মহাকাশে স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ বাংলাদেশ প্রেরণ করায় মেহেরপুরে আতশবাজি উৎসব

মেহেরপুর প্রতিনিধি: দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ কক্ষপথে প্রেরণ করায় মেহেরপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আতশবাতি উড়িয়ে উৎসব করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতে জেলা স্টেডিয়ামে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়। এসময় জেলা প্রশাসক পরিমল সিংহ, স্থানীয় সরকারের উপরিচালক খায়রুল হাসান, জেলা পুলিশ সুপার আনিছুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেরপুর প্রেসক্লাবের উপদেষ্ঠা তুহিন আরণ্য, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম রেজাউল করিমসহ সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাগন উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার ভোর রাতে দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ কক্ষপথে পাঠানোর মাধ্যমে মহাকাশে যোগাযোগ উপগ্রহ পাঠানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের ৫৭তম দেশ।
আমেরিকান সংস্থা স্পেসএক্স স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (বাংলাদেশ সময় শুক্রবার রাত ২টা) ফ্যালকন ৯ রকেটের মাধ্যমে ফ্লোরিডার কেপ ক্যানভেরাল উৎক্ষেপণ মঞ্চ থেকে স্যাটেলাইটটি কক্ষপথে প্রেরণ করবে। সরকার ২০১৫ সালে ‘বঙ্গবন্ধু-১’ স্যাটেলাইট প্রকল্প গ্রহণ করে এবং এটি নির্মাণে একই বছরের নভেম্বরে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া কোম্পানির সঙ্গে ২৪৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চুক্তি স্বাক্ষর করে। স্যাটেলাইটের জন্য মোট ব্যয় ২,৯৬৭ কোটি টাকা, এরমধ্যে এইচএসবিসি ঋণ হিসেবে ১,৫৮৫ কোটি টাকা সরবরাহ করছে। স্যাটেলাইটটি নিয়ন্ত্রণের জন্য ইতোমধ্যেই গাজীপুরের জয়দেবপুরে এবং রাঙামাটির বেতবুনিয়ায় দুটি দুটি নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এ ৪০ ট্রান্সপন্ডারস্ রয়েছে, যার ফলে স্যাটেলাইটটি সার্কভূক্ত দেশগুলো ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, তুর্কিমিস্তান, কাজাকিস্তান এবং তাজিকিস্তানেও সেবা দিতে পারবে। এক ট্রান্সপন্ডারস্ ৩৬ মেগাহার্টস্ এর সমান।
৪০ ট্রান্সপন্ডারস্ এর মধ্যে বাংলাদেশ ২০ ট্রান্সপন্ডারস্ ব্যবহার করবে। অবশিষ্ট ২০ ট্রান্সপন্ডারস্ ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়ার মত দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে সহজেই ভাড়া দেওয়া যাবে। বাংলাদেশে প্রতিবছর বেসরকারী স্যাটেলাইট টেলিভিশন, টেলিযোগাযোগ এবং রেডিও যোগাযোগের জন্য প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ ডলার খরচ করে।
নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের ফলে সম্প্রচারে জন্য বছরে প্রায় ১ শ’ ১০ থেকে ১ শ’ ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।