সাম্প্রতিক

চাঙ্গা হয়ে উঠছে জ্বালানি তেলের বৈশ্বিক বাজার

আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তির দিকে রয়েছে। এ ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) জ্বালানি পণ্যটির বাজারে বিদ্যমান চাঙ্গাভাব ২০০৯ সালের একই সময়ের পর সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছে গেছে। জ্বালানি তেলের দাম ‘অত্যধিক’ বেড়ে যাওয়ার পেছনে অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) ওপর দোষ চাপিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এক টুইটে মূল্যবৃদ্ধির লাগাম টানতে জ্বালানি পণ্যটির উত্তোলন বাড়ানোর জন্য ওপেকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। তবে অনেকেই মনে করছেন, ইরান ও ভেনিজুয়েলার ওপর বিদ্যমান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে। খবর রয়টার্স ও অয়েলপ্রাইসডটকম।

সর্বশেষ কার্যদিবসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে দশমিক ৬ শতাংশ। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ডব্লিউটিআই বিক্রি হয় ৫৯ ডলার ৬৮ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৮ সেন্ট বেশি। এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে টানা চার সপ্তাহ ধরে ডব্লিউটিআইয়ের দাম চাঙ্গা রয়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি পণ্যটির দাম ৩১ শতাংশ বেড়েছে। ২০০৯ সালের একই সময়ের পর এটাই বছরের প্রথম প্রান্তিকে ডব্লিউটিআইয়ের সর্বোচ্চ মূল্য বৃদ্ধি।

এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বেড়েছে দশমিক ৫ শতাংশ। দিন শেষে ভবিষ্যতে সরবরাহের চুক্তিতে প্রতি ব্যারেল ব্রেন্ট ক্রুড বিক্রি হয় ৬৮ ডলার ১৬ সেন্টে, যা আগের দিনের তুলনায় ৩৪ সেন্ট বেশি। এর মধ্য দিয়ে বিদায়ী সপ্তাহে জ্বালানি পণ্যটির দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়েছে। একই সঙ্গে চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে জ্বালানি পণ্যটির দাম বেড়েছে ২৭ শতাংশ। ডব্লিউটিআইয়ের পাশাপাশি ২০০৯ সালের একই সময়ের পর চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে ব্রেন্ট ক্রুডের দামও সর্বোচ্চ বেড়েছে।

মূলত সরবরাহ কমে আসার জের ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে শুরু করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এর পেছনে মোটা দাগে দুটি কারণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। প্রথমত, সৌদি আরবসহ ওপেকভুক্ত দেশগুলো জ্বালানি তেলের সম্মিলিত বৈশ্বিক উত্তোলন কমিয়ে আনতে ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ এগিয়ে নিচ্ছে। রাশিয়াসহ কয়েকটি শীর্ষ উত্তোলনকারী দেশও এ উদ্যোগে সমর্থন দিয়েছে। ফলে এসব দেশ থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমেছে। এ পরিস্থিতি জ্বালানি পণ্যটির দাম বেড়ে যাওয়ার বড় একটি কারণ। অন্যদিকে নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ায় ইরান ও ভেনিজুয়েলার জ্বালানি তেল রফতানি খাত চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। নিষেধাজ্ঞার জের ধরে দেশ দুটি থেকে জ্বালানি পণ্যটির রফতানি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমার প্রভাব পড়তে শুরু করেছে আন্তর্জাতিক বাজারে।

ওপেকের কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এ বিষয়ে অনেক আগে থেকেই তিনি ওপেকের বিরুদ্ধে তির্যক মন্তব্য করে আসছেন। বৃহস্পতিবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অত্যধিক বেড়েছে। এ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওপেককে উত্তোলন বাড়াতে হবে।

যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেলের অন্যতম শীর্ষ রফতানিকারক দেশ। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পণ্যটির দাম বাড়লে ট্রাম্প প্রশাসনের খুশি হওয়ার কথা। অথচ ট্রাম্প জ্বালানি তেলের দাম কমানোর পক্ষে। এর কারণ হিসেবে সাক্সো ব্যাংকের কমোডিটি স্ট্র্যাটেজি বিভাগের প্রধান ওলি হ্যানসেন বলেন, রফতানি করার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র জ্বালানি তেলের অন্যতম বড় ক্রেতা। এ কারণে জ্বালানি পণ্যটির দাম অত্যধিক বাড়লে ভোক্তা হিসেবে সমস্যায় পড়বে দেশটি। এজন্য জ্বালানি তেলের দাম বর্তমানের তুলনায় কমিয়ে রাখতে চান ট্রাম্প।

এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা মেরিল লিঞ্চের এক নোটে বলা হয়েছে, নভেম্বরে ইরানের ওপর এবং চলতি বছর ভেনিজুয়েলার ওপর নতুন করে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ঘটনা জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজারে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছে। এ পরিস্থিতি সরবরাহ কমিয়ে জ্বালানি তেলের দাম বাড়াতে প্রভাবক হিসেবে কাজ করছে।