সাম্প্রতিক

অভিভাবকের অনুরোধে আলমডাঙ্গার মাদ্রাসার আলোচিত আটক শিক্ষক মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেন

আলমডাঙ্গার মাদ্রাসা তুত তাকওয়ার বহিষ্কৃত আলোচিত শিক্ষক মীর মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদীকে আটক করে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শিক্ষককে পুলিশ আটক করে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের সামনে উপস্থিত করলে ভবিষ্যতে এ ধরণের অপরাধ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা দেয়। সম্প্রতি আলমডাঙ্গার একটি কওমী মাদ্রাসার কিছু শিক্ষার্থি পড়া না পারলে শিক্ষক আফ্রিদী তাদেরকে রোডে নিয়ে গিয়ে রোদে কান ধরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখেন। এ দৃশ্য অনেকেই মোবাইলফোনে ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দেয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় উঠে।
জানা গেছে, আলমডাঙ্গা শহরের আনন্দধাম এলাকায় মাদ্রাসা তুত তাকওয়া অবস্থিত। মাত্র ১৮ জন ছাত্র রয়েছে এ কওমী মাদ্রাসায়। ৩ জন শিক্ষক। প্রধান শিক্ষকসহ ২ জন শিক্ষক ধর্মীয় শিক্ষা দেন। বাংলা, ইংরেজী ও গণিত শিক্ষা দেন আলমডাঙ্গা সরকারি কলেজের ডিগ্রী অধ্যয়নরত ছাত্র কলেজপাড়ার মীর মিনহাজুল আবেদীন আফ্রিদী। মাসিক মাত্র ৬ শ টাকার বিনিময়ে তিনি শিক্ষকতা করেন। গত সোমবার মাদ্রাসার ১০ শিক্ষার্থির পড়া না হওয়ায় শিক্ষক আফ্রিদী তাদের মাদ্রাসা থেকে হাইরোডে নিয়ে যান। রোদের ভেতর কান ধরিয়ে শাস্তি দেন। এ দৃশ্য মোবাইলফোনে ধারণ করে অনেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা ছড়িয়ে দেন। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
বিষয়টি জানার পর গতকাল উপজেলা নির্বাহি অফিসার রাহাত মান্নান ওই মাদ্রাসায় উপস্থিত হন। তিনি নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থি, এলাকাবাসি ও শিক্ষকদের সাথে কথা বলেন। প্রধান শিক্ষক মাওলানা মাহদী হাসান বলেন, ঘটনাটি দু;খজনক ও অন্যায়। ইতোমধ্যে ওই অভিযুক্ত শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আফ্রিদীকে আটক করে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের সামনে উপস্থিত করে। ডেকে নেওয়া হয় নির্যাতনের শিকার শিক্ষার্থিদের কয়েকজন অভিভাবককে। উপজেলা নির্বাহি অফিসার অভিভাবকদের অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দিতে বললে তারা তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বলেন, তারা তাদের সন্তানদের শিক্ষার জন্য শারীরিক শাস্তি দিতে বলেছেন। তাছাড়া ওই শিক্ষক নিজেও ছাত্র। সেকারণে তাকে ক্ষমা করে দিতে উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট অনুরোধ করেন। এক পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহি অফিসার মুচলেকা নিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে ছেড়ে দেন। ভবিষ্যতে কোমলমতি শিক্ষার্থিদেরকে তিনি কখনও শারীরিক নির্যাতন ও অপমানিত হয় এমন আচরণ করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকায় স্বাক্ষর করেন অভিযুক্ত শিক্ষক। এ সময় উপজেলা নির্বাহি অফিসার সরকারি বিধি অনুসারে মাদ্রাসা পরিচালনার নির্দেশ দেন শিক্ষকদের। শিক্ষা অফিসকেও মাদ্রাসাটিকে দেখভাল করতে বলেন তিনি।