সাম্প্রতিক

সংবাদ পাঠক ফারজানা এখন আইনজীবী

সংবাদ পাঠক ফারজানা এখন আইনজীবী

সিলেটে  জন্ম নেয়া ফারজানা খান একাধারে ১০ বছর সংবাদ পাঠ করেছেন দেশের প্রথম সারির  দুটি টিভি চ্যানেলে। এখন সংবাদ পাঠ ছেড়ে দিয়ে পুরোপুরি আইন পেশায় মনোনিবেশ  করেছেন। তিনি এখন নিজেকে সুপ্রিম কোর্টের একজন আইনজীবী হিসেবে পরিচয় দিতেই  পছন্দ করেন। তার জীবনের নানা দিক নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার  নিয়েছেন  সুপ্রিম কোর্ট প্রতিবেদক।

জন্ম, শৈশব-কৈশোর ও শিক্ষাজীবন..

ফারজানা খান: জন্ম ১৯৭৯ সালে সিলেটে। শৈশব-কৈশোর সিলেটেই কেটেছে। বাবা ব্যবসায়ী, মা  গৃহিনী। দুই বোন এক ভাইয়ের মধ্যে বড় আমি। সিলেটের ব্লু-বার্ড স্কুল থেকে  এসএসসি ও সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ১৯৯৯ সালে ঢাকায়  চলে আসি। ইডেন কলেজ থেকে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করে এলএলবি শেষ করেছি জাতীয়  বিশ্ববিদ্যালয় থেকে।

টিভি চ্যানেলে আপনার সংবাদ পাঠ বিষয়ে জানতে চাই।

ফারজানা খান: ছোটবেলা থেকেই স্কুল-কলেজে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উপস্থাপনা করতাম। ওখান থেকেই  সংবাদ পাঠক হওয়ার আগ্রহ সৃষ্টি হয়। ২০০৬ সালে চ্যানেল ওয়ানে সংবাদ পাঠ  শুরু করি। ওয়ান ইলেভেনের শেষের দিকে চ্যানেল ওয়ান ছেড়ে এটিএন বাংলায় সংবাদ  পাঠ করতে থাকি। এটিএন বাংলায় টানা ২০১৫ সাল পর্যন্ত সংবাদ পাঠ করেছি।
: সংবাদ পাঠের সময় বিশেষ কোন স্মৃতি বা ঘটনা মনে পড়ে কি ?

ফারজানা খান: একটা ঘটনা কখনই ভুলতে পারি না। ২০১২ সালে আমাদের সহকর্মী আমার অত্যন্ত  কাছের মানুষ মেহেরুন রুনি ও তার স্বামী সাগর সরোয়ার ঘাতকদের হাতে মারা যান।  ওইদিন সন্ধ্যায় সংবাদ পাঠের দায়িত্ব আমার ছিল। অত্যন্ত কাছের ও প্রিয়  মানুষের মৃত্যু সংবাদ পড়ার সময় কান্না ধরে রাখাটাই ছিল চ্যালেঞ্জ। অনেক  কষ্টে ওইদিন সংবাদ পাঠের সময় চোখের পানি সংবরণ করেছি। এছাড়া নির্বাচনের সময়  নিউজ রুমে আনন্দের মধ্যে দিয়ে সময় অতিবাহিত হতো। একটা কথা না বললেই নয়,  দুটি টিভি চ্যানেলেই আমি অত্যন্ত ভাল সহকর্মী পেয়েছিলাম। এটিএন বাংলায়  সংবাদ পাঠের পাশাপাশি ল’ এন্ড অর্ডার এবং সপ্তাহে সাত দিন অনুষ্ঠান  উপস্থাপনা করতাম।

টিভিতে সংবাদ পাঠ ছেড়ে দিলেন কেন ?

ফারজানা খান: আপনি জানেন, ২০১৩ সাল থেকে আমি হাইকোর্টে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিস করে  আসছি। কোর্ট এবং চেম্বারের কাজ শেষ করে সংবাদ পাঠ করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ে।  বলতে পারেন, আইন পেশায় ব্যস্ততা বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূলত সংবাদ পাঠ ছেড়ে  দিয়েছি।

আইন পেশায় আপনার আইডল কে?

ফারজানা খান: একবাক্য  বলতে পারি আমার সিনিয়র অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম আইন পেশায় আমার আইডল। ২০০৯  সাল থেকে আমি তার জুনিয়র হিসেবে আছি। আহসানুল করিম স্যার আমার গুরুর  দায়িত্ব পালন করে আসছেন। স্যারের কাছ থেকেই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ  দৃষ্টিভঙ্গি বিষয়ে শিখেছি। কোর্টে তার সাবমিশন, হেয়ারিং দেখে মুগ্ধ হই।  কাজের প্রতি তার একাগ্রতা অতুলনীয়।

ফারজানা খান যখন সংবাদ পাঠক

error: Content is protected !!