সাম্প্রতিক

পঞ্চম দিনের হরতালেও সাড়া নেই

লাগাতার অবরোধের মধ্যে দেশব্যাপী ২০ দলীয় জোটের ডাকা টানা পঞ্চম দিনের হরতালে সাড়া নেই।গত রবিবার ভোর ৬টা থেকে সর্বশেষ পাঁচ দিনের টানা হরতাল শুরু হয়।বুধবার ভোর ৬টায় প্রথম দফায় ৭২ ঘন্টা হরতাল শেষ হওয়ার আগেই আরো ৪৮ ঘন্টার হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।তবে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কোথাও হরতালে সাড়া নেই।

স্কুল-কলেজ ও অফিস-আদালত যথারীতি চলছে। সড়ক-মহাসড়কেও গাড়ির চাপও প্রচুর। নৌপথ, রেলপথও পুরোপুরি সচল রয়েছে। রাজপথের কোথাও বিএনপির নেতৃত্বে ২০ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়েনি।
জোটের পক্ষে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব সালাহউদ্দিন আহমেদ মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে শুক্রবার ভোর ৬টা পর্যন্ত হরতালের সময়সীমা বাড়ানোর ঘোষণা দেন।
গত তিন সপ্তাহ ধরে প্রতিটি কর্মদিবসে হরতালের ডাক দিলেও দৃশ্যত কোনো দিনই হরতাল পালিত হয়নি।
এদিকে অবরোধ-হরতালের মধ্যে আজ বৃহস্পতিবার সারাদেশে জেলা, উপজেলা, থানা, পৌরসভা ও সব মহানগরের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচি পালন করছে ২০ দল।
বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় হরতালের সমর্থনে বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং, অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে তেমন কোন সহিংস ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
হরতাল-অবরোধকে ঘিরে রাজধানীর বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন রয়েছে র‌্যাব, পুলিশ ও বিজিবি। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের যৌথ টহল টিম নামানো হয়েছে। দেশের অন্যান্য নগর মহানগর ও গুরুত্বপূর্ণ জেলাগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে। হরতাল-অবরোধের সমর্থনে মিছিল-পিকেটিং ঠেকাতে সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক তৎপরতা চোখে পড়ার মতো।
এছাড়া অবরোধ-হরতালে যে কোন সহিংসতা মোকাবেলায় পুলিশ-র‌্যাবের পাশাপাশি সারাদেশে বেশ কয়েক প্লাটুন বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
সকালে হরতালে রাজধানীতে সীমিতসংখ্যক গণপরিবহন চলাচল করতে দেখা গেছে। তবে প্রশাসনের সাথে বৈঠকে ঢাকা পরিবহণ মালিক সমিতির গাড়ি চালানোর আগের সিদ্ধান্ত মোতাবেক বেলা বাড়ার সাথে সাথে যানবাহন চলাচল বাড়লেও পরিবহনগুলোতে যাত্রী সংখ্যা কম দেখা যায়। এছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলও ছিল কম।
ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক থাকলেও যাত্রী কম থাকায় নির্ধারিত সময়ের পর সেগুলো ছাড়ছে। তবে গাবতল, সায়েদাবাদ ও মহাখালী থেকে দূরপাল্লার হাতে গোনা কিছু বাস ছেড়ে যেতে দেখা গেলেও সেগুলোতে যাত্রী সংখ্যা ছিল কম।
এদিকে দেশের বিভিন্ন নগর-মহানগরসহ জেলায়ও চলছে শান্তিপূর্ণ হরতাল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সতর্ক প্রহরার মধ্যেও হরতাল-অবরোধের সমর্থনে বিচ্ছিন্ন ও বিক্ষিপ্ত মিছিল-পিকেটিং করছে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীরা। বিভিন্ন এলাকায় সড়ক অবরোধ, রাস্তায় ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ঘটেছে ককটেল বিস্ফোরণ। জেলা সদর, নগর-মহানগরগুলোর আন্তঃমহাসড়কগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রহরায় কিছু হালকা যানবাহন চলাচল করার খবর পাওয়া গেছে।
হরতালের কারণে পূর্ব নির্ধাতিরত আজকের এসএসসি পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। এছাড়া রাজধানীসহ সারাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি খুবই কম দেখা যায়।