সাম্প্রতিক

২৫ মার্চ গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি চায় ১৪ দলীয় জোট

 ২৫ মার্চের গণহত্যার জন্য পাকিস্তানের শাসক ও সেনাদের বিচারের মুখোমুখি করে এই গণহত্যার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোট।

সোমবার (২৫ মার্চ) বিকেল রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শিখা চিরন্তনে পুস্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানে জোটের শীর্ষ নেতারা এই দাবি জা‌নান।

জোট নেতারা বলেন, ‘১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালো রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বর্বর গণহত্যা রুয়ান্ডার গণহত্যার চেয়েও ভয়াবহ। তাই ২৫ মার্চকে আন্তর্জাতিক গণহত্যা দিবস ঘোষণা করতে হবে।’

বক্তারা বলেন, ‘৭১ সলে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি জামায়াতের সহায়তায় ইতিহাসের সবচেয়ে বর্বর হত্যাকান্ড চালায় পাকিস্তানি সেনারা। সেই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলণ্ঠিত করেছেন। তাদের দল ও দোসরদের এ দেশে থাকার কোনো অধিকার নেই।’

এসময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। পাকিস্তানি শাসকরা ভীত হয়ে ২৫ মার্চ কালো রাতে গণহত্যা চালায়। আক্ষেপের সঙ্গে বলতে হয়, পৃথিবীর ইতিহাসে বৃহত্তর গণহত্যার স্বীকৃতি দেয়নি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। ৩০ লাখ মানুষ হত্যা পৃথিবীর সর্ববৃহৎ গণহত্যা।’

আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানি শাসক ও সেনাদের বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের পুনর্বাসন করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধ্বংস করে দিয়েছেন। যারা এখনো পাকিস্তানের চেতনা বাস্তবায়নে কাজ করছে, সেই বিএনপি-জামায়াতকেও জাতির সামনে ক্ষমা চাইতে হবে।’

সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, ‘সত্য ইতিহাস জানলে বঙ্গবন্ধুকে জানা যাবে। ২৫ মার্চের কথা জানা যাবে। এখনই সময় সঠিক ইতিহাস জানার, তাই অধ্যয়ন করতে হবে। বিএনপি-জামায়াত স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি যাতে কোনোদিন ক্ষমতা ও বিরোধী দলে আসতে না পারে, গণহত্যার এ দিবসে আমাদের শপথ নিতে হবে।’

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দীলিপ বড়ুয়া, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, জাতীয় পার্টির (জেপি) সাধারণ সম্পাদক শেখ শহিদুল ইসলাম প্রমুখ।