সাম্প্রতিক

সংসদে এলে বিএনপি আন্দোলন করতে পারবে: কাদের

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির নির্বাচিত সদস্যরা শপথ নিয়ে সংসদে এলে দলটি আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবে বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। উল্টো সিদ্ধান্তে অটল থাকলে বিএনপি আরো বড় ভুল করবে বলেও মনে করেন আওয়ামী লীগ নেতা।

শুক্রবার ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তোলা বিএনপির বিজয়ীরা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক দলগুলোকে যে চা চক্রের আমন্ত্রণ জানিয়েছে, সেটিও বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

গত পাঁচ বছর বিএনপির সংসদে না থাকার বিষয়টি তুলে ধরে কাদের বলেন, এবার তারা বিজয়ের যতটুকু অংশীদার হয়েছে তা কাজে লাগাতে পারে। ‘সংসদে এলে বিএনপি সংসদের ভেতরে-বাইরে দুই জায়গাতেই আন্দোলন করতে পারে। সংসদেও বিরোধী কণ্ঠটা উচ্চারিত হবে।’

সংসদে না আসার ‘ক্ষতি’ ব্যাখ্যা করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আন্দোলনের বস্তুগত পরিস্থিতি বিরাজ করছে না, যার জন্য আন্দোলনে তাদের সাফল্য দিতে পারে। তারা ডাক দিতে পারে কিন্তু জনগণ সাড়া না দিলে এ আন্দোলনের সাফল্য আসবে না। এক্ষেত্রে তাদের আটজন সংসদ সদস্য জোরালো ভাষায় যুক্তিতর্ক দিয়ে কথা বলেন, তাতে সংসদের ভেতরেও তারা আন্দোলন গড়ে তুলতে পারবেন।’ 

‘সংসদে তারা সংখ্যায় কম হলেও, এর আবেদনটা দেশে বিদেশে যতটা আলোড়ন সৃষ্টি করবে, বাহিরের আন্দোলনের বাস্তবতাটা বাংলাদেশে ভিন্নতর জায়গায় পৌঁছে গেছে। মানুষ আন্দোলনে আগ্রহী নয়, এটা আমাদের অভিজ্ঞতা থেকেই আমরা জানি। কারণ তা না হলে বিএনপি বিগত ১০ বছরে বারবার চেষ্টা করেও কার্যকর ও জনগণের সাড়া জাগানোর মতো কোন আন্দোলন তারা গড়ে তুলতে পারেনি।’

প্রধানমন্ত্রীর চা চক্রের বিষয়ে কাদের বলেন, ‘আমন্ত্রণে যোগ না দেয়া তাদের নেতিবাচক রাজনীতির বহিঃপ্রকাশ ও ধারাবাহিকতার।…যদি এখনও তারা নেতিবাচক ধারা আকড়ে ধরে রাখে তারা অন্ধকার গভীর খাদে পতিত হবে।’

চা পান করতে করতে খোলামেলা আলোচনা হতে পারে বলেও উল্লেখ করেন আওয়ামী লীগ নেতা। বলেন, ‘চা খেতে খেতেও কথা বলা যায়। শুভেচ্ছা বিনিময়ের মাধ্যমে রাজনীতিবিদরা রাজনীতির কথাই বলবেন। তারা যেখানেই যান রাজনীতির কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারা রাজনীতির কথা বলতে পারেন এবং তাদের মনের কোন কথা থাকলে প্রধানমন্ত্রীকে বলার মতো কিছু থাকলে খোলামেলা আলোচনা করতে পারেন। তাদের কেউ বাধা দেবে না।’

৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হয়েছে উল্লেখ করে কাদের দাবি করেন, এই নির্বাচন দেশ-বিদেশে সারা দুনিয়ায় প্রশংসিত হয়েছে। 

‘নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার তারা (বিএনপি) অনেক চেষ্টা করেছিল। দেশে বিদেশে তারা চিঠি এবং প্রতিনিধি পাঠিয়েছিল, ই-মেইল পাঠিয়ে তারা ব্যর্থ হয়েছে। পৃথিবীর সব উন্নত গণতান্ত্রিক দেশ সরকার প্রধানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। এখন বিএনপি সংসদ বর্জনের সংস্কৃতিকে আকড়ে ধরতে চায়, তাহলে আরও বড় ভুল করবে। দেশের মতো বিদেশেও তাদের বন্ধু হারাবে এবং বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ-ডাকসু নির্বাচন নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি কাদের বলেন,  ‘অতীতে ডাকসু নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র ছিল হলগুলোতে। এ নিয়ে বিতর্কের কিছু নেই। ডাকসু নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হবে। শিক্ষার্থীরা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।’