আলমডাঙ্গায় দেশীয় প্রজাতির ১৮টি ঘুঘু পাখি ফিরে গেল প্রকৃতির ন্যায্য আবাসে

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় শিকারীর হাত থেকে দেশীয় প্রজাতির ১৮টি ঘুঘু পাখি উদ্ধার করে প্রকৃতির ন্যায্য আবাসে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। শনিবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার হাড়গাড়ি এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আলমডাঙ্গা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সদস্যরা ঘুঘু পাখিগুলো শিকারীদের ফাঁদ থেকে উদ্ধার করেন। পরে রবিবার (২৩ নভেম্বর) সকালে উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব ঘুঘু পাখিকে অবমুক্ত করা হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশীষ কুমার বসু ঘুঘু পাখিগুলো অবমুক্ত করেন। তিনি বলেন, বন্যপ্রাণী নিধন আমাদের পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। ঘুঘু পাখির মতো নিরীহ প্রাণীরা প্রকৃতির স্বাভাবিক চক্রের অংশ, তারা পরিবেশকে পরিশুদ্ধ রাখতে ভূমিকা রাখে। তাদের নির্বিচারে শিকার একদিকে যেমন আইনবিরোধী, অন্যদিকে আমাদের ভবিষ্যৎ পরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। আজ যে সচেতন তরুণরা শিকারীদের হাত থেকে পাখিগুলোকে উদ্ধার করেছেন, এটি অত্যন্ত প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এ ধরণের কাজে সমাজের প্রতিটি মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে। প্রকৃতির প্রতি আমাদের দায়িত্ববোধই আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করবে।
ঘুঘু পাখি অবমুক্তকালে উপস্থিত ছিলেন আলমডাঙ্গা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সভাপতি সাঈদ এম হিরোন, উপদেষ্টা সাদ্দাম খান, সাংগঠনিক সম্পাদক আরাফাত রহমান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহমুদুল হাসান, দপ্তর সম্পাদক আল রাব্বি, কোষাধ্যক্ষ আতিকুজ্জামান মেরাজ, সদস্য স্বাধীন আহমেদ, নাসিম, সিয়াম, রবিন, রাব্বি, তীব্র, বাদশাসহ আরও অনেকে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, যশোর থেকে আসা একটি শিকারী চক্র বাঁশের লাঠির মাথায় ঝুলন্ত খাঁচার মধ্যে মা ঘুঘু পাখি রেখে ফাঁদ পাতে। মা পাখির করুণ সুরে আশপাশের ঘুঘুরা তাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে এলে খাঁচার ভেতরে ঢুকে আটকা পড়ে। শনিবার দুপুরে তিনজন শিকারী এই ফাঁদে ঘুঘু শিকার করছিল। হাড়গাড়ি গ্রামের সচেতন নাগরিক জাহিদুল ইসলামের ফোনের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সদস্যরা। তাদের উপস্থিতি টের পেয়ে শিকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া দিলে দুইজন শিকারী শিকার করা ১৮টি ঘুঘু পাখি ও ব্যবহৃত সরঞ্জাম ফেলে পালিয়ে যায়। অপর একজন তার শিকারসহ পালাতে সক্ষম হয়। উদ্ধার করা পাখিগুলো উপজেলা পরিষদ চত্বরে এনে প্রকৃতির বুকে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়।
আলমডাঙ্গা জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ যুব সংস্থার সভাপতি সাঈদ এম হিরোন বলেন, প্রকৃতিকে রক্ষা করা আমাদের নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব। বন্যপ্রাণীরা শুধু পরিবেশের অংশ নয়, তারা প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ঘুঘু পাখিগুলোকে উদ্ধার করে অবমুক্ত করতে পেরে আমরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও এমন অভিযানে আমরা আরও শক্তভাবে কাজ করবো। সমাজের তরুণদেরও এগিয়ে এসে প্রকৃতি রক্ষার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানাই।












