সাম্প্রতিক

শ্বাসকষ্ট এড়াতে যা করবেন

স্বাস্থ্য ডেস্ক : শীতে বাড়ে শ্বাসকষ্ট. শুষ্ক আবহাওয়া ও শীতের কারণে শ্বাসতন্ত্রে অনেক ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে। বেশি আক্রান্ত হয় শিশু ও বয়স্ক এবং যাদের আগে থেকেই শ্বাসতন্ত্র-সংক্রান্ত রোগ আছে তারা। অনেক ক্ষেত্রে শ্বাসতন্ত্রের রোগের চিকিৎসা যথাসময়ে করা না হলে নিউমোনিয়ার মতো মারাত্মক জটিলতাও তৈরি হতে পারে।

শীতে শ্বাসকষ্ট কমাতে জেনে নিন কিছু ঘরোয়া উপায়:

১. আদা শ্বাসনালীর প্রদাহ কমিয়ে অক্সিজেনের প্রবেশ স্বাভাবিক রাখে। আদা চা বা আদার রস ও মধু মিশিয়ে খান ২.সরষের তেল হালকা গরম করে বুকে-পিঠে, গলায় ভালো করে ম্যাসাজ করুন শ্বাসকষ্ট কমে যাবে। ফুসফুস ঠিক মতো কাজ করলেই শ্বাস-প্রশ্বাসও স্বাভাবিকভাবে হতে শুরু করে।

৩. ফুসফুসের কর্মক্ষমতা বাড়াতে উপকারি ডুমুর। কয়েকটি ডুমুর সারা রাত পানিতে ভিজিয়ে রাখুন সকালে খালি পেটে পানি ও ডুমুর খেয়ে ফেলুন। বাজারে শুকনো ডুমুর কিনতে পাওয়া যায়।

৪. পেঁয়াজ-রসুন আর বাদ যাবে কেন! সব তরকারিতেই তো আমরা পেঁয়াজ খাচ্ছি, অনেক কিছুতে রসুন। তবে খাবারের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়। শ্বসকষ্ট কমাতে আধা কাপ দুধ ও এক টেবিল চামচ রসুন কুচি ফুটিয়ে ঠাণ্ডা করে পান করুন।

৫.কড়া এক কাপ কফি পান করলে শ্বাসনালি খুলে যায়। বেশি খারাপ লাগলে দিতে তিন কাপ পর্যন্ত কফি পান করতে পারেন।

৬.এক গ্লাস হালকা গরম পানিতে এক চামচ করে মধু মিশিয়ে পান করুন। নিয়মিত এই পানীয় পানে শুধু শ্বাসকষ্ট নয় মেদও কমে।

যেকোনো ধরনের ওষুধ খাওয়া বা ব্যবহারের আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

শ্বাসকষ্টের মূল কারণ শ্বাসনালির সংকোচন ও অ্যালার্জেনের কারণে ইরিটেশন। এ কারণে ফুসফুসে প্রয়োজনীয় বাতাস ঢুকতে বাধা পায়। রোগীকে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে হয়। ফুসফুসের ভেতরের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র নালির অনেকগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। রোগী অক্সিজেনের অভাবে বহু ধরনের শারীরিক জটিলতার মুখোমুখি হয়।

সাধারণভাবে, সর্দি-কাশি হলেও শ্বাসকষ্ট হয়। অনেকের সাইনোসাইটিস হলেও শ্বাসকষ্টের প্রকোপ বাড়ে। সাইনোসাইটিসের ক্ষেত্রে ঠিক ফুসফুস শ্বাসকষ্টের জন্য দায়ী নয়। এ ক্ষেত্রে নাকের ভেতরের গাত্র প্রদাহে আক্রান্ত হয়ে ফুলে যায়, তাই প্রয়োজনীয় বাতাস নাক দিয়ে ফুসফুসে ঢুকতে পারে না।

কিছু অসুখের কারণে শ্বাসকষ্ট হয়। যেমন-পালমোনারি ইডিমা বা ফুসফুসে পানি জমে গেলে, হৃৎপিণ্ডের বাম নিলয়ের কার্যকারিত কমে গেলে, অ্যাজমা বা হাঁপানি থাকলে, ব্রঙ্কাইটিসের কারণে ফুসফুসের ব্রঙ্কিউলের কিছু কিছু অংশ বন্ধ হয়ে গেলে, কোনো কারণে ফুসফুসের ভেতরের ছোট ছোট রক্তনালির অভ্যন্তরের রক্ত জমাট বেঁধে গেলে, ডায়াবেটিসজনিত জটিলতা যেমন ডায়াবেটিস কিটোএসিডোসিস হলে, রক্তে এসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে ইত্যাদি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না