সাম্প্রতিক

বিবৃতি, বিজ্ঞপ্তিতে কতটা গোছালো বিএনপি?

উকিল আবদুস সাত্তার। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা তিনি। সাবেক মন্ত্রী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলা বিএনপি নেতা। ২০০১ সালে ৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার আসনটি ছেড়ে দিতে হয় জোট শরিক প্রয়াত মুফতি ফজলুল হক আমিনীকে। যে কারণে সেবার নির্বাচনের লড়াইয়ে ছিলেন না তিনি। পরে অবশ্য টেকনোক্রেট মন্ত্রী করা হয় তাকে। কিন্তু গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি জোটের এক বিবৃতিতে ৮ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য হিসেবে নাম আছে উকিল আবদুস সাত্তারের। এরকম নানা অসংগতি ফুটে উঠেছে বিএনপির ওই বিবৃতিতে।

পারিবারিক ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিবৃতিদাতাদের অনেকেই দেশে নেই। কেউ আছেন কারাগারে। আবার ওই সময় সংসদ সদস্য ছিলেন না আব্দুস সাত্তারের মত এমন বেশ কয়েকজন ব্যক্তির নামও আছে ওই বিবৃতিতে। কারো নাম একাধিকবারও উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে বিএনপি তথ্যগত বিষয়ে কতটা গোছালো?

রাজনীতি বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপির বিবৃতিতে এমন ভুল ও অসংগতিই প্রমাণ করে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে কতটা অগোছালো হয়ে পড়েছে। কিন্তু দেশের অন্যতম একটি বড় রাজনৈতিক দলের তথ্য, গবেষণা ও গণমাধ্যম বিভাগ আরও সংগঠিত ও গোছালো হওয়ার কথা ছিল। মূলত, ছোট ছোট এসব দুর্বলতার কারণেও অনেক সময় বিএনপিকে বেকায়দায় পড়তে হয়।

সরকারের ‘দমন-পীড়ন, মিথ্যা মামলা ও মত প্রকাশের’ অধিকার হরণের অভিযোগে ২০ দলীয় জোটের সাবেক সংসদ সদস্যরা বিবৃতি দিয়েছিলেন গণমাধ্যমে। গত ২২ ফেব্রুয়ারি সাবেক বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুকের সই করা ওই বিবৃতিতে জুড়ে দেয়া হয় ১৭৯ জন সাবেক সংসদ সদস্যদের নাম। এর মধ্যে বিবৃতি দাতাদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাদেক হোসেন খোকা আছেন যুক্তরাষ্ট্রে, সাবেক মন্ত্রী ও দলের ভাইস চেয়ারম্যান চৌধুরী কামাল ইবনে ইউসূফ অবস্থান করছেন যুক্তরাজ্যে। তার নাম বিবৃতির তালিকায় দুবার তুলে দেয়া হয়েছে।  ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী এম মোরশেদ খান আছেন সিঙ্গাপুরে। বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এখন অবস্থান করছেন যুক্তরাষ্ট্রে। বিএনপির শীর্ষস্থানীয় এই নেতাদের পারিবারিক ও ঘনিষ্ঠ সূত্রে এসব তথ্য মিলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিবৃতিদাতাদের তালিকায় থাকা বিএনপির বিশেষ সম্পাদক ও রাজশাহী জেলা বিএনপি নাদিম মোস্তফা আছেন কারগারে। আরেক নেতা সোহরাব হোসেনও আটক। ৮ম জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য ছিলেন না এমন নেতাদেরও নাম আছে বিবৃতিতে। তারা হলেন- হাজী গোলাম মোরসেদ, মো. আলি হায়দার, মিয়া সেলিম, মো. হাজি ইব্রাহিম, আব্দুর রহমান চৌধুরী, গাজী নায়মুল ইসলাম, আবদুল আজীজ, আবু সাইদ, মো. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।

বিবৃতিতে অযাচিত এমন ভুলের বিষয়ে জানতে বিএনপি চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের একজন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিবৃতিটি তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের প্রেস সচিব মারুফ কামাল খান সোহেল। এ ব্যাপারে মারুফ কামাল খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঢাকাটাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘ওই বিবৃতি তৈরি করেছেন সাবেক চিফ হুইপ জয়নুল আবদিন ফারুক।’ তবে বিবৃতিতে তথ্যগত ভুল ও অসংগতির কথা তুলে ধরলে মারুফ কামাল বলেন, ‘যাদের নাম আছে তারা সবাই বিবৃতির দাবির সঙ্গে একমত। এখানে সমস্যা কোথায়?’ ৮ম জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য ছিলেন না এমন ব্যক্তির নাম থাকার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তারা হয়তো আগে-পরে অন্য সময় সংসদ সদস্য ছিলেন। তাই নাম দেয়া হয়েছে।’

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য জয়নুল আবদিন ফারুকের মুঠোফোনে চেষ্টা করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।