সাম্প্রতিক

মরমী বাউল সুর সাধক ২১শে পদক প্রাপ্ত খোদা বকস সাঈজীর ২৮ তম প্রয়াণ দিবস ১৪ জানুয়ারী


মরমী বাউল সুর সাধক ২১শে পদক প্রাপ্ত খোদা বকস সাঈজীর ২৮ তম প্রয়াণ দিবস ১৪ জানুয়ারী । দিবসটি উপলক্ষ্যে তার নিজস্ব বসতবাড়ী আলমডাঙ্গার যাহাপুর আজ ১৪ ও ১৫ জানুয়ারী ২দিন ব্যাপি বর্ণাঢ্য বাউল মিলন মেলার আয়োজন করা হয়েছে। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থাকবেন চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জেলা প্রশাসক গোপাল চন্দ্র দাস, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খন্দকার ফরহাদ হোসেন, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাবেক পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটন, দর্শন পৌর মেয়র মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদাহ পৌর মেয়র সাইদুল করিম মিন্টু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার রাহাত মান্নান, আলমডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ ফকরুল আলম খান, জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি এড. রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, আলমডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম মন্টু, সাধারণ সম্পাদক খন্দকার হামিদুল ইসলাম আজম, সহ সভাপতি আতিয়ার রহমান মুকুল, যুগ্ম সম্পাদক প্রশান্ত বিশ^াস সহ এলাকার রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও সুধিজন। “মরমী সাধক খোদা বকস্ শাহর সংক্ষিপ্ত জীবনী” ঃ- অস্যধ্য সাধনার বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে যা প্রাতঃস্মরনীয়, অমর অক্ষয় হয়ে আছেন তাদের মধ্যে মরমী কবি খোদা বকস শাহ অন্যতম। উপমহাদেশের খ্যাত এই সাধক বাংলা ১৩৩৪ সালে ও ১৯২৮ ইংরেজী সালে আলমডাঙ্গা উপজেলা আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়নের জাহাপুর গ্রামে জন্ম গ্রহণ। তার পিতা কফিল উদ্দিন শাহ ছিলেন গ্রামের স্বচ্ছল কৃষিজীবি। তিনি ঘোলদাড়ী প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ৫ম শ্রেণী পর্যন্ত লেখাপড়া করেন। বাল্যবয়স থেকেই সংগীতের প্রতি ছিল তার সহজাত আসক্তি। বিদ্যালয়ের পাট চুকিয়ে কম বয়সেই সহীতে টানে যোগ দিরেন কৃষ্ণ যাত্রা দলে। তারপর কিছুদিন রাই অপেরায় কাজ করলেন বিবেকের ভূমিকায়। তার অসাধারণ মায়াবী সুরেলা কন্ঠ। আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি যখন গান গাইতেন, অজ্র¯্র দর্শকশ্রোতা মুন্ত্রমুগ্ধের মত শুনতো তার গান। খোদা বকস শাহ তখন তরুণ কিশোর। যাত্রাদল ভেঙ্গ গেছে বেশ কিছুকাল। গ্রামের এক আসরের বাউল গান শুনে চমকে উঠলেন তিনি। গানের বাণী আর সুর ভাসিয়ে নিয়ে গেল খোদা বকস শাহর মন প্রাণ। আসরে গাইেিলন অমুল্য শাহ বেহাল শাহ ও শুকচাঁদ শাহ। ১৯৪৫ সালে সেই দিনই শুকচাঁদ শাহের কাছে সংগীত মুরিদ হন। অতঃপর হাণিাকুন্ডুতে কিছু দিন অতিবাহিত করেন। সেখানে কিছুদন অতিবাহিত করে চলে যান অমুল্য শাহ আখড়ায়। সেখান থেকে লালন সহ ভাব সংগীতে একুল ওকুল দর্শন করেন। এরপর ১৯৭৬ সালে ফকিরি খিকরা পোষাক গ্রহণ করে। বাংলার