলে ওঠে, ‘তৈরি থেকো বন্ধু, যে কোন মুহূর্তে আমি কিন্তু তোমায় আক্রমণ করতে পারি’। হয়তো ওকেও বলেছিল। হয়তো কেন–নিশ্চয়ই বলেছিল। কিন্তু ও শুনে ভীত হয়ে পড়েনি। আসলে ভয় পাবার মতো মানসিক দৌর্বল্য ওকে গ্রাস করেনি। ও যেন তৈরি ছিল, যেন জেনে শুনে মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করবার জন্য মনের উঠোনটাকে নিকিয়ে রেখেছিল, যেন মৃত্যুকেও ও বলতে চেয়েছিল, ‘তৈরি আছি, যেন জেনে শুনে মৃত্যুকে হাসিমুখে বরণ করবার জন্য মনের উঠোনটাকে নিকিয়ে রেখেছিল, যেন মৃত্যুকে ও বলতে চেয়েছিল ‘তৈরি আছি, এসো তুমি’। অথচ উল্টোপালটাতো হতে পারত। ওর বন্ধুদের মতো সাধারণভাবে কাটিয়ে দিতে পারত তো ওর জীবনটাকে। সেটাই তো ছিল খুব স্বাভাবিক এবং কাম্যও। বিশেষ করে আমার মতো একটা অতি সাধারণ মেয়ে এসেছিল ওর জীবনে, যে রংধনুর রঙ দেখতে দেখতে বড় হয়েছে, ছেলেবেলায় পুতুল নিয়ে ঘরকন্নার কাজ করতে করতে কখন যেন মনের মধ্যে সত্যিকারের ঘরকন্না আর কাজ করবার নরম-সরম গাছটাকে প্রতিদিন আকাঙক্ষার জল দিয়ে সজীব করে তুলেছে, যে নূর হোসেন নামে একটা যুবককে ঘিরে মনের মধ্যে একটা ঘর গড়ে তুলেছে। কিন্তু কিছুই হল না। এর জন্য কি আমি দায়ী? এই পরিণতির জন্য? হয়তো তাই। কেন জানি বার বার মনে হচ্ছে ওর ভেতরের সত্তাটাকে আমি টেনে বার করবার চেষ্টা না করলে আজ এরকম হত না। কিন্তু আমি কি করব? কেন আমাকে ও টের পেতে দিল ওর মধ্যে আগুনের উত্তাপ আছে। ধিকি ধিকি জ্বলছে সে আগুন। আমি তো চাইবই আমার মনের মানুষটা আর দশ জনের থেকে ভিন্নতর হোক–প্রত্যেক মেয়েই তাই চায়। যারা তা চায় না, বলব তারা মিথ্যে কথা বলে। আমি চেয়েছিলাম। মাঝে মাঝে খুব ইচ্ছে হত দেখি না চেষ্টা করে, ওর ভেতরের আগুনটা জ্বালাতে পারি কিনা। তাই এক সময় বলতাম, ‘তোমার দ্বারা কিচ্ছু হবে না। নূর হোসেন, তুমি খুবই সাধারণ’।
ও হাসত। বলত, ‘এক্কেবারে ঠিক। এত সুন্দরভাবে, এত স্পষ্ট করে কেউ আমাকে আমার সম্বন্ধে কিছু বলেনি। সে জন্যেই আমার এত ভালো লাগে তোমাকে’। আমি কিন্তু হাসতাম না বরং বলতাম, ‘তুমি হাসছ? তোমার কিছু করার নেই আর?
‘হ্যাঁ, হ্যাঁ থাকবে না কেন? এই তো দেখ না, সব ছক করে রেখেছি’ হাতের পাঁচটা আঙুল ধরত, তারপর এক একটা আঙুল মুড়ে মুড়ে বলত ‘এক), সামন্য একটু অভাব থাকবে এ রকম একটা চাকরী। দুই)…
‘অভাব থাকবে এ রকম চাকরী কেন’? আমি থামিয়ে দিতাম।
‘বাঃ তাছাড়া অলস হয়ে যাব না? তখন তো অন্য কাজে উৎসাহই আসবে না।
সুখ থাকলে কাজের স্পৃহা থাকে’।
এ কথা শুনলেই আমি আনমনা হয়ে যেতাম। তখনই টের পেতাম ওর মধ্যে কি যেন একটা আছে। সেটাই কি আগুন? আমি অবশ্য ওকে আমার মনের ভাবটা বুঝতে দিতাম না। বলতাম, ‘বেশ তারপর’?
দ্বিগুণ উৎসাহে বলে চলত, ‘তারপর আর কি–দুই), চাকরী পেয়ে বাবা মাকে সুখে রাখা। তিন), কিছু টাকা জমিয়ে টুম্পা নামের মেয়েটিকে বিয়ে করা এবং চার),… একটু থেমে আমার দিকে তাকাত। একটা দুষ্টুমীর রুমাল মুখে ছড়িয়ে বলত, ‘বলব না কিন্তু চার নম্বরটা?’ আমি চুপ করে থাকতাম। সত্যি কথা বলতে কি, আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের দেখা স্বপ্নটা আমার চোখের ওপর সে সময় ভেসে উঠত। কিন্তু ওকে টের পেতে না দিয়ে আমি, তখন হতাশ স্বরে বলতাম, ‘ব্যশ এই? আর কিছু নেই তোমার করবার?’
