সাম্প্রতিক

‘মান্নার ঘটনা রাজনৈতিক, সংলাপের উদ্যোগ চলবে’

 নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার টেলিসংলাপ ফাঁসের ঘটনায় উদ্বিগ্ন নয় নাগরিক সমাজের নেতারা। তাদের মতে, মান্না রাজনৈতিক নেতা। ঘটনাও রাজনৈতিক। নাগরিক সমাজের সংলাপের উদ্যোগ তারা চালিয়ে যাবেন।

তবে প্রকাশ্যে কিছু না বললেও, মাহমুদুর রহমান মান্নার টেলিসংলাপ ফাঁসের ফলে নাগরিক সমাজের সংলাপের উদ্যোগের প্রক্রিয়ায় যে কিছুটা ভাটা পড়েছে এটা এখন দৃশ্যমান। ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের’ ব্যানারে একটি আলোচনা সভার কথা ছিল। এখন সেটি হচ্ছে না।

এ বিষয়ে ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজে’র নেতা এম. হাফিজ উদ্দিন খান বলেন, ‘বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে না। তবে উদ্যোগ চালিয়ে যাব।’

১৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে সংলাপের উদ্যোগ নিয়েছিলেন সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামছুল হুদা। ওইদিনই ‘উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ’ নামে ১৩ সদস্যের একটি নাগরিক কমিটির ঘোষণা দেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

কমিটির আহ্বায়ক ড. এটিএম শামছুল হুদা। সদস্যরা হলেন— তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা এম হাফিজ উদ্দিন খান, এএস এম শাহজাহান, ড. আকবর আলী খান, সিএম শফি সামী, রাশেদা কে চৌধুরী, রোকেয়া আফজাল রহমান, ড. জামিলুর রেজা চৌধুরী, ড. শাহদীন মালিক, সৈয়দ আবুল মকসুদ, আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী, ড. আহসান মনসুর, ড. বদিউল আলম মজুমদার।

এর আগে ৭ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনের সেমিনার হলে বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার নাগরিকরা ‘জাতীয় সংকট নিরসনে জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভায় মিলিত হয়েছিলেন। সেমিনারের উদ্যোক্তা ছিলেন ড. কামাল হোসেন। ওই সভা থেকে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছিলেন বিশিষ্ট নাগরিকরা।

৯ ফেব্রুয়ারি দেশে চলমান সংকট নিরসনে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণের উদ্যোগ নিতে লিখিত অনুরোধও জানিয়েছিলেন ড. এটিএম শামছুল হুদা। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে সংলাপে বসার অনুরোধ জানিয়ে একই রকম চিঠি দিয়েছিলেন ড. হুদা।

বিএনপি এ উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও আওয়ামী লীগ এ উদ্যোগের সমালোচনা শুরু থেকেই করে আসছিলেন। পরে আওয়ামী লীগ সংলাপের দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সবুজ সংকেত না পাওয়ায় সে উদ্যোগ আর এগোয়নি। এরপরই মূলত ১৩ ফেব্রুয়ারি উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজ একটি কমিটি ঘোষণা করেন। যাদের একটি গোলটেবিল বৈঠক বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) হওয়ার কথা ছিল।

সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদুর রহমান মান্না আটক হওয়ার কারণেই এই কর্মসূচি অনেকটাই হোঁচট খেল। কেননা, মান্নার সঙ্গে এ বিশিষ্ট নাগরিকদের অনেকেরই সু-সম্পর্ক। মান্নার নাগরিক ঐক্যের কর্মসূচিতেও ১৩ সদস্যের ‘উদ্বিগ্ন’ নাগরিকদের অনেকেই উপস্থিত থাকতেন।

মান্নার ঘটনা নাগরিকদের উদ্যোগে প্রভাব পড়েছে কি না জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিক— সুজনের সম্পাদক ও উদ্বিগ্ন নাগরিক সমাজের সদস্য ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ‘মাহমুদুর রহমান মান্না আটকের ঘটনা আমাদের উদ্যোগে কোনো প্রভাব ফেলবে না। মান্না সাহেব তো রাজনৈতিক ব্যক্তি। আমরা সিভিল সোসাইটি। আমাদের কাজ আমরা করব। সংলাপের উদ্যোগ চলবে।’

সূত্র মতে, বৃহস্পতিবারের আলোচনা সভা থেকে সঙ্কট নিরসনে প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন, সংসদ কার্যকর, সংসদীয় কমিটির ক্ষমতা বৃদ্ধি, ‘কালাকানুন’ বাতিল, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান পরিচালনা, রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ সংস্কার, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত, বিচারপতি নিয়োগের নীতিমালা তৈরি, নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন, দুর্নীতি দমন কমিশনকে শক্তিশালীসহ বেশকিছু দাবি নাগরিক সমাজের পক্ষ থেকে উপস্থাপনের কথা ছিল।

এ বিষয়ে এম হাফিজ উদ্দিন খান বলেন,‘ নাগরিক সনদের কাজ চলছে। আমরা এখন নতুন কোনো কর্মসূচি দিচ্ছি না। তবে দুই চার দিনের মধ্যে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।’

ড. বদিউল আলম বলেন, ‘আমরা কালকের ( বৃহস্পতিবার) আলোচনা সভা করছি না। আমরা নিজেরা বসে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করব।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা তো রাজনৈতিক সমস্যা তৈরি করছি না। আমরা বর্তমান সমস্যার সমাধান চাইছি। এ জন্য একটি টেকসই রাজনৈতিক সনদ তৈরিরও কাজ করছি।’

কতদিনের মধ্যে এই টেকসই সনদ জাতির সামনে উপস্থাপন করা হবে জানতে চাইলে ড. বদিউল আলম দ্য রিপোর্টকে বলেন, ‘দ্রুততম সময়ের মধ্যেই হবে। তবে নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া যাচ্ছে না। আশা করছি দ্রুতই হবে।’

আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমি এখন কিছু বলব না। আমি ব্যস্ত আছি।’

সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার ড. এটিএম শামছুল হুদার ফোনে একাধিকবার কল দিয়ে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

নাগরিকদের উদ্যোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ বলেন, ‘নাগরিক সমাজকে সংলাপের কথা বলে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল মান্নার টেলিসংলাপ ফাঁসের ফলে তা জাতি জেনে গেছে। এই ফাঁস হওয়া সংলাপ নাগরিক সমাজের মুখোশ উন্মোচন করে দিয়েছে। আমরা মান্নার সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করছি।দ্য রিপোর্ট