সাম্প্রতিক

২০ দলে আরও ‘উইকেট পতনের’ অপেক্ষায় কাদের

বিএনপি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নামে নতুন জোট গড়ার পর তার আগের জোট ২০ দল থেকে দুটি দল চলে যাওয়ার পর আরও ভাঙন দেখার অপেক্ষায় ওবায়দুল কাদের। বলেছেন, সামনের দিনগুলোতেই সব স্পষ্ট হবে।

বুধবার দুপুরে নিজ নির্বাচনী এলাকা নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাটে পুজামণ্ডপ পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদেরকে এ কথা বলেন ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক।

গত ১৩ অক্টোবর ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যপ্রক্রিয়া, জেএসডি ও নাগরিক ঐক্য এবং বিএনপি মিলিয়ে গঠন করা হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আবার এই জোট গঠনের প্রতিক্রিয়ায় সোমবার ২০ দল থেকে বের হয়ে যায় বিএনপির এতদিনের শরিক ন্যাপ ও এনডিপি।

কাদের বলেন, ‘তেল আর পানি এক সাথে মিশে না। নানা দলের সংমিশ্রনে যে ঐক্যজোট তা ভাঙনপ্রবণ। ভাঙনপ্রবণ ঐক্যের শুরুতে দেখা গেল, জোটের দুই দলের দুই উইকেটের পতন হয়েছে। দুই উইকেটের পতনের পর বুঝা যাবে জোট থেকে আর কত উইকেট ঝরে যাবে। তা সামনের দিনগুলোতে আরও স্পষ্ট হবে। আপাতত আমরা সেদিকেই তাকিয়ে আছি। যে রাজনৈতিক দলীয় জোটের কাফেলা এগিয়ে যাচ্ছে এর পরিণতি দেখতে হলে আরও কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে।’

সামনে জোট এবং রাজনৈতিক মেরুকরণের গতি প্রকৃতির ওপর নির্ভর করবে ১৪ দলের কর্মকৌশল ঠিক হবে বলেও জানান কাদের। বলেন, ‘আমাদের মহাজোটের সঙ্গে আরও নতুন দল যুক্ত হবে। জোটের পরিধি বাড়বে কি না, কীভাবে বাড়বে, কাদের নিয়ে বাড়বে, তা শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওয়ার্কিং কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত হবে।’

নির্বাচন আসলে নানা রাজনৈতিক সমীকরণ হয় জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, তিনি চারটির অধিক জোটের গন্ধ পাচ্ছেন। এদের মধ্যে অনেক মেরুকরণ, এদিক থেকে ওদিক, ওদিক থেকে এদিক হবে। এ খেলা জাতীয় নির্বাচন আসলে চলে।

‘এ খেলায় কখনও কখনও ভাঙনের বাজনাও বাজে, সেটাও স্বাভাবিক। সামনের দিনগুলোতে আরও রাজনৈতিক মেরুকরণ হবে, আরও রাজনৈতিক সমীকরণ হবে। নতুন নতুন মাত্রা যুক্ত হবে। কখনও মেকিং অ্যান্ড ব্রেকিং, কখনও আবার মেকিং হবে, আবার কখনও ব্রেকিংও হবে। এ অবস্থা নির্বাচন তফসিল ঘোষণার পর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া পর্যন্ত এ খেলা চলতে থাকবে।’

এই জোট গঠনকে স্বাগত জানানোর কথাও বলেন কাদের। বলেন, ‘কারণ শত ফুল ফুটবে, এটাই তো গণতন্ত্র। সেদিক থেকে এসব জোটগত দলবদ্ধ হওয়া, বিভিন্ন জোটে শামিল হওয়া নিয়ে আমাদের কোন বিরুপ মন্তব্য নেই। কাজেই শেষ পর্যন্ত কী অবস্থা দাঁড়ায় সমীকরণও জোটের সে জন্য সকলকে অপেক্ষা করতে হবে।’

কামাল হোসেনের নেতৃত্বে যুক্তফ্রন্টের তোলা সাত দাবি মানা সম্ভব নয় বলেও সাফ জানিয়ে দেন কাদের। বলেন, ‘ঐক্যজোটের সাত দফা অযৌক্তিক, অবাস্তব ও অসাংবিধানিক। এ সাত দফা নতুন আরেক ষড়যন্ত্র। আগামী ১৫ দিন পরেই নির্বাচনের তফসিল, এর মধ্যে সাত দফা মানার কোন যুক্তি ও বাস্তবতা নেই। জাতীয় ঐক্যজোট হলো একটা জগাখিচুড়ি। তারা আসলে নির্বাচন করবে নাকি নির্বাচন বানচাল করার জন্য এ জোট করেছে তাও দেখার বিষয়।’

বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান লন্ডনে পলাতক থাকায় বিএনপির নতুন নেতার দরকার ছিল বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। বলেছেন, এ কারণেই তারা ড. কামাল হোসেনের কাঁধে ভর করেছে।

নোয়াখালী জেলা প্রশাসক তন্ময় দাস, পুলিশ সুপার ইলিয়াছ শরীফ, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, সাংগঠনিক সম্পাদক ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বাদল, ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, জেলা আওয়ামী লীগের শিল্প বাণিজ্য সম্পাদক নাজমুল হক নাজিম, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হাজী মুক্তিযোদ্ধা খিজির হায়াত খান, সাধারণ সম্পাদক নুরনবী চৌধুরী প্রমুখ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

ম-পে আসা পূজারীদের কাদের বলেন, ‘আপনাদের শত্রু নিরীহ মুসলমানেরা নয়। আপনাদের শত্রু সাম্প্রদায়িক শক্তি। সাম্প্রদায়িক শত্রু যে দলেরই হোক, যে রূপেই হোক, এরাই হচ্ছে আপনাদের শত্রু এবং আমাদেরও শত্রু। সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের সকলের নির্ভরযোগ্য ঠিকানা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা।’

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না