সাম্প্রতিক

রাবিতে ছাত্রলীগ নেতাকে বেধড়ক পিটিয়েছে জুনিয়র কর্মীরা

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) তুচ্ছ ঘটনায় এক ছাত্রলীগ নেতাকে পিটিয়েছে দলের জুনিয়র নেতাকর্মীরা। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে রাবির শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনের রাস্তায় এ ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে ক্যাম্পাসে থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

জানা গেছে, জুনিয়রদের হাতে মারধরের শিকার হওয়া ছাত্রলীগ নেতা চারুকলা অনুষদের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী সাদেকুল ইসলাম আশিক। তিনি রাবি শাখা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক এবং কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সৌমত্র কর্মকার রানার অনুসারী।

অন্যদিকে এ মারধরে অভিযুক্তরা হলেন- সহ-সম্পাদক সফিউর সাফি (ফারসি), হাসিবুল ইসলাম শান্ত (ইতিহাস), ইতিহাস বিভাগের সভাপতি শাহাদাত হোসেন। তারা সবাই দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর মধ্যে সাফি রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু এবং শান্ত সভাপতি গোলাম কিবরিয়ার অনুসারী।

এদিকে কর্মকার রানা এবং সহসভাপতি কাজী লিংকন গ্রুপ এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে মোটরসাইকেল শোডাউন করেছে। ফলে ক্যাম্পাসে এখন থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চারুকলা অনুষদ থেকে সাদিকুল ইসলাম আশিক এবং তার সঙ্গী শ্যামল দেবনাথ মোটরসাইকেলে করে আসছিল। শহীদ হবিবুর রহমান হলের এর সামনের রাস্তা দিয়ে আসার সময় সাফির মোটরসাইকেল অতিক্রম করে আসে আশিক।

বিষয়টি সাফি ও তার সাথে থাকা কয়েকজনের পছন্দ না হওয়ায় তারা হলের সামনে গিয়ে আশিকের গতিরোধ করে। একপর্যায়ে সাদেকুল ইসলাম আশিককে সাফি ও তার সাথে থাকা কয়েকজন মিলে আশিককে মারতে শুরু করে। ওই সময় আশিক নিজেকে রানার রাজনীতির সঙ্গে জড়িত বলে পরিচয় দেয়। এতে সাফির দল আরো বেশি চড়াও হয় এবং রাস্তায় ফেলে আশিককে বেধড়ক মারধর করে।

অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সাফিউর সাফি দাবি করেন, তিনি শহীদ হবিবুর রহমান হলের সামনে মোটরসাইকেলে বসেছিলেন। এসময় আশিক তাদের মোটরসাইকেলে ধাক্কা দিয়ে চলে যায়। পরে তাকে থামতে বললে, তিনি হবিবুর হলের সামনে দাঁড়ান।

এসময় তার সঙ্গে থাকা শান্ত ও শাহাদাত তাকে (আশিক) সরি বলতে বললে; আশিক তাদের সঙ্গে বাকবিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। আশিককে কোনো প্রকার মারধর করা হয়নি বলেও দাবি করেন সাফি।

জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপ-সম্পাদক সৌমত্র কর্মকার রানা বলেন, ‘বর্তমান কমিটির জুনিয়র ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা প্রায়ই ঝামেলা সৃষ্টি করছে। এর আগেও সিনিয়র নেতাকর্মী ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মারধরের অনেক অভিযোগ রয়েছে।’ কমিটিতে যারা বড় পদে আছেন, তাদের কয়েকজনের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে একদল জুনিয়র নেতাকর্মী এ ধরনের অপকর্ম করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এ বিষয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক যদি ব্যবস্থা না নেন তবে আমরা যারা সিনিয়র নেতাকর্মী আছি; তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবো। এর সুষ্ঠু মীমাংসা না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কোনো কর্মকান্ড হতে দিবো না।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। তবে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। সভাপতির সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর ভবিষ্যতে যেন এধরণের ঘটনা না ঘটে সেই বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়া হবে।’ তবে তিনি সিনিয়র নেতাকর্মীদের প্রশ্রয়ে জুনিয়র নেতাকর্মীরা এমন আচরণ করছে বিষয়টি অস্বীকার করেন রুনু।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায়ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীকে বাপ্পীকে মারধর করেন সংস্কৃত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের জুনিয়র কয়েকজন ছাত্রলীগকর্মী। এই ঘটনায় বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন।