সাম্প্রতিক

ভারত দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দিয়েছে পাকিস্তানে ৩৬৬১০ বাংলাদেশে ২৩৬

প্রচলিত সব ধারণা পাল্টে দিয়েছে লোকসভায় দেয়া ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজুর তথ্য। ভারতের সব গণমাধ্যমে ৫ই ফেব্রুয়ারি প্রচারিত হয় যে, গত সাত বছরে ভারত তার প্রতিবেশীদের মধ্যে সব থেকে বেশি যে দেশটির নাগরিকদের দীর্ঘমেয়াদি ভিসা দিয়েছে, সেই দেশটি পাকিস্তান। বাংলাদেশিরা পাকিস্তানের থেকে এলটিভি পাওয়ার ক্ষেত্রে ১৫৫ গুণ পিছিয়ে আছে। তবে ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়ের এই তথ্যে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে এলটিভি দরখাস্তকারীদের মোট সংখ্যার বিষয়ে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।  
 
১৯৪৭ সালে দ্বি-জাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে বৃটেনের মধ্যস্থতায় দেশভাগের পরে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ অন্তত চারটি যুদ্ধ এবং কাশ্মীর নিয়ে একটা যুদ্ধাবস্থা সর্বদা চলমান রেখেছে বলে মনে করা হয়। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের সফর সব থেকে কম হয়ে থাকে। এমনকি বছরের পর বছর দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীগণ একে-অপরের মুখ দেখাদেখি বন্ধ রাখেন। আঞ্চলিক মিত্রদেরকে তারা একে-অপরের বিরুদ্ধে ব্যবহারের চেষ্টাও করে থাকে। সার্কে অচলাবস্থা চলছে। কিন্তু  উভয়দেশের পিপল টু পিপল সম্পর্ক যে গগনচুম্বি সেটা এতদিন অনেকেরই জানা ছিল না। 

পিটিআইয়ের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে, গত সাতবছরে ৩৬ হাজারের বেশি পাকিস্তানি নাগরিক এবং মাত্র ২৩৬ জন বাংলাদেশি  দীর্ঘমেয়াদি ভারতীয় ভিসা পেয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, গত বছরের ২৫শে এপ্রিল টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি রিপোর্টে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালে ভারতে ৬৯ বিলিয়ন রুপি রেমিট্যান্স এসেছে। একই সময়ে ভারতে কর্মরত বিদেশিরা ৫ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার তাদের নিজ নিজ দেশে পাঠিয়েছে। এরমধ্যে বাংলাদেশেই গেছে চার বিলিয়ন ডলারের বেশি। শতকরা হিসাবে যা ৭১ ভাগ।
ওই বছরে বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয়রা ভারতে পাঠিয়েছে ১১৪ মিলিয়ন ডলার বা সোয়া কোটি মার্কিন ডলার। দেশভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রেরণের তালিকায় বাংলাদেশ একেবারে তলানিতে থাকলেও শীর্ষ পঁচিশের মধ্যেই রয়েছে। পর্যবেক্ষকদের অনেকে মনে করেন,  সার্বিক বিবেচনায় ভারত থেকে রেমিট্যান্স প্রেরণকারী বড় দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান এটাই নির্দেশ করে যে, উভয় দেশের মধ্যে উত্তম সম্পর্ক বিরাজমান। 

পিটিআইয়ের রিপোর্ট অনুযায়ী, লোকসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজু আরো বলেছেন ২০১৭ সালের ৩১শে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৮৪ জন মিয়ানমারের নাগরিককে এলটিভি দেয়া হয়। তবে সমপ্রতি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মিয়ানমারের ১২ জনকে বিতাড়ন করা হয়েছে।

মি. রিজু আরো বলেছেন, প্রাপ্ত তথ্য যা পাওয়া যাচ্ছে তাতে ভারতের স্বরাষ্ট্রও মন্ত্রণালয় ২০১১ সাল থেকে এলটিভি চালু করেছে। আর ২০১১ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত সময়ে পাকিস্তানকে দেয়া হয়েছে ৩৬ হাজার ৬১০টি আর বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছে ২৩৬টি।

বর্তমান গাইডলাইন অনুযায়ী, কতিপয় নির্দিষ্ট ক্যাটাগরিতে পাকিস্তান বাংলাদেশ ও আফগান নাগরিকদের এলটিভি দেয়া হয়।

২১০৭ সালের ১৭ই জুলাই থেকে আফগানিস্তানের ক্ষেত্রেও একই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো আফগানকে এলটিভি দেয়া হয়নি। 

গত তিনবছর ধরে এলটিভি আবেদন অনলাইন এবং অফলাইনে বিবেচনা করা হচ্ছে। তাই রাজ্যভিত্তিক এই পরিসংখ্যান আপাতত দেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন।