সাম্প্রতিক

রাত চালাকি বাদ দিয়ে জাতীয় সংলাপ করুন : ড. কামাল

নতুন নির্বাচনের লক্ষ্যে পথ বের করতে সরকারকে জাতীয় সংলাপ আহবানের অনুরোধ জানিয়েছেন ড. কামাল হোসেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে গণফোরামের উদ্যোগে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

ড. কামাল বলেন, ৩০ ডিসেম্বর যেটা হয়েছে এটাকে কী অবাধ নির্বাচন হয়েছে কেউ বলবে? আসুন বছরের প্রথম দিকেই সংকট সৃষ্টি না করে যেসব করা হয়েছে বলেন, এগুলো কোনটাই থাকবে না। সবার সাথে জাতীয় সংলাপ করুন। আমি মনে করি সবচেয়ে ভালো পথ। সংলাপের মধ্য দিয়ে সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হোক কিভাবে আমরা সংবিধানকে মেনে নির্বাচন করে নির্বাচিত সংসদ ও সরকার গঠন করব।
৩০ ডিসেম্বর ভোট হয়নি দাবি করে ড. কামাল হোসেন বলেন, আমি ভাবতে পারিনি ৩০ ডিসেম্বরের যে ঘটনা সেটা ৪৮ বছরের পরে এটা দেখতে হচ্ছে। এটা দুঃখজনক। এটা হওয়ার কথা নয়। আমি তো সরলভাবে বলেছিলাম ভাই সকালে সকালে গিয়ে ভোট দেবেন। টেলিভিশন বলছে কামাল হোসেন বুঝতে পারছেন না ঘটনা তো রাতেই ঘটে গেছে। ২৯ তারিখ রাতেই। যেভাবে হলো আমরা কেউ টেরও পেলাম না যে আমাদের ভোট হয়ে যাচ্ছে। এটা কেনো এভাবে করতে হবে? আমি প্রশ্ন রাখতে চাই- কেনো এরকম অস্বাভাবিক কাজ কেনো হচ্ছে? এর থেকে ঘোষণা দিয়ে দেন- থার্ড টার্মের জন্য একজন প্রধানমন্ত্রী হয়ে গেছেন, তিন‘শ সদস্য সাংসদ হয়ে গেছেন। আর অপজিশনে ৭জন আর আমাদের দুইজন।

তিনি বলেন, এসবের অর্থটা কী? এটা খেলা নাকী। ১৭ কোটি মানুষকে নিয়ে কী খেলা করা যায়? সারাদেশের মানুষের মুখে মুখে শুনতে হচ্ছে যে, নাটকগুলো করেছে আমি মনে করি মানসিকভাবে ভারসাম্য না হারালে কেউ এসব করতে পারে না। চুপি চুপি রাতে কি হলো আর সকালে বলে দিলো হয়ে গেছে এটা কোনো স্বাধীন সার্বভৌম দেশে হওয়ার কথা নয়। রাষ্ট্র নিয়ে এভাবে খেলা করা চলে না। যারা এসব করছে তারা না বুঝে করছে। তৃতীয়বারের মতো পাঁচ বছরের জন্য আমরা হয়ে যাচ্ছি এই ধরনের তথাকথিত নির্বাচন কোনো সুস্থ মানুষের করার কথা নয়। মানসিকভাবে কেউ সুস্থ থাকলে এসব করতে পারে না। এটা অসুস্থ মানসিকতার পরিচয়। এটা কোনো ভাবে মেনে নেয়া যায় না। আমরা সবাই বলেছি এটা আইনানুগভাবে হয় না, সংবিধান অনুযায়ী হয় না। সংবিধানের উর্ধেব কেউ নয়।

