শ্বশুরবাড়িতে মেনে চলুন এই ১০ নিয়ম

লাইফস্টাইল ডেস্ক : শ্বশুরবাড়ির সাথে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয় অনেকেরই। নতুন মানুষ, নতুন পরিবেশ, সমস্যা হওয়াটাই খুব স্বাভাবিক। মেয়েরা হয়তো সমস্যাগুলোর ব্যাপারে প্রকাশ অধিক করে থাকেন, কিন্তু সত্য এটাই যে এক্ষেত্রে পুরুষেরও সমস্যাও হয় যথেষ্ট। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সাথে সম্পর্কটি ভিন্ন ও স্পর্শকাতর, কারণ সামান্য এদিক-ওদিক হলে সেটার প্রভাব দাম্পত্য জীবনেও পড়ে বৈকি।

কীভাবে সহজে মানিয়ে চলা যায় শ্বশুরবাড়িতে? জেনে নিতে পারেন এই ১০ নিয়ম।

১। সঙ্গীর সাহায্য নিন, তাঁর কাছ থেকে জেনে নিন কেমন আচরণে পরিবার বিব্রতবোধ করে। সকলের পছন্দ-অপছন্দ জানুন, সকলের ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য জেনে রাখুন। এতে আপনার জন্যে সহজ হবে। আজীবন কাজে আসবে তথ্যগুলো।

২। প্রতিটি বাড়ির কিছু আলাদা নিয়ম থাকে। যেমন- সকাল ৮ টায় নাস্তা বা রাত ৯ টায় ডিনার ইত্যাদি। বাড়ির নিয়মগুলো ভালো ভাবে জেনে নিন। যতক্ষণ সবার সাথে আছেন, চেষ্টা করুন নিয়মগুলো মেনে চলতে। পরিবারের একজন দলছুট হয়ে নিয়ম ভঙ্গ করলে শুরুতেই খারাপ প্রভাব পড়ে।

৩। কিছু ব্যাপার আগেই নির্ধারণ করে রাখুন। সম্পর্কের সীমারেখা থাকা জরুরী, তাই স্বামী-স্ত্রী মিলে ঠিক করুন ব্যাপারগুলো। যেমন- শ্বশুরবাড়িতে কী দেবেন আর কীভাবে, উৎসব-অনুষ্ঠানে কী হবে, কোন ব্যাপারগুলোতে আপনারা কথা বলবেন আর কোনগুলো এড়িয়ে যাবেন ইত্যাদি।

সম্পর্ক আনন্দে ভর‍্যে রাখতে চাই কিছু কৌশল।

৪। শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়ের সাথে আর্থিক লেনদেন একদমই পরিহার করুন। উপহার দেয়া বা সাহায্য করা এক ব্যাপার, কিন্তু ধার-দেনার মাঝে একেবারেই যাবেন না। টাকা সম্পর্ক নষ্ট করার মূল।

৫। বয়সে বড় সকলের জন্যেই সম্মান ও ছোটদের জন্যে স্নেহ বরাদ্দ রাখুন। হয়তো মনে মনে আপনি মানুষটিকে পছন্দ করেন না। কিন্তু যেহেতু তারা আত্মীয়, সম্মান ও স্নেহ তাঁদের প্রাপ্য। তাঁদের থেকে গা বাঁচিয়ে চলুন, অসুবিধে নেই। কিন্তু কখনো অসম্মান বা অনাদর করবেন না।

৬। অনেকেই একটা বড় ভুল করেন। সেটা হচ্ছে, নিজে সরাসরি শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়দের সাথে মেলামেশা না করে স্ত্রী বা স্বামীকে দিয়ে করান। এই কাজটি করবেন না। নিজেকে একপাশে সরিয়ে না রেখে সহজ হয়ে মিশুন, সহজেই পরিবার তৈরি হয়ে যাবে।

৭। সবই তো করলেন, কিন্তু তাই বলে এসবের ভিড়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলবেন না। ভনিতা করে বা অভিনয় করে ভালোবাসা পাওয়া যায় না। হয়তো আপনার শ্বশুর-শাশুড়ি যেমন পছন্দ করেন, আপনি তেমন নন। কিন্তু তাই বলে নিজেকে তাঁদের পছন্দ অনুযায়ী করার চেষ্টা করে লাভ নেই। আপনি যেমন আছেন, সেভাবেই তাঁদের মন জয় করার চেষ্টা করুন। নিজেকে বদলে ফেলে কিছুই পাবেন না।
শ্বশুরবাড়িতে মানিয়ে নেয়া অনেকের জন্যেই কষ্টকর।

৮। শ্বশুরবাড়ির কারো ব্যক্তিগত দাম্পত্য জীবনে নাক গলাবেন না। যেচে পড়ে উপদেশ দিতে যাবেন না। কেবল তখনই কথা বলুন, যখন অন্য পক্ষ সেটা শুনতে চায়।

৯। নিজেকে শান্ত রাখতে শিখুন। নিজের পরিবারেও অনেক কিছু আমাদের পছন্দ হয় না। সেখানে শ্বশুরবাড়ির সবকিছু বা সবাইকে আপনার ভালো লাগবে, এমনটা ভাবা অনুচিত। নিজেকে শান্ত রাখতে শিখুন। নতুন সবকিছুকেই খারাপ মনে না করে কিছুদিন চেষ্টা করেই দেখুন ভালো লাগে কিনা।

১০। বিবাহিত জীবনের সবচাইতে বড় সম্বল হচ্ছে ম্যাচিউরিটি। দাম্পত্যে ম্যাচিউর আচরণ আপনাকে যা দিতে পারবে, অন্য কিছুই তা পারবে না। পরিবারের সকলকে বোঝার চেষ্টা করুন, ক্ষমা করতে শিখুন, দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রক্ষার জন্য নিজেকে প্রস্তুত করুন। কোথায় আপনাকে কী করতে হবে, সহজেই বুঝে যাবেন। মনে রাখবেন, আনন্দ বিনিময় করা খুব সহজ। কেবল চাই একটুখানি চেষ্টা।

দাম্পত্য সহজ, এমনটা কেউ বলেনি। তবে খুব একটা কঠিন কিছুও নয়। চেষ্টা করুন, সহজেই অর্জন করতে পারবেন সকলের ভালোবাসা।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না

error: Content is protected !!