মাছ বেচে ট্রোল হওয়া সেই ছাত্রী কেরলের বন্যায় দিলেন দেড় লাখ

তাঁর জেলা পুরোপুরি জলের তলায়। চার দিক হাহাকার পড়ে গিয়েছে। তাঁর পরিবার বন্যায় প্রভাবিত। ঘোর সঙ্কটের মধ্যে পড়েও নিজের কর্তব্যটুকু ভুলতে চাননি। নিজের পড়াশোনার জন্য যেটুকু টাকা সাহায্য পেয়েছিলেন, রাজ্যবাসীর বিপদে সেটা উজার করে দিতেও কুণ্ঠাবোধ করেননি। দান করে দিয়েছেন সাহায্যে পাওয়া পুরো দেড় লক্ষ টাকাই। তিনি আর কেউ নন, সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে ভাইরাল মুখ হয়ে ওঠা হানান হামিদ।

বন্যায় পুরোপুরি বিধ্বস্ত কেরল। ইতিমধ্যেই সাড়ে তিনশো মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে সেই বন্যা। জলবন্দি বহু মানুষ। ঘরছাড়া কয়েক লক্ষ রাজ্যবাসী। রাজ্যের ১৪টি জেলার মধ্যে ১৩টি জেলাতেই চূড়ান্ত সতর্কতা জারি হয়েছে। এই ১৩টি জেলার মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলা ইদুকি। আর এই জেলারই বাসিন্দা বিএসসি-র ছাত্রী হানান। বলেন, “সাহায্যের যে অর্থ আমি পেয়েছি, সেই অর্থ দান করেই এই ঘোর বিপদে রাজ্যবাসীর পাশে দাঁড়াতে চাই।”

মাসখানেক আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি ছবি ব্যাপক ভাবে ভাইরাল হয়। সেখানে দেখা যায়, কলেজের পোশাক পরিহিতা একটি মেয়ে মাছ বিক্রি করছে। কেন? বিভিন্ন সূত্র মারফত খবর পাওয়া যায়, হানানের পরিবারের আর্থিক অবস্থা খুবই শোচনীয়। পড়াশোনা চালানোর মতো আর্থিক স্বচ্ছলতা নেই তাঁর পরিবারের। তাই বাধ্য হয়েই কলেজ শেষে মাছ বিক্রি করতে হয় তাঁকে। সেই ছবি ক্যামেরাবন্দি হয়। কলেজের পোশাকে মাছ বিক্রি করছে ছাত্রী! হু হু করে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে সেই ছবি। অনেকে সমবেদনা জানান, অনেকে তাঁর দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। কিন্তু কিছু মানুষ হানানের এই কাজকে অতিরঞ্জিত এবং ভুয়ো বলে পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে দেন। নুরউদ্দিন শেখ নামে এক ব্যক্তি ফেসবুক লাইভ করে দাবি করেন হানান মিথ্যা বলছেন। সিনেমায় রোল পেতেই নাকি তিনি এই অভিনয় করছেন! ব্যাপক ভাবে ট্রোলড হয়েছিলেন হানান। সোশ্যাল মিডিয়ায় নাগাড়ে নির্দয় ট্রোলিংয়ে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েন বছর উনিশের কলেজছাত্রী। কান্নাভেজা চোখে তখন বলেছিলেন, “সত্যি বলছি, আমাকে রেহাই দিন।”

টানা বর্ষণে ইদুকির বিভিন্ন জায়গায় ধস নামে। জেলারই আদিমালিতে উদ্ধারকাজ চালানো হচ্ছে। ছবি: পিটিআই।

তবে ট্রোলড হয়েও অটল ছিলেন নিজের কাজে। পাল্টা কটাক্ষ ছুড়ে না দিয়ে তিনি বলেছিলেন, “নিন্দুকদের ধন্যবাদ। তাঁদের কাছ থেকে একটা শিক্ষা পেলাম। শুভবুদ্ধির সঙ্গে থাকার শিক্ষা।” ঘোর সঙ্কটের মধ্যে দাঁড়িয়ে এ বারও অটল থাকতে দেখা গেল হানানকে। এক জন সাহায্যপ্রার্থী হয়েও রাজ্যের সাহায্যপ্রার্থীদের দিকে হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না