সাম্প্রতিক

নারী পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক ১০ গন্তব্য

 ছুটি কাটাতে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভ্রমণে গিয়ে আজকাল প্রায়ই নারীরা যৌন হামলা, লিঙ্গভেদ ভিত্তিক বিদ্বেষমূলক আচরণ, জ্বালাতন এবং ধর্ষণ-গণধর্ষণের মতো আরো বড় ধরণের বিপদের মুখোমুখিও হচ্ছেন। ভারতে প্রতি বিশ মিনিটে একজন নারী যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। তুরস্ক এবং মরক্কোও আপনি যতটা ভাবছেন ঠিক ততটা নিরাপদ নয়। এছাড়া বোগোটা, মেক্সিকো সিটি এবং লিমাও বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ শহরগুলোর তালিকায় রয়েছে।

ডেইলি মেইল অনলাইনের এক প্রতিবেদন অবলম্বনে এখানে নারীদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ১০টি বিপজ্জনক ভ্রমণ স্পটের বিবরণ তুলে ধরা হল।
নারী পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক ১০ গন্তব্য

১. ভারত: গত কয়েকবছর ধরে ভারতে স্থানীয় এবং বিদেশি পর্যটক নারীদেরকে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো ঘটনা আশঙ্কাজনকহারে বেড়ে গেছে। দেশটিতে প্রতি বিশ মিনিটে একজন নারী যৌন হয়রানির শিকার হন। ভারতের ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ড ব্যুরোর হিসেব মতে ২০১০ সাল থেকে ভারতে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার হার ৭.১ শতাংশ বেড়ে গেছে। চলতি মাসের শুরুতেই উত্তর ভারতে এক জাপানি নারী পর্যটককে নেশা খাইয়ে গণ-ধর্ষণ করা হয়।

২. ব্রাজিল : বিশ্বের সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন ভ্রমণ স্পটগুলো রয়েছে ব্রাজিলে। কিন্তু দেশটিতে সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্র এবং ইতর পুলিশের হাতে নারীরা প্রায়ই সহিংসতার শিকার হন।
ব্রাজিলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসেব মতে, ২০০৯ এবং ২০১২ সালের মধ্যে দেশটিতে ধর্ষণের হার বেড়ে গেছে ১৫৭ শতাংশ। দুই বছর আগে একটি পাবলিক বাসে এক মার্কিন নারী পর্যটককে ধর্ষণ করা হয়। এসময় তার ছেলে বন্ধুকে হ্যান্ডকাফ পরিয়ে আটকে রাখা হয়।
নারী পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক ১০ গন্তব্য

৩. তুরস্ক: গত সপ্তাহে তুরস্কের ঐতিহাসিক পর্যটন নগরী ইস্তাম্বুলে ২০ বছর বয়সী ওজেকান আসলান নামের এক নারী শিক্ষার্থীকে ধর্ষণচেষ্টার পর হত্যা করা হয়। এ ঘটনার পর তুরস্কে নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়টি পুনরায় খবরের কাগজগুলোর শিরোনামে ফিরে আসে।

৪. থাইল্যান্ড: প্রতি বছর থাইল্যান্ডে ভ্রমণের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কয়েকলাখ পর্যটক জড়ো হন। কিন্তু সম্প্রতি ব্রিটিশ পর্যটক ডেভিড মিলার ও হান্নাহ উইদারিজের হত্যাকাণ্ডের পর দেশটির সহিংস পরিস্থিতি ব্যাপকভাবে বিশ্বের নজরে আসে। হান্নাহ উইদারিজ গত সেপ্টেম্বরে কোহ তাওয়ে ধর্ষিতও হয়েছেন।
২০১৩ সালে ২০ বছর বয়সী এক স্কটিশ নারী শিক্ষার্থী তাকে গণধর্ষণ করা হয়েছে অভিযোগ করার পর সাক্ষ্য-প্রমাণের অভাবে থাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের হুমকিও দেয়!
৫. মিশর: শারম আল শেখ এবং হুরঘাদা গত কয়েকবছর ধরেই মিশরের প্রধান পর্যটন স্পট হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কিন্তু ২০১১ সালের বিপ্লবের পর থেকেই দেশটিতে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সুযোগে রাস্তাঘাটে নজিরবিহীনভাবে নারী নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে যায়।
নারী পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক ১০ গন্তব্য

