সাম্প্রতিক

২০ অক্টোবর আলমডাঙ্গায় আসছেন তথ্যমন্ত্রি হাসানুল হক ইনুঃ নির্বাচন সম্পর্কে কী ম্যাসেজ দেবেন তিনি?

 ২০ অক্টোবর আলমডাঙ্গায় আসছেন তথ্যমন্ত্রি হাসানুল হক ইনুঃ নির্বাচন সম্পর্কে কী ম্যাসেজ দেবেন তিনি?


২০ অক্টোবর আলমডাঙ্গায় আসছেন তথ্যমন্ত্রি হাসানুল হক ইনুঃ নির্বাচন সম্পর্কে কী ম্যাসেজ দেবেন তিনি?

রহমান মুকুলঃ আগামি ২০ অক্টোবর আলমডাঙ্গায় আসছেন তথ্যমন্ত্রি জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু। আলমডাঙ্গা উপজেলা জাসদ আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেবেন তিনি।

তথ্যমন্ত্রির এ জনসভাকে কেন্দ্র করে দলীয় নেতাকর্মিরা বেশ সক্রীয় হয়ে উঠেছেন। স্থানীয় জাসদ নেতৃবৃন্দ এ জনসভা সফল করতে, জনসভায় জনসমাগম ঘটাতে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামে ছোট ছোট মতবিনিময়সভার আয়োজন করে চলেছেন। করছেন প্রচার প্রচারণা। আলমডাঙ্গা উপজেলা জাসদ সভাপতি গোলাম সরোয়ারের পাশাপাশি জেলা জাসদের সভাপতি সাবেক পৌর চেয়ারম্যান এম সবেদ আলীও সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছেন। ধারণা করা হচ্ছে – আলমডাঙ্গা এলাকা ছাড়াও ওই জনসভায় যোগ দেবেন কুষ্টিয়া মিরপুর
উপজেলার উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জাসদ নেতাকর্মি। বিশেষ করে তথ্যমন্ত্রির নিজ নির্বাচনি এলাকার নেতাকর্মি। স্বাধীনতাত্তোর বৃহত্তর কুষ্টিয়া জাসদসহ বামপন্থী রাজনীতির ঘাঁটি ছিল। জাসদের বেশিরভাগ নেতাকর্মী এখন আদর্শিক অবস্থান পরিত্যাগ করেছেন। উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রতিপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে নিহত হন। জীবিত অধিকাংশ নেতাকর্মি বিএনপি ও আওয়ামীলীগে ভীড়েছেন। কুষ্টিয়ায় নিজ এলাকায় প্রতিপক্ষের হাতে নিহত হয়েছেন কেন্দ্রীয় জাসদ নেতা কাজী আরিফ ও গণমানুষের নেতা মারফত আলী। এ জনপ্রিয় দুজন নেতার অস্বাভাবিক মৃত্যুতে অভিভাবকশূণ্য হয়ে ও নানা বিরোধে জড়িয়ে কুষ্টিয়া এলাকায় বহমান জাসদের ধারা খুবই নাজুক হয়ে পড়ে। আলমডাঙ্গা-চুয়াডাঙ্গা অঞ্চলে বয়ে চলা জাসদের রাজনীতির ক্ষীণধারার নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন জনপ্রিয় ২ নেতা চুয়াডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান প্রয়াত সাইফুল ইসলাম পিনু ও আলমডাঙ্গা পৌরসভার সাবেক জনপ্রিয় চেয়ারম্যান এম সবেদ আলী। পরবর্তিকালে কেন্দ্রীয়ভাবে জাসদের বিভক্তি ও চুয়াডাঙ্গা জাসদের প্রাণপুরুষ সাইফুল ইসলাম পিনুর মৃত্যুতে আরও বেশি শ্লথ হয়ে পড়ে জাসদের রাজনীতির ধারা। নানাবিধ সংকটেও আলমডাঙ্গায় জাসদের চলমান ধারার নাব্যতা ফেরাতে শক্ত হাতেই হাল ধরে আছেন মুক্তিযোদ্ধা এম সবেদ আলী। বরাবরের মত সাথে রয়েছেন আলমডাঙ্গা উপজেলা জাসদের নিঃস্বার্থ সভাপতি গোলাম সরোয়ার।

এ জনসভাকে সাধারণ মানুষ নিছক জনসভা হিসেবে দেখছেন না। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণা হিসেবেই দেখছেন সাধারণ মানুষ। জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রি হাসানুল হক ইনু ইতোপূর্বে ২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আলমডাঙ্গায় এসেছিলেন। ওই জনসভা থেকে তিনি ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির নির্বাচনে এম সবেদ আলীকে চুয়াডাঙ্গা -১আসনে জাসদ মনোনীত প্রার্থি ঘোষণা করেন। প্রায় ৫ বছর পর আবার আগামি ২০ অক্টোবর আসবেন। তার নির্বাচনি এলাকা আলমডাঙ্গা উপজেলার সীমান্তবর্তি। প্রায় প্রতি মাসে তিনি একাধিকবার নিজ নির্বাচনি এলাকায় আসলেও আলমডাঙ্গায় ঘুর্ণাক্ষরেও আসেননি। জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে আবার তিনি আলমডাঙ্গায় আসছেন। সেকারণেই জাসদের এ জনসভাকে নিছক জনসভা ভাবছেন না অনেকে। এটাকে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের নির্বাচনি প্রচারণার জনসভা হিসেবে দেখছেন।
জাসদের এ জনসভা ঘিরে ঔৎসুক্য রয়েছে জাসদের বাইরেও, সাধারণ্যে। জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বর্তমান সরকারের তথ্যমন্ত্রি। মহাজোট সরকারে প্রভাবশালী নেতা হিসেবে নিজেকে অপরিহার্য্য করে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। সরকার পরিচালনায় তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। চলমান রাজনৈতিক সংকটের ভেতর অত্যাসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এ জনসভা থেকে জাতীয় নির্বাচন সম্পর্কে তিনি কী ম্যাসেজ দেবেন তা জানার ঔৎসুক্য অনেকের। সত্যিকার অর্থে নিরোপেক্ষ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন, নাকি ৫ জানুয়ারির মত নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে সরকার?

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না