সাম্প্রতিক

মুজিবনগরে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা

শাকিল রেজাঃ মাঝিদের হেঁইয়ো রে হেঁইয়ো শব্দের ছন্দে মুজিবনগর ভৈরব নদীতে অনুষ্ঠিত হয়ে গেল গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ প্রতিযোগীতা।মুজিবনগর উপজেলার বেশ্বনাথপুর ঘাটে বৃহঃপ্রতিবার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়। ঐতিহ্যবাহী নৌকা নিয়ে এমন প্রতিযোগীতামূলক খেলা দেখে নতুন প্রজন্মের দাবী তারা প্রতিবছর এই খেলার আয়োজন দেখতে চাই। বৃহঃপ্রতিবার বিকেলে মুজিবনগর উপজেলার বেশ্বনাথপুর কাঁচামাল ব্যাবসায়ীর সমিতির আয়োজনে মুজিবনগরের ভৈরব নদীতে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাধীনতার পর জেলার ভৈরব নদীটি এক সময় মরা খালে পরিনত হলে নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা বন্ধ হয়ে পড়ে। ভৈরব নদী পূনঃখনন করার ফলে নতুন প্রজন্মের কাছে হারোনো এই ঐতিহ্য তুলে ধরতে কয়েকবার নৌকা-বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।এদিকে ভৈরব নদীর দুপাড়ে নৌকা বাইচ দেখতে হাজার হাজার নারী-পুরুষের ঢল নামে। কেউ নৌকা, কেউ বা বোটে করে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে আসেন। প্রতিযোগীতায় বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ১০টি নৌকা অংশগ্রহণ করে।প্রথম রাউন্ডে লিগ খেলার মাধ্যমে নৌকা বাইচ অনুষ্ঠিত হয়।পরে নকআউট খেলার মাধ্যেমে বিজয়ী দল বাছায় করা হয়। সকল দলকে হার মানিয়ে গৌরীনগর গ্রামের প্রফেসর আবুল হোসেনের দল চাম্পিয়ন হওয়ায় গৌরব অর্জন করে।খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।এ খেলাকে কেন্দ্র করে গ্রাম বাংলার সকল মানুষ একত্রে মিলিত হয়।এর আগে মেহেরপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম রসুল প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে খেলার উদ্বোধন করেন।মোনাখালী ইউপি চেয়ারম্যান মফিজুর রহমান মফিজের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন মুজিবনগর থানা অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হাশেম,জেলা পরিষদের সদস্য আজিমুল বারী মুকুল,বেশ্বনাথপুর কাঁচামাল ব্যাবসায়ী সমিতির সভাপতি বাহাল মন্ডল,সাধারন সম্পাদক আনিমুল ইহসান তুরাফ। অনুষ্ঠানের সার্বিক সনচালনা করেন উপজেলা শ্রমিকলীগের সভাপতি আবুল কালাম আজাদ।
আয়োজকরা বলছেন, নৌকা বাইচ গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেলা। যুগে যুগে গ্রাম বাংলায় এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।নতুন প্রজন্মের কাছে হারানো এই ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে আজকের এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করি। প্রতি বছর এই নৌকা বাইচ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হবে বলে তারা জানান।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না