৬. কলম্বিয়া : ১০ বছর আগের তুলনায় এখন অনেক নিরাপদ মনে হলেও দেশটিতে এখনো নারীর প্রতি ব্যাপক সহিংসতা বিরাজমান। ২০১৪ সালের এক জরিপে দেখা গেছে কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোটার লাল বাসের নেটওয়ার্ক বিশ্বের সবচেয়ে অনিরাপদ গণপরিবহন নেটওয়ার্ক। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, দেশটির দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ বাহিনী নারীদের রক্ষায় কোনো উদ্যোগই দেখায় না। আর দেশটির ধর্ষকদেরও কখনো ঠিকমতো বিচারের আওতায় আনা হয় না।

৭. দক্ষিণ আফ্রিকা: দক্ষিণ আফ্রিকায় দিনকে দিন পর্যটনের হার বেড়েই চলেছে। তবে পর্যটনের জন্য আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা সত্ত্বেও দেশটি বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হয়।
আর পুরো আফ্রিকা মহাদেশই খুন ও ধর্ষণের মতো যৌন সহিংসতার মহামারিতে আক্রান্ত। ২০১২-১৩ সালের মধ্যে আফ্রিকার প্রতি ১ লাখ জনসংখ্যায় ৬৬ হাজারেরও বেশি যৌন সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
৮. মরোক্কো: বিশ্বের আরেকটি জনপ্রিয় ভ্রমণতীর্থ মরক্কো। নারী অধিকারের ক্ষেত্রে দেশটি সবসময়ই পিছিয়ে ছিল। তবে ইদানিং দেশটিতে নারী পর্যটকরা সহিংসতার চেয়ে বরং বিভিন্ন ধরণের নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন বেশি। রাস্তায় খোলা-মেলা পোশাকে কোনো নারীকে দেখলেই পুরুষরা তাকে নিপীড়ন করেন।
৯. মেক্সিকো: যদিও প্রতিবছর উচ্চপর্যায়ের সেলিব্রিটিসহ লাখ-লাখ আমেরিকান নিরাপদেই মেক্সিকো ভ্রমণ করে থাকেন তথাপি দেশটির অনেক এলাকাই এখনো চরম আইনশৃঙ্খলাহীনতায় নিমজ্জিত রয়েছে। কানকুন, প্লায়া দেল ক্যামেরুন, কজুমেল, লস ক্যাবোস এবং পুয়ের্তো ভাল্লার্তার মতো বিশ্বখ্যাত পর্যটন স্পটগুলোতে হরহামেশাই বন্দুক যুদ্ধের মতো সহিংসতার ঘটনা ঘটে।
এছাড়া গণপরিবহনে নারী পর্যটকদের সহিংস ধর্ষণের শিকার হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিও রয়েছে।
নারী পর্যটকদের জন্য বিপজ্জনক ১০ গন্তব্য

১০. কেনিয়া : কেনিয়া এর বণ্য জীবন এবং সাফারি পার্কের সমন্বয়ে উত্তোরত্তর বেড়ে চলা এক বৈচিত্রময় পর্যটন ব্যবসা গড়ে তুলেছে। তবে দেশটিতে নারীদের প্রতি যে ব্যাপক পরিমাণ সহিংসতার ঘটনা ঘটে তা বিশ্ববাসীর নজরের বাইরেই রয়ে গেছে।

জাতিসংঘের নারী উন্নয়ন তহবিল বিভাগের এক প্রতিবেদন মতে, দেশটির গ্রাম ও শহরের সকল বয়স, শিক্ষাগত পর্যায় এবং সামাজিক গোষ্ঠীর সব নারীকেই সহিংসতার শিকার হতে হয়।
২০১০ সালে পরিচালিত এক জাতীয় জরিপে দেখা গেছে, দেশটির ৩২ শতাংশ মেয়ে যৌবনপ্রাপ্ত হওয়ার আগেই যৌন নিপীড়নের শিকার হয়। আর পর্যটকদের অপহরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনাও প্রায়ই ঘটে থাকে।

– See more at: http://www.dhakatimes24.com/2015/02/22/55197/%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%80-%E0%A6%AA%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%9F%E0%A6%95%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%AF-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AA%E0%A6%9C%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%A8%E0%A6%95-%E0%A7%A7%E0%A7%A6-%E0%A6%97%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A6%AC%E0%A7%8D%E0%A6%AF#sthash.CCKMyn1P.dpuf