সাম্প্রতিক

সেই শিশু হত্যায় বাবার বিরুদ্ধে মায়ের মামলা

রাজধানীর বাংলামোটরে আলোচিত নূর সাফায়েত নামে আড়াই বছর বয়সী শিশুকে হত্যার অভিযোগে বাবা নুরুজ্জামান কাজলের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ওই শিশুর মা।

বুধবার রাতে শাহবাগ থানায় মামলাটি করেন সাফায়েতের মা মালিহা আক্তার।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে রমনা বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মারুফ হোসেন সরদার বলেন, সাফায়েতের মা বুধবার রাতে যে অভিযোগ দিয়েছেন, এর ভিত্তিতে মামলা হয়েছে। সে অনুযায়ী মামলার পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।

বুধবার বাড়িটি ঘিরে ৬ ঘণ্টা ধরে চলে রুদ্ধশ্বাস অভিযান। এ সময় সাড়ে তিন বছরের আরেক ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করা হয়।

অভিযোগ ওঠে, নুরুজ্জামান কাজল নামে মাদকাসক্ত ওই ব্যক্তি তার ছোট ছেলেকে ‘হত্যা করে’ আরেক ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে ঘরের ভেতর ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন।

এমন খবরে বাংলামোটরের লিংক রোডের ১৬ নম্বর দোতলা বাড়ি ঘিরে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নানাভাবে বোঝানোর পর বেলা ২টার দিকে পুলিশ কৌশলে কাজলকে নিচ তলার সিঁড়ির কাছে নিয়ে এলে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা তার বড় ছেলে সুরায়েতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেন।

পরে ঘরের ভেতর থেকে ছোট ছেলে সাফায়াতের কাফনে জড়ানো মরদেহ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মেডিকেলে সুরতহাল রিপোর্টে বলা হয়, শিশু সাফায়েতের কপালের বাম পাশে দুটি কালো জখম, মুখের নিচে ও দুই ঠোঁটে কালো দাগ এবং থুঁতনিতেও কালো দাগ রয়েছে।

তবে ঠিক কীভাবে শিশুটি মারা গেছে, তা পুলিশ এখনও নিশ্চিত হতে পারেনি। এ জন্য তার বাবা নুরুজ্জামান কাজলকে প্রধান সন্দেহভাজন হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে কোনো বিরোধ আছে কিনা, সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

স্বজনদের অভিযোগ, মাদকাসক্ত কাজলই তার ছোট ছেলেকে খুন করে বড় ছেলেকে জিম্মি করে বাড়ির ভেতরে ওই পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন।

তবে আটক হওয়ার পর কাজল পুলিশের কাছে দাবি করেছেন, সাফায়াতের মৃত্যু হয়েছে বৈদ্যুতিক শকে, তিনি তাকে হত্যা করেননি।

এদিকে ‘বাবার হাতে ছেলে খুনের’ খবরে উৎসুক হাজার হাজার মানুষ ওই বাড়ির সামনে ভিড় করেন। ছুটে আসেন সংবাদকর্মীরা।

এ পরিস্থিতিতে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন কাজল। ছেলেকে কোলে নিয়ে দা হাতে তিনি নেমে এসে সিঁড়ির কাছে কলাপসিবল গেট আটকে দেন।

কিছুক্ষণ পর র‌্যাব, পুলিশ, আনসার ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান।

স্থানীয়রা জানান, কাজলের বাবার নাম মনু মেম্বার। এলাকায় সুনাম রয়েছে মনু মেম্বার পরিবারের। কাজলের আচার-আচরণের জন্য পরিবারের সদস্যরা তার ওপর বিরক্ত ছিলেন।

স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে ওই বাসার দোতলায় থাকতেন কাজল। স্বামীর নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে দুই মাস আগে তার স্ত্রী বাড়ি ছেড়ে চলে যান।

স্থানীয় বাসিন্দা আকিল জামান বলেন, কয়েক মাস আগে স্ত্রীকেও মারধর করেন কাজল। বাচ্চা দুটি বাবার সঙ্গেই ছিল। তবে অভিযোগ উঠেছে, কাজল তার দুই সন্তানকে আড়াই মাস ধরে বাসায় জিম্মি করে রেখেছিলেন।

এর আগে স্ত্রী, মা এবং তিন ভাইসহ সব স্বজনকে পাঁচ ইউনিটের ওই বাসা থেকে বের করে দেন। বিষয়টি নিয়ে কাজলের স্ত্রী মালিহা আক্তার প্রিয়া আড়াই মাস আগে শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

কাজলকে ধরতে পুলিশ একাধিকবার ওই বাসায় যায়। কিন্তু কাজলের হাতে রামদা-চাপাতি থাকায় বারবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসে।

স্থানীয় মসজিদের ঈমাম মো. আজহার উদ্দিন যুগান্তরকে বলেন, সকাল ৬টার দিকে কাজল ভাই আমাকে ফোন করে বলেন, আমার ছোট ছেলে মারা গেছে, তার জানাজা পড়াতে হবে।

আমি একটু দূরে আছি জানালে তিনি মাদ্রাসায় গিয়ে বিষয়টি জানান এবং মাইকে ঘোষণা দিতে বলেন।

তার পর মাদ্রাসার ছাত্রদের পবিত্র কোরআন খতম দেয়ার জন্য নিয়ে যেতে চান। পরে মসজিদের মুয়াজ্জিন মাসুম বিল্লাহ তার সঙ্গে যান।

কাজলের ভাই নুরুল হুদা উজ্জ্বল জানান, মাইকে সংবাদ শুনে আমি আসি। ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করি। কিন্তু কাজল ঢুকতে দেননি। দরজা আটকে দিয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, তার ভাই কাজলই শিশু সাফায়েতকে হত্যা করেছেন। তার হাতে রামদা ছিল।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!