সাম্প্রতিক

ভূমি অফিসের দুর্নীতি: ‘ই’ লিখলে ২০ হাজার টাকা, ‘সি’ লিখলে ১০ হাজার টাকা!

কিছুতেই যেন কমছে না ভূমি অফিসের দুর্নীতি। উল্টো পরিবর্তন এসেছে ঘুষ লেনদেনের প্রক্রিয়ায়। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এক সাব রেজিস্ট্রারের ঘুষ লেনদেনের ছবি। এরপরই যেন পরিবর্তন আসতে থাকে অর্থ লেনদেনে।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ভূমি রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দেখা যায়, নির্দিষ্ট চিহ্ন একে দিয়ে ছাড়া হচ্ছে দলিল। অর্থ লেনদেনও এখন কর্মকর্তার রুমের বাইরে হয়।

ভুক্তভোগী একজন বলেন, ‘আগে সাব রেজিস্ট্রার সরাসরি টাকা নিতো, কিন্তু এখন নেয় না। পেন্সিল দিয়ে মার্ক করে দেয়। মনে করেন ই লিখলে ২০ হাজার, সি লিখলে ১০ হাজার। এইরকম একটা মার্ক থাকে আরকি।’

যদিও সাব-রেজিষ্ট্রারের দাবি দলিলের ভিন্নতা বোঝাতেই এমন চিহ্ন একে দেওয়া হয়। সাব রেজিস্ট্রার বলেন, ‘এটা অফিসিয়াল দলিল। এখানে পে অর্ডার আছে। ভিন্ন ভিন্ন পে অর্ডারের জন্যে এমন লেখা হয়।’

তবে রাজধানী ঢাকার তেঁজগাও অফিসের চিত্র আরো ভয়াবহ। নিজ জমিতে এপার্টমেন্ট নিয়ে জটিলতা থেকে রেহাই পেতে এই নকল নবিশের দ্বারস্থ হয়ে উল্টো বাড়িই খোয়াতে বসেছেন এক নারী। গোপন ক্যামেরায় স্বীকার করলেও বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে উধাও অভিযুক্ত।

ভুক্তভোগী নারী বলেন, ‘এরা চুক্তি করছে ১ বছরের। এখন ১৭ মাস হয়ে গেছে। এখন এমন অবস্থা বাসা থেকে বের হয়ে ভিক্ষা করে খেতে হবে।’

স্থানীয় প্রভাবশালীদের সহায়তায় একটি চক্র এসব কাজে জড়িত স্বীকার করে সাব-রেজিষ্ট্রার আশ্বাস দিলেন ব্যবস্থা নেয়ার। তিনি বলেন, ‘এখানে শত শত স্টাফ আছে। কে কখন কি করে সেটাতো আমার বিষয় না। লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করবো আমরা।’

ভূমি অফিসের এমন অনিয়ম থেকে মুক্তি পেতে সরকারের নজনদারি আরো বাড়ানো উচিত বলে মনে করছেন ভুক্তভোগী এবং সাধারণ মানুষ।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না