সাম্প্রতিক

মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেনের সকল কর্মসূচিকে বয়কটের ঘোষণা

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের উদ্যোগে এক যৌথসভায় মেহেরপুর -১ আসনের সংসদ সদস্য ও মেহেরপুর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন দোদুলকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তাঁর সকল কর্মসূচিকে বয়কটের ঘোষণা দিয়েছেন। বুধবার দুপুর ১টার সময় ঐতিহাসিক মুজিবনগর আ¤্রকাননে মুজিবনগর উপজেলার ৪ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ইউনিট প্রধানদের এক যৌথসভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। মুজিবনগর উপজেলার ৪ ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের ইউনিট প্রধানদের এ সিদ্ধান্তের সাথে একাত্ততা ঘোষণা করেছেন মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগ, কৃষকলীগ ও বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগ।
যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন মোনাখলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাইন অফা’র সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাগোয়ান ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুজিবুর রহমান মধু ও সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, মহাজনপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি রেজাউর রহমান নান্নু ও সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রশিদ বল্টু, মোনাখালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জামাত আলী, দারিয়াপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মঈনুল হোসেন।
মোনাখালি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সভার সভাপতি রফিকুল ইসলাম গাইন অফা বলেন, সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন দোদুল তৃণমূল নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করা, নিজের খেয়াল খুশি মতো কাজ করা ও সংগঠন চালানোর মতো যোগ্যতা না থাকার কারণে আমরা তাঁকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে তার সভা সহ তার সকল কার্যক্রম বয়কট ঘোষণা করেছি।
মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগের সভাপতি কামরুল হাসান চান্দু বলেন, আজকে জনসভা করবে বিএনপি। আজকের দিনে আওয়ামী লীগের প্রোগ্রাম কখনও মেনে নেওয়া যায়না । তারপর জেলার একজন সভাপতি আজকের দিনে জনসভা ডাকে কিভাবে রোধগম্য নয়। আমরা মুজিবনগর উপজেলা যুবলীগ এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সেই সাথে মুজিবনগর উপজেলার সকল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির সিন্ধান্তের সাথে একত্ততা ঘোষণা করছি।
মুজিবনগর কৃষকলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি কখনও কোন দিন আমাদের ডাকেননি কিছু বলেনোনি। আমরা মুজিবনগর কৃষকলীগের পক্ষ থেকে তাকে ও তার সকল কর্মকান্ডকে বয়কট করছি। এবং সেই সাথে মুজিবনগর উপজেলার ৪ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্তর সাথে একাত্ততা ঘোষণা করেছি।
এছাড়া একপেশে সমাবেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি জেলা আওয়ামীলীগের ১ নম্বর যুগ্ম সম্পাদক আবুল কাশেম ও সদর উপজেলা আাওয়ামীলীগের সভাপতিও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুলকেও।
আবুল কাশেম জানান, দাওয়াতপত্র বা মোবাইল ফোনেও আমাকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, নিবেদীত প্রাণ যে সকল আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আছেন তাদের তিনি মাইনাস করে চলছেন। বর্জন তারই প্রতিক্রিয়া।
সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুল বলেন, আমাদের এমপি সাহেব একলা চলো, নীতি অনুসরণ করে চলেছেন। এই নীতিতে নৌকার বিজয় কি নিশ্চিত হবে?
এদিকে সরকারের উন্নয়ন ভাবনা নিয়ে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হলেও আওয়ামীলীগের অন্যতম অঙ্গ সংগঠন জেলা যুবলীগকেও সমাবেশে আমন্ত্রন জানানো হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহবায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান।
এদিকে একই সঙ্গে পিরোজপুর সাংগঠনিক ইউনিট আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুস সালাম ও সমাবেশে যোগ দেননি। তিনি জানান, জেলা আওয়ামীলীগ কে এই এমপির হাত থেকে বাঁচাতে হবে। এমপি সাহেব শিক্ষক মানুষ। তিনি রাজনীতিতেও সকলকে ছাত্র মনে করেন। সে কারণে তারও ওই সমাবেশসহ সকল কর্মসূচী আমরাও বর্জন করেছি। আমাদের ইউনিট থেকেও আওয়ামীলীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী সমাবেশে যোগ দেননি।

উল্লেখ্য বুধবার মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন দলীয় নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে জনসভার ডাক দেন।
এ ব্যাপারে মেহেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফরহাদ হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, আমার বিরুদ্ধে একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। ওদের মধ্যে চারজন বর্জন করতে পারে সবাই না। তবে বর্জন করার আগে কোন নেতাও আমাকে বিষয়টি জানাননি। তবে মুজিবনগর উপজেলার নেতাকর্মীদের সাথে সদরের নেতাদের বিষয়টি মিলিয়ে ফেলা ঠিক হবে না বলেন তিনি।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না