জনগনের মালিকানার বিষয়টি উল্লেখ করে সংবিধান প্রণেতা কামাল বলেন, সুষ্ঠু গ্রহনযোগ্য নির্বাচন ছাড়া জনগনের প্রতিনিধি হওয়া যায় না। জনগনের নামে এগুলো কেনো করা হচ্ছে ? নির্বাচনের অনুষ্ঠান হবে, তারিখ নির্দিষ্ট হবে, সরাসরি মানুষ ভোট দেবে, ফলাফল হবে। এটা অন্য কোনো কায়দায় নিলে দেশে স্থিতিশীলতাও আনে না, বৈধ্যতাও আনে না, ক্ষমতায়ও বসিয়ে দিতে পারে না। এই ধরনের চালাকির অনুষ্ঠান। বঙ্গবন্ধু বলতেন রাজ চালাকি। আমরা রাজনীতি থেকে সরে যাচ্ছি রাজ চালাকিতে। আমি বলব, ৩০ ডিসেম্বর যে নির্বাচন হয়েছে সেটা রাজ চালাকির একটা সুন্দর উদাহরণ। আমরা বলব, রাজ চালাকি থেকে বিরত থাকুন, জনগনের সামনে সব কিছু তুলে ধরুন। সংবিধান আছে সংবিধান অনুযায়ী আলাপ-আলোচনা করে যা করার করুন। এছাড়া কোনো বিকল্প থাকতে পারে না।

জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, আওয়ামী লীগ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এক বিষয় নয়। বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতা সমর্থক এটাকে বাদ দিয়ে আরেকটা উপলব্ধি করা যাবে না। তিনিই দেশের স্থপতি।

তিনি বলেন, ৩০ ডিসেম্বরে অতি ক্ষমতার লোভে গণতন্ত্রকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছে, সারাদেশে নারীদের যেভাবে ধর্ষন করা হয়েছে, সূবর্ণচর(নোয়াখালী) করা হয়েছে, মানুষের কন্ঠ রুদ্ধ, বিবেক ক্ষত-বিক্ষত। পৃথিবীর ইতিহাসে এই ধরনের বর্বর উলঙ্গ ভোট ডাকাতির নির্বাচন আর কোথাও হয়েছে বলে আমি শুনিনি। এভাবে তিনশ আসনে ঘুষ দিয়ে, দুর্নীতি করে, সমস্ত প্রশাসন যন্ত্রকে ধবংস করে দিয়ে বাংলাদেশে কোনো সরকারের পক্ষে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করা আর সম্ভবপর নয় বলে আমি মনে করি।

মুক্তিযুদ্ধের চেতনা যদি দল ও ব্যক্তির ক্ষমতা হয় সেটা জনগন চায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি সুব্রত চৌধুরী বলেন, আজকে আওয়ামী লীগ প্রতিদিন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করছে, তার আদর্শকে হত্যা করছে, সংবিধানকে হত্যা করছে। মুখে অনর্গল মানুষকে মিথ্যাচার আর প্রতারনা করছে। আমরা এসব হজম করছি। সর্বশেষ যেটা নির্বাচন হয়ে গেলো সেটা নির্বাচন বলবেন না নির্যাতন বলবেন, ১৭ কোটি মানুষের সাথে প্রতারনা বলবেন। যে সরকার কয়েকদিন আগে মন্ত্রিসভা গঠন করলো আর মন্ত্রিসভা গঠনের পরদিনই শ্রমিক হত্যা করলো। এরা(আওয়ামী লীগ) বঙ্গবন্ধুর ধারে কাছেও নাই। তারা সারা জাতির সাথে প্রতারনা করলো।

সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু বলেন. ৩০ ডিসেম্বর কেমন নির্বাচন হয়েছে এটার ব্যাখ্যা দেয়ার প্রয়োজন নেই আছে বলে আমি মনে করি না। রাস্তা-ঘাট থেকে শুরু করে যে কোনো জায়গায় এমন কোনো লোক পাই না যে আমি ভোট দিতে পেরেছি। আর যে বলে আমি ভোট দিতে পেরেছি সে ২০০ উপরে ভোট দিয়েছে। জাতি শুধু নয় বিশ্ব হতবাক হয়েছে এ কেমন নির্বাচন হলো? এটা হচ্ছে জাতির সাথে মস্করা করা, তামাশা করা।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা অধ্যাপক আবু সাইয়িদ, অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আমসা আমিন, মফিজুল ইসলাম খান কামাল, মোকাব্বির খান, অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বীর প্রতীক, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আসাদুজ্জামান প্রমূখ বক্তব্য রাখেন।