সাম্প্রতিক

রিয়াদে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

সৌদি আরবের রিয়াদে কূটনৈতিক এলাকায় নিজস্ব জায়গায় বাংলাদেশের দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বুধবার বিকালে রিয়াদের কূটনৈতিক কোয়ার্টারে সাত হাজার ৯৫০ বর্গমিটার আয়তনের ওই প্লটে দূতাবাস ভবনের উদ্বোধন করেন তিনি।

প্রায় ৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে এ ভবনে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাসহ সেবাপ্রত্যাশীদের জন্য ৫১০ বর্গমিটারের একটি শেডও নির্মাণ করা হয়েছে।

এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশকে উন্নয়নের যে কাজটি করার দরকার ছিল, আমরা তা করেছি এবং বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রা শুরু করেছে। এই অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না বলে আমি বিশ্বাস করি। এ দায়িত্বটি আপনাদের সবারও থাকল।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় সামনে নির্বাচন ও জনগণ ভোট দিলে তিনি আবার সরকারে আসবেন, নচেৎ নাই এবং বাংলাদেশের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন করতে পারায় সে জন্য তার কোনো আফসোস থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় তার শতবর্ষী মেয়াদি ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশ হবে মধ্যম আয়ের দেশ এবং ২০৪১ সাল নাগাদ এ দেশ উন্নত সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠবে। আর ২১০০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ কিভাবে চলবে সেই পরিকল্পনাটিও ডেল্টা পরিকল্পনা-২১০০ এর মাধ্যমে আমরা করে দিয়ে গেলাম, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বদরবারে মাথা তুলে চলতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতার জাতির পিতার কথা স্মরণ করে বলেন, তিনি যে আমাদের স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন তাই নয়, বিশ্বে একটি মর্যাদাপূর্ণ জাতি হিসেবে গড়ে ওঠার জন্য বিভিন্ন দেশে আমাদের নিজেদের জায়গায় নিজস্ব দূতাবাস হবে সে প্রক্রিয়াটিও শুরু করে যান।

প্রধানমন্ত্রী এ সময় বাষ্পরুদ্ধ কণ্ঠে বলেন, আমাদের নিজস্ব দূতাবাস ভবনটি উদ্বোধনের সময় আমার বারবারই মনে পড়ছিল আজ যদি জাতির পিতা বেঁচে থাকতেন তা হলে বহু আগেই বাংলাদেশ বিশ্বে একটি মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হতো।

তিনি বলেন, ‘৯৬ সালে সরকার গঠনের পরই বিশ্বের বিভিন্ন দেশে দূতাবাস স্থাপনে তার সরকার কাজ শুরু করে এবং ওয়াশিংটন ও দিল্লিতে ভবন স্থাপন করলেও অস্ট্রেলিয়াসহ অন্যান্য দেশে এ কাজ পরবর্তী বিএনপি-জামায়াত সরকার বন্ধ করে দেয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তার সরকার হজ অফিস মক্কাতে নিয়ে গেছে এবং হজ মৌসুমে হাজীদের সুবিধার্থে মক্কা এবং মদিনাতেও নিজস্ব জায়গায় অফিস তৈরির উদ্যোগ নেবে তার সরকার। এ ব্যাপারে জমি অথবা অফিসের জন্য ফ্লোর ক্রয় করার জন্যও সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় তিনি হজকার্যে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের জন্য সৌদি বাদশাহ এবং তার সরকারকেও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

তিনি সৌদির বাংলাদেশ দূতাবাসকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সমস্যা সমাধানে মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চ্যান্সেরি ভবনটা যখন তৈরি করা হয়, তখনই আমার নির্দেশনা ছিল এখানে যারা সেবা নিতে আসবেন, সেদিকে লক্ষ্য রেখে বন্দোবস্ত রাখার।

দেশের ডিজিটালাইজেশনের সুফল এখন প্রত্যন্ত অঞ্চলের জনগণের মতো প্রবাসীরাও পাচ্ছে, বলেন তিনি। এ সময় তিনি ভবন ব্যবহারকারীদের যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার আজ সৌদি বাদশাহের সঙ্গে আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বাদশাহকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে বাদশাহ তাতে সানন্দে সম্মতি প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী, প্রবাসী কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী, পেশাজীবী, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী এবং সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত গোলাম মসীহ বক্তৃতা করেন।

বৈঠক শেষে বাদশাহ কর্তৃক আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে যোগদান করেন শেখ হাসিনা।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সৌদি যুবরাজ, উপপ্রধানমন্ত্রী ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিল আবদুল আজিজের সঙ্গে একই স্হানে বৈঠকে মিলিত হন। তারা বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক র্স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতাসংক্রান্ত পাঁচটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কাউন্সিল অব সৌদি চেম্বার ও রিয়াদ চেম্বার অব কমার্স নেতৃবৃন্দের সঙ্গে তার বৈঠকের পর স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থে সৌদি উদ্যোক্তাদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, এ ব্যাপারে তার সরকার সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না