লোক সংস্কৃতিক এক বিশিষ্ট ধারা বাউল সংগীতের সাধাক পুরুষ খোদা বকস শাহ কে আমাদের সম্মান ও ভালবাসার অর্ঘ্য অর্পণ করতে পেরে আমরা গাঙচিল সাহিত্য সংস্কৃতি পরিষদ গর্ববোধ করছি। বাঙ্গালীর নিজস্ব সংস্কৃতি রুপের যে উজ্জীবন ও বিকাশ আমাদের কাম্য খোদা বকস শাহ ১৯৮২ সালে বিশ^ ভারতী বিশ^বিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে শান্তি নিকেতনে বাংলাদেশ দলে প্রতিনীধিত্ব করেন। তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করতেন। লালনের পাঠশালায় শুরু হলো তার সাধন ভজন। তার প্রধান অনুশীলন লালন গীতি হলেও রামলাল পাল, কৃষ্ণ ক্ষ্যাপা, রামাচন্দ্র, রাধীশ্যাম, গুরুচাদ গোসাই। গোপাল কাশেম শা, একরাম শাহ, মফিজ উদ্দিন শাহ, বেহাল শাহ সহ মোট চুয়াত্তর জন বাউলের গানে তার পারদর্শিতা ছিল। খোদা বকস শাহ নিওে গান রচনা করতে। তার মুখস্ত গানের সংখ্যা ছিল সাড়ে সতের শরও বেশী। তার নিজের লেখা গানের সংখ্যা প্রায় এক হাজার। শারীরিক বন্দনার মধ্য দিয়ে শারীরিক রুপের ভিতর ঈশ^রের সাধনার জীবনবাদী ধর্ম চেতনারাই অন্যান্য বর্হিপ্রকাশ। সংসার বন্ধন মুক্ত বাউল আবার মুখ ফিরিয়েছে সংসারের দিকে। কোন অপার্থিব পরলৌকিক স্বপ্ন বদ নয়, রক্ত মাংসের মানুষের জীবন চেতনার মধ্য দিয়ে অনুভব করতেই চেয়েছেন। ধর্ম চেতনা এবং সম্প্রদায় অথবা ধর্মের সব রকম বিভেদ অতিক্রম করে গান গেয়েছেন পরম মানব সম্মেলনের বাংলার বাউল সংগিতে এই অন্যান্য সাধনার মধ্য আমাদের কালে তার প্রধান পুরুষ খোদা বকস শাহ। দীর্ঘ ৪০ বছর ধরে অব্যাহত ছিল বাউল সংগিত সাধনা। খোদা বকস এর কথায় আমার গুরু শুকচাদ শাহ তিনার গুরু খোদা বকস্ শাহ, তিনার গুরু মনিরুদ্দিন শাহ, তিনার গুরু লালন শাহ। মুখে মুখে গুরু পরমপরায় এমনিভাবে প্রবাহিত হয়ে চলেছে বাউল সংগিতের ধারা। যা আজও অব্যাহত আছে খোদ বকস শাহ ১৯৮৩ সালে শিল্পকলা একাডেমিতে লালন সংগিতের শিক্ষক হিসাবে যোগদান করেন। ১৯৮৫ সালে বাংলা একাডেমি খোদা বকস শাহকে বাংলা একাডেমি ফেলো পদ প্রদান করেন। ১৯৮৬ সালে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং ১৯৮৭ সালের ৩১ শে মার্চ শিল্পকলা একাডেমির চাকুরী ছেড়ে নিজের আকড়ায় ফিরে আসেন। ১৯৮৯ সালের শেষের দিকে ভিষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৯৯০ সালের ১৫ ই জানুয়ারী ইহলোক ত্যাগ করেন খোদা বকস শাহ। মৃত্যুকালে স্ত্রী রাহেলা খাতুন, পুত্র আব্দুল লতিফ শাহ ও কন্যা মালঞ্চকে রেখে যান। নিজস্ব আখড়াবাড়ীতে তাকে সমাহিত করা হয়। ১৯৯১ সালে খোদা বকস শাহকে মরনোত্তর ২১ শে পদক প্রদান করা হয়। বর্তমানে যাহাপুর গ্রামে খোদা বকস শাহ মাজারে তার ভক্তকুল শহ সাংস্কৃতি সেবি প্রতি বছর জন্ম ও মৃত্যুদিন পালন করেন থাকেন তার ছেলে লতিফ শাহর বাবার মত ফকিরত্ব গ্রহণ করে বাংলাদেশ বেতার বাংলাদেশ টেলিভিশন ও অন্যান্য চ্যানেলে তার বাবার লেখা গান শাহ লালন সংগিত পরিবেশন করে থাকেন। এছাড়া ভারতের পশ্চিম বাংলার বিভিন্ন চ্যানেল সহ বেতারে ভাব সংগিত পরিবেশন করে খ্যাতি অর্জণ করেছেন। খোদা বকস্ শাহের সুযোগ্য সন্তান লতিফ শাহ সকল উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন।