সাম্প্রতিক

জিম্মি রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

 কিছু ব্যক্তির নিজস্ব চাওয়া-পাওয়ার কারণে জিম্মি হয়ে পড়েছে রংপুরবাসীর স্বপ্নের বিদ্যাপিঠ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়। অচলাবস্থা তো কাটছেই না বরং দিন দিন অবস্থা আরও জটিল আকার ধারণ করছে। এতে  ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছে রংপুরের সচেতন মহল। আগামী শুক্রবারের মধ্যে শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন স্বাভাবিক এবং চলমান সংকট নিরসন না হলে শনিবার থেকে আন্দোলনে যাবার হুমকি দিয়েছেন স্থানীয়রা।

ইউজিসির নিয়মের বাইরে হওয়ায় কিছু শিক্ষকের দাবি পূরণ না হওয়া, উপাচার্যের প্রতি অসহযোগিতা, সর্বশেষ উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে গত বছরের ২৭ অক্টোবর শুরু হওয়া চলমান আন্দোলনে বলি হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়পড়–য়া সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবন। সেই সাথে ভর্তিচ্ছু সাড়ে ৯৭ হাজার শিক্ষার্থীও রয়েছেন ঘোর অন্ধকারে। কবে হবে চলতি সেশনের ভর্তি পরীক্ষা তাও নিশ্চিত নয় কেউ। ফলে জিম্মি হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি।
২০০৮ সালের ১২ অক্টোবর চালু হওয়া বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ৬টি বিভাগ নিয়ে পুরোদমে কার্যক্রম শুরু হয় ২০০৯ সালের ৮ এপ্রিল। পরবর্তী সময়ে ৬টি বিভাগ থেকে ২১টি বিভাগে উন্নীত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, পারিবারিককরণ এবং দুর্নীতির অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২য় উপাচার্য ড. আব্দুল জলিল মিয়াকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছিল। ওই অনিয়মের জের এখনও আছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। বর্তমান উপাচার্য ড. একেএম নূর উন নবী ওই সময়ে নিয়োগ পাওয়া অধিকাংশ কর্তকর্তা কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী করলেও এখনও নিয়ম বহির্ভূতভাবে নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর চাকরি স্থায়ী হয়নি। তারাও আন্দোলনে রয়েছেন।
গত ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদও বেরোবি ক্যাম্পাসে শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করেন এবং দ্রুত চলমান সংকট নিরসনের আহ্বান জানান।
এর আগে রংপুর সিটি মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টুও সংকট নিরসনের জন্য আহ্বান জানিয়েছিলেন। কিন্তু ফলাফল শূন্য।
রংপুর সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ মোস্তাফিজার রহমান মোস্তফা বলেন, সচেতন মহলের পক্ষ থেকে গত শুক্রবার দুপক্ষের সাথে আলোচনা হয়েছে। সঙ্কট নিরসনে আগামী শুক্রবার পর্যন্ত দু’পক্ষকে আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে। সমাধানে উভয় পক্ষ ব্যর্থ হলে আগামী শনিবার রংপুরের বিভিন্ন স্তরের মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বেরোবি’র শিক্ষা কার্যক্রম চালুর জন্য আন্দোলন শুরু হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম নুর-উন-নবী  বলেন, আমি তো কোনো অনিয়ম করিনি। অনিয়ম করলে সরকার আমাকে সেখান থেকে প্রত্যাহার করে নিক। সরকারের বাইরে আমি তো কারো অন্যায় আবদার পূরণ করতে পারবো না।
উপাচার্য বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় যাতে ভালোভাবে চলে তাতে আমার প্রচেষ্টার কমতি কখনও ছিল না, এখনও নেই। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ, ৮১টি পদ সৃষ্টি, শিক্ষক-কর্মচারীদের বকেয়া বেতন পরিষদে ৭৬ লাখ টাকা এনেছি। কিন্তু কিছু শিক্ষক ক্লাস বর্জন, প্রশাসনিক ভবনে তালা লাগিয়েছেন। আমাকে অফিস করতে দিচ্ছেন না। তারা তো বিশ্ববিদ্যালয়কে অসহযোগিতা করছেন। আমার বিরুদ্ধে কেন আন্দোলন? কী অনিয়ম করেছি। আমাকে এখানে সরকার বসিয়েছে। সরকারের নিয়মের বাইরে তো আমি যেতে পারি না। কিন্তু এর পরেও আন্দোলন কেন? আমি তো নিয়মের মধ্যে থেকেই সব সমস্যা সমাধান করতে চাই। দ্রুত এর সমাধান হবে বলেও জানান ড. নবী।