‘আর কি করব?’
‘আর কিছু নেই? শুধু এই তোমার কাজ একটা গোটা জীবনের’?
‘নাঃ আর কিছু নেই। দ্যাখো টুম্পা, আমি খব সাধারণ ছেলে। বড় কিছু ভাববার মতো আমার মন নেই। খুব সাধারণ ছেলে বলেই, সাধারণ ভাবে জীবনটাকে কাটিয়ে দিতে পারলেই আমার তৃপ্তি। আমি স্বার্থপরের মতো আমার কাজগুলো যেন করতে পারি। আর দশজনকে নিয়ে ভাববার মতো সময় নেই, প্রয়োজনও নেই। যারা আর দশজনের কথা ভেবে স্বার্থত্যাগী হতে চায় আমি তাদের দলের নই, হতে চাইও না। কারণ আমি জানি অত বড় হবার মতো আমার যোগ্যতা নেই’।
‘যদি বলি আছে!’
‘বলব–তুমি অন্ধ। কারণ আমি জানি, আমি কি!’
‘নূর হোসেন’ তুমি সত্যিই সাধারণ। আমি চীৎকার করে উঠতাম।
কি আশ্চর্য! একটু আগে ওর লাশটা নিয়ে গেল, এর মধ্যেই এসব কথা ভাবতে শুরু করেছি। এসব ভাববার তো অফুরন্ত সময় আছে, এখনই এসব ভাবছি কেন? বুঝতে পারছি, ওর মৃত্যুর জন্য পরোক্ষভাবে নিজেকে দায়ী মনে হচ্ছে। অসাধারণ করে তুলতে চেয়েছিলাম তো–তাই দেখিয়ে দিযে গেল। বারবার বলতাম তো ‘নূর হোসেন তুমি সাধারণ, নূর হোসেন তুমি সাধারণ, তুমি একদম সাধারণ’। সে কথারই পুরস্কার দিয়ে গেল আজ। আজ? আজ কি? না আরও আগে থেকে পুরস্কার দেওয়া শুরু করেছিল যা সাঙ্গ হল আজ? তাই বোধ হয়। সেদিন যখন বললাম, ‘নূর হোসেন, জীবনের আরও কিছু মানে আছে, তোমার মতো সাধারণ ছেলে তা ধরতে পারে না। তুমিও পারলে না–এটাই আমার বেদনা। তোমার দ্বারা সত্যিই কিছু হবে না নূর হোসেন।— একথা বলবার পরেই ওর দিকে তাকিয়ে অবাক হয়ে গেলাম। ওকে আমি চিনতে পারছি না। মৃদুস্বরে বললাম, ‘তুমি কি কিছু মনে করলে’?
ও সে কথার জবাব না দিয়ে বলল, ‘টুম্পা তুমি বার বার বলবে আমার দ্বারা কিছু হবেনা, দেখো–একথা বার বার বললেই আমি কিছু একটা করতে পারব?
আমি কেঁপে উঠলাম। জয়ের আনন্দে। আমি নূর হোসেনকে আবিষ্কার করতে পেরেছি, ওর ভেতরের আগুনটাকে জা¡লিয়ে দিতে পেরেছি। এত আনন্দ আমি রাখব কোথায়? আমার আনন্দের ভাগী কে হতে পারবে? কোন মেয়ে আছে আর টুম্পার চেয়ে সুখী? তবুও কান্না পেল নূর হোসেন-এর কথা শুনে। কিন্তু কাঁদলে চলবে না। বারবার চীৎকার করে বলতে ইচ্ছে করছিল, ‘নূর হোসেন তুমি আর সাধারণ নও’। কিন্তু পারলাম না।
তারপর? তারপর আর কি? আগুন দেখতে চেয়ে ছিলাম। দেখলাম। আগুন জ্বালাবার মন্ত্র শিখেছিলাম, কিন্তু নেভানোর মন্ত্র জানতাম না। তাই আগুন বাড়তে শুরু করল। আর সে জন্যেই, ও যখন একদিন আমাদের বলল, ‘তোরা বিশ্বাস করিস বাংলাদেশের রাজনীতিটা রক্ত শুন্যতায় ভুগছে? আমি বাদে আর সবাই হেসে উঠল। সে দিনটা শাড়ীর আঁচলের মতো, আমার সামনে উড়ে বেড়ায় অহরহ। ওকে আমি ওদের থেকে আলাদা করে নিয়ে নির্জনে বললাম, ‘তোমার কি হয়েছে নূর হোসেন ?’
‘টুম্পা, তুমি বিশ্বাস করো রাজনৈতিকভাবে বাংলাদেশটা রক্তশূন্যতায় ভুগছে?’
‘বিশ্বাস করি, নূর হোসেন; নিদারুণভাবে বিশ্বাস করি।’
