সাম্প্রতিক

শাশুড়িকে হত্যা: মেয়েজামাই ও বেয়াইন রিমান্ডে

ঢাকার আশুলিয়ায় চলন্ত বাস থেকে শাশুড়িকে ফেলে হত্যা মামলায় মেয়ে জামাই ও তার মায়ের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আতিকুল ইসলাম রবিবার এই রিমান্ডের আদেশ দেন।

অন্যদিকে আসামি নূর ইসলামের মামা স্বপন আদালতে দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহজাহান আসামিদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। গত শুক্রবার আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়।

আসামিদের গ্রেপ্তারের পর শনিবার পিবিআই প্রধান ডিআইজি বনজ কুমার মজুমদার দাবি করেন, নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছে পারিবারিক দ্বন্দে। পরিকল্পিতভাবে এই হত্যার অন্যতম পরিকল্পনাকারী মেয়েজামাই নূর ইসলাম। ওই হত্যাকাণ্ড ধামাচাপার উদ্দেশে বাদী হয়ে তিনিই অজ্ঞাতদের আসামি করে আশুলিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। শাশুড়িকে হত্যার জন্য ১০ হাজার টাকায় বাসচালকের সঙ্গে চুক্তি করেছিলেন নূর। আর পুরো ঘটনার মধ্যস্থতা করেছিলেন তার বিয়ের ঘটক মো. স্বপন।

পারিবারিক কলহ মেটাতে গত ৯ নভেম্বর ঘটনার দিন দুপুরে সিরাজগঞ্জ থেকে মেয়ে রোজিনার বাড়ি আশুলিয়ায় আসেন জরিনা ও তার বৃদ্ধ বাবা আকবর আলী মণ্ডল। বেয়াইয়ের বাড়িতে দুপুরের খাবার শেষে বিকাল ৫টার দিকে তারা বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। জামাই নূর ইসলাম তাদের টাঙ্গাইলগামী একটি মিনিবাসে তুলে দেন। বাসটি ১০ হাজার টাকার বিনিময়ে আগে থেকেই আশুলিয়ার জামগড়া বাসস্ট্যান্ডে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন স্বপন। কিছু দূর না যেতেই বাসের সহকারী ও দুই হেলপার মারধর করে মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা কেড়ে নিয়ে চলন্ত বাস থেকে আকবর আলীকে আশুলিয়া ব্রিজের কাছে ফেলে দিয়ে বাসটি আশুলিয়ার দিকে ফেরত আসে। এরপর বাসের মধ্যে জরিনাকে হত্যার পর লাশ রাস্তায় ফেলে পালিয়ে যায় ভাড়াটে খুনি চালক ও তার তিন সহকারী। ওই ঘটনার পর গত ১০ নভেম্বর আশুলিয়া থানায় মামলা করেন নিহতের জামাই নুর ইসলাম।

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!