সাম্প্রতিক

ভোটের স্বাধীনতার মূল্য ৪০০০কোটি টাকা

সিরাজী এম আর মোস্তাক, ঢাকাঃ আওয়ামীলীগ জনগণের ভোটের স্বাধীনতা কেড়ে নির্বাচনে জোরপূর্বক ইভিএম তথা ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহারের জন্য নির্বাচন কমিশনকে ৪০০০ কোটি টাকা দিয়েছেন। নির্বাচন কমিশন ৪০০০ কোটি টাকার লোভে জোর করে হলেও নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করবেন।

আওয়ামীলীগ দশম সংসদ নির্বাচনে ১৫৪টি আসনে জনগণের ভোটের অধিকার হরণ করেছিলেন। এবার ৪০০০ কোটি টাকা দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে কিনেছেন। কথায় আছে, টাকা দেখলে কাঠের পুতুলও হা করে। নির্বাচন কমিশন বিশাল অঙ্কের টাকা পেয়ে পাগলপারা হয়েছেন। যে কোনো মূল্যে জনগণের ভোটের স্বাধীনতা কেড়ে তাদেরকে মেশিনে ভোট দিতে বাধ্য করবেন। এতে সফলতা বা বিফলতা নির্ভর করছে, জনগণের চেতনার ওপর।

ব্রিটিশ আমলে এদেশে নীল বিদ্রোহের ঘটনা ঘটেছে। ব্রিটিশরা অধিক মূল্যে নীল কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েও বাংলার জনগণকে নীল চাষে বাধ্য করতে পারেনি। বাংলার জনগণ পরাধীনতা মেনে নিতে পারেনা। তারা তীব্র আন্দোলনের মাধ্যমে ব্রিটিশদের নীল চাষের সিদ্ধান্ত প্রতিহত করেছিলেন। একই ঘটনা ঘটেছিল, সিপাহী বিদ্রোহের ক্ষেত্রেও। দেশের সিপাহী জনতা শুকরের চর্বি ব্যবহারের প্রতিবাদে বিদ্রোহ করেছিলেন।

বাংলাদেশের মানুষ ৩০লাখ বীরশহীদের প্রাণের বিনিময়ে স্বাধীনতা কিনেছেন। এটি টাকার বিনিময়ে হরণ করা যাবেনা। জনগণের সুস্পষ্ট দাবি- আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব, ভোট কেন মেশিনে দেব? ইভিএমে ভোট দেয়ার মানে হল, নিজের ভোটের স্বাধীনতা বিনষ্ট করা। যেহেতু স্বাধীনতার ওপর সামান্য হস্তক্ষেপও সহ্য করা যায়না, তাই সুস্থ বিবেক ইভিএম মেনে নিতে পারেনা। এটি বন্ধে সামান্য প্রতিবাদ বা মামলায় ফল হবেনা। এজন্য গণআন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তীব্র আন্দোলনে নির্বাচন কমিশন পরাজিত হবে এবং জনগণের কাছে ক্ষমা চেয়ে ইভিএম বাতিলে বাধ্য হবে।

mrmostak786@gmail.com.

আপনার মন্তব্য লিখুন

error: Content is protected !!