‘টুম্পা, আজকাল, আমি একটা স্বপ্ন দেখি। স্বপ্নটা এ রকম, আমি যেন….’
শুনেছিলাম সেদিন ওর স্বপ্নের কথা। আমি কেমন যেন হয়ে গেলাম সেই স্বপ্নের কথা শুনে। নিজেকে এই প্রথম ধিক্কার দিতে ইচ্ছে করল। কেন এ রকম স্বপ্ন দেখল নুর হোসেন? কে দেখাল এই স্বপ্নটা? আমার চোখ ঠেলে কান্না বেরিয়ে আসতে চাইল। এই প্রথম আমি কাঁদলাম। কাঁদতে কাঁদতে বললাম, ‘নূর হোসেন আমি কি তোমায় হারাচ্ছি?
‘হয়তো না, হয়তো আমাকে আরও বেশি করে পাচ্ছ।’
কোন উত্তর দিতে পারিনি। শুধু মনে মনে বলেছি, ‘তাই যেন হয় নূর হোসেন, তাই যেন হয়।’
আর আমি নূর হোসেনকে বেঁধে রাখিনি। বার বার মনটা চেয়েছে ওকে ধরে রাখতে। কিন্তু কে যেন বাধা নিয়েছে, ধমক দিয়ে বলেছে, ‘ছিঃ টুম্পা , তুমি না আগুন দেখতে চেয়েছিলে।’
তারপর কি করে যে, দিন রাতগুলো চলে গেল একের পর এক। কখন যে ছেলেটা দশের মধ্যে মিশে গিয়ে দশের মধ্যে এক হয়ে গেল-টেরও পেলাম না। কতদিন যে ওকে দেখিনি! ওকে এক মুহূর্তের জন্য দেখবার আশায় ছট্ফট্ করেছি। বোধ হয় ও টের পেয়েছিল আমার মনের কথা। তাই আজ সকালে ওকে দেখলাম।
দেখলাম? দেখলাম কি? একে কি দেখা বলে? এ রকমভাবে দেখতে চেযেছিলাম? মনে হচ্ছে যেন দেখিনি। যাকে দেখেছি সে নূর হোসেন নয়। অন্য কেউ । কে সে? কি নিষ্পাপ মুখে শুয়েছিল ছেলেটা চিৎ হয়ে। কে বলবে ওর পিঠে একটা সীসার গোলক ঢুকে আছে? ওর পবিত্র শিশুর মতো মুখটার দিকে আমি তাকিয়ে ছিলাম অপলক দৃষ্টিতে। ভাবতে ভলো লাগছিল, ও একটা দারুণ স্বপ্ন দেখতে দেখতে শেষ দিনগুলো কাটিয়ে গেছে। ওকে দেখতে দেখতে ছেলেবেলায় পড়া বাবরের গল্পটা মনে পড়ে গেল। সেই যে বাবর নাকি তার অসুস্থ ছেলেকে ভালো কররার জন্য আল্লার কাছে প্রার্থনা জানিয়েছিল, যেন তার ছেলের অসুখ বাররের অঙ্গে চলে যায়, যাতে তার ছেলে ভাল হয়ে ওঠে। খুব জানতে ইচ্ছে করছিল, নূর হোসেন নামের সাধারণ ছেলেটারও এ রকম কিছু অভীপ্সা ছিল কি না। ওকে জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছে করছিল, ‘নূর হোসেন তুমিও কি বাংলাদেশের রক্তশূন্যতার রোগ নিয়ে চলে গেলে? চলে গেলে নূর হোসেন? গেলে কি?’
ওর চার বন্ধু ওর লাশটা কাঁধে তুলল। শেষবারের মতো ওকে আমি দেখলাম। তারপর ধীরে ধীরে বেরিয়ে গেল ওরা। নূর হোসেন যেন যাবার আগে বলে গেল, ‘দেখলে তো যত সাধারণ আমাকে ভেবে ছিলে, তত সাধারণ আমি নই।’

বাকিটুকু
আমরা হাঁটছি। আমি, আয়ুব, ইসমাইল এবং সেলিম। আমাদের কাঁধে একটা লাশ। একটা সাধারণ ছেলের লাশ। আমাদের বন্ধু। আমরা আল্লাহ আর রাসুলের নাম নিচ্ছি,দোয়া-দরূদ পড়ছি। চোখের পানি মুছছি থেমে থেমে। কিছুদূর যাবার পর হঠাৎ মনে হল লাশটা কার? নূর হোসেন এর কি? হালকা-পাতলা গড়নের নূর হোসেন এর লাশ এতোটা ভারী হবার কথা নয়? তাহলে…? কার লাশ ওটা, বাংলাদেশের নয় তো?

x

Check Also

দুই ঘণ্টা পর নৌ চলাচল শুরু: ঈদযাত্রা

আবহাওয়ার উন্নতি হওয়ায় ঢাকা সদরঘাট থেকে লঞ্চ চলাচল এবং শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ি রুটে ফেরি পারাপার আবারও শুরু ...