সাম্প্রতিক

ঢুকতে মানা, মানা বেরোতেও!

 অনির্দিষ্টকালের অবরোধ আহ্বানের পর থেকে গুলশান কার্যালয়েই আছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের এক বছর পূর্তির দিন তিনি সেখান থেকে বের হতে চেয়েও পারেননি পুলিশের বাধায়। পরের কয়েকদিন ছিলো একই পরিস্থিতি। এখন অবশ্য তার বের হতে বাধা নেই। কিন্তু তিনি থাকছেন এই কার্যালয়েই। সেখানে অবশ্য কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী ছাড়া যেতে পারছেন না অন্য নেতারা। আর কোনো বিশেষ সুযোগ পেয়ে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ঢুকার সুযোগ যারা পেয়েছেন তারা আবার বের হতে পারছেন না সেখান থেকে।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়ার গুলশানের কার্যা‌লয়ে গিয়েছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান ও সাবেক পুলিশ প্রধান এবং চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এম এ কাইয়ুম। ওইদিন বিকালে খালেদা জিয়ার সঙ্গে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন এই দুই নেতা। বৈঠক শেষে ইউরোপীয় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা চলে যাওয়ার পর বের হওয়ার সুযোগ আর পাননি নজরুল ইসলাম খান ও এম এ কাইয়ুম। এর আগে আটকা পড়া বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা সাবিহউদ্দিন আহমেদ অবশ্য কার্যালয় থেকে বের হয়ে এসেছেন নানা দেন দরবার করে। তিনি আর বিএনপি করবেন না-এমন মুচলেকা দেয়ার কথাও শোনা যাচ্ছে।
নজরুল ইসলাম খান এবং এম এ কাইয়ুম কেন গুলশান কার্যালয়ে এখনও আছেন-জানতে চাইলে ওই কার্যালয়ের কর্মকর্তা শায়রুল কবির ঢাকা টাইমস টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, ‘কার্যালয় থেকে বের হলে ওনারাও আটক হতে পারেন, তাই বের হচ্ছেন না তারা’।
শায়রুল কবির কথা বললেও কার্যালয়ের ভেতরে থাকা নজরুল ইসলাম খান বা এম এ কাইয়ুমের সঙ্গে যোগাযোগ করা যায়নি। নজরুল ইসলাম খানের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি বন্ধ আছে।
বিএনপির এই নেতা কার্যালয়ে কী করেন- জানতে চাইলে শায়রুল কবির বলেন, ‘তিনি অসুস্থ, বিশ্রামে আছেন’।
এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি বিএনপি ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় থেকে বের হয়েছিলেন চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ! এর দুদিন আগে বাংলাদেশে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনার রবার্ট গিবসনের বৈঠকে যোগ দিয়েছিলেন সাবিহ উদ্দিন আহমেদও। গিবসন চলে যাওয়ার পর সেখান থেকে আর বের হননি সাবিহ উদ্দিন আহমেদ। পরে তিনি তার ব্যবসায়ী ভাইকে ফোন করে সেখান থেকে বের করে নেয়ার ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান। সাবিহ উদ্দিনের ফোন পেয়ে তার ব্যবসায়ী ভাই সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে ১৩ই ফেব্রুয়ারি তাকে গুলশান কার্যালয় থেকে নিয়ে যান।