সাম্প্রতিক

৬ ফ্রেব্রুয়ারি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচি

‘ভোট ডাকাতির’ প্রতিবাদে ৬ ফ্রেব্রুয়ারি বিকাল ৩ টা থেকে চারটা পর্যন্ত জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে কালোব্যাজ ধারণ কর্মসূচিতে দলমত নির্বিশেষে সবাই উপস্থিত হওয়ার আহবান জানিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

সোমবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পুরানা পল্টন জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ফ্রন্টের সমন্বয়ক কমিটির বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ আহবান জানান ঐক্যফ্রন্ট নেতা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুস সালাম।

আব্দুস সালাম বলেন, যেহেতু ৩০ ডিসেম্বর দেশের জনগণ ভোট দিতে পারে নাই, সেজন্য সকল দলমত নির্বিশেষে ঐক্যফ্রন্টের বাইরেও যারা আছেন, সবাইকে এ ব্যাপারে সোচ্চার হওয়ার আহবান জানাই। এই ভোট ডাকাতির প্রতিবাদে ৬ ফেব্রুয়ারি প্রেসক্লাবের সামনে এক ঘন্টা কালো ব্যাজ ধারণের কর্মসূচি দিয়েছি।

তিনি বলেন, আমরা চাই জনগণ ভোট দিতে না পারার যে ক্ষোভ সেটা প্রকাশের জন্য সবাই এই কর্মসূচির সাথে সম্পৃক্ত হয়। সবাইকে বলবো বেলা তিনটার মধ্যে সবাই যাতে সমবেত হয়ে কালো ব্যাজ ধারণ করেন। আর ২৪ ফেব্রুয়ারি গণশুনানীর কর্মসূচি আছে। ওই কর্মসূচির স্থান ও সময় পরে জানানো হবে।

তিনি বলেন, এই দুটি কর্মসূচি সার্থক করার জন্য মূলত আজকে আমাদের বৈঠক হয়েছে। আমাদের ফ্রন্টের যে দলগুলো আছে তাদের নিয়ে আলোচনা করেছি যে কিভাবে সফল করা যায়।

তিনি বলেন, নির্বাচনে প্রথম থেকে বার বার বলে আসছিলাম নির্বাচনের মাঠে ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীরা সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। নির্বাচন কমিশনকে বার বার বলার পরও তারা ভ্রক্ষেপ করেনি। তারপরও আমরা নির্বাচনে ছিলাম কারণ আমরা বোঝাতে চেয়েছি বিশ্ববাসী যাতে বিভ্রান্ত না হয় যে ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন চায় না। তারা নির্বাচন ছেড়ে দিয়েছে। আমরা সেজন্য নির্বাচন ছেড়ে দেই নাই। কিন্তু নির্বাচনের দিন সকাল ৭টা থেকে কেন্দ্র দখল করে ভোট দিয়েছে এগুলো নতুন করে বলার কিছু নাই। ৩০ তারিখে নির্বাচন তারা ২৯ তারিখে করেছে।

দেশের জনগণসহ সারা পৃথিবী হতবাক হয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, এদেশে ভোটের নামে যে প্রহসন হয়েছে সেকারণে অন্তত একটা জিনিস প্রতিষ্ঠিত হয়েছে যে জনগণসহ সারাবিশ্ববাসী আর কেউ কখনও বলবে না আওয়ামী লীগের অধীনে জাতীয় নির্বাচন হোক। বা অন্য কোনো নির্বাচন হোক। অন্তত ঐক্যফ্রন্ট বিএনপি কাউকে বলবে না, যে আপনারা নির্বাচনে যান। সবাই দেখেছে আওয়ামী সরকারের অধীনে নির্বাচন হতে পারে না।

তিনি বলেন, যেহেতু কোনো ভোট হয়নি সেহেতু আমরা এই ভোট প্রত্যাখান করেছি। তারা এখন পর্যন্ত চেষ্টা করছে ঐক্যফ্রন্টের কাউকে কাউকে নিয়ে শপথ পাঠ করিয়ে জনগণ বা বিশ্ববাসীকে দেখানো যায় কি না। কিন্তু ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ আছে। আমাদের ঐক্যফ্রন্টের কেউ কোনো শপথতো প্রশ্নই আসে না।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুরোনো কথাই নতুনভাবে আসছে। আওয়ামী লীগের অধীনে কোনোভাবেই নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব না, সেটা ৩০ ডিসেম্বর প্রমাণ হয়েছে। সেটার জন্য এই কর্মসূচি দেওয়া হয়েছে। শান্তিপূর্ণ এই কর্মসূচিতে জাতীয় নেতৃবৃন্দ আসবেন। দেশবাসীকে জানিয়ে দিলাম, এটা যাতে সফল হয়, এজন্য সবার সহযোগিতা চাই।

সারাদেশে প্রার্থীদের মামলা করার কথা ছিল, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন কি না জানতে চাইলে আব্দুস সালাম বলেন, না আমরা সিদ্ধান্ত থেকে সরি নাই। প্রার্থীদের বলা হয়েছিল যারা মনে করেন, তারা মামলা করতে পারেন। এটা ম্যান্ডেটরি করে দেওয়া হয়নি। আজকে আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনকে জায়েজ করার জন্য সরকারের প্রতিটা প্রতিষ্ঠানকে তারা দলীয়করণ করেছে।

কোনো প্রতিষ্ঠানই স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে না। পুলিশ, নির্বাচন কমিশন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে নাই। কাজেই ট্রাইব্যুনাল গঠিত হলে সেটাও যে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে এ ব্যাপারে মনের মধ্যে সন্দেহ আছে।

সারা দেশের কোথাও কোনো প্রার্থী মামলা করেছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, সময় শেষ হলে পরে জানাতে পারবো। এসময় তার পাশে থাকা গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক বলেন, কয়েকজন করেছে। তখন আব্দুস সালাম বলেন, আরও ১১দিন বাকি আছে তারপর জানাবো।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী আবুল বাশার, নবী উল্লাহ নবী, গণফোরাম নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক, রফিকুল ইসলাম পথিক, জেএসডির নেতা মমিনুল ইসলাম, বিকল্প ধারার মহাসচিব শাহ আহমদ বাদল, জনদলের চেয়ারম্যান গোলাম মাওলা চৌধুরী, জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের দফতর সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু প্রমুখ।