সাম্প্রতিক

ব্যাংকের অনুমোদন দিয়ে ‘আনহ্যাপি’ অর্থমন্ত্রী

দেশের অর্থনীতির আকারের তুলনায় বর্তমানে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেশি বলে মনে করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, নতুন ব্যাংক অনুমোদন দেয়ার কোনো দরকার ছিল না।

বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে অর্থনীতি নিয়ে কাজ করা সাংবাদিকদের সংগঠন ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের (ইআরএফ) কার্যনির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। ইআরএফের সভাপতি সাইফুল ইসলাম দিলালের নেতৃত্বে এ সময় কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গত ২৯ অক্টোবর কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ নামে পুলিশের জন্য একটি ব্যাংক অনুমোদন দেয়া হয়। এছাড়া অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও তিন ব্যাংক। নতুন ব্যাংকের বিষয়ে এক প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ায় আমি ভেরি আনহ্যাপি (খুবই অখুশি)।’

এর আগে গত ২৪ অক্টোবরও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেছিলেন, ‘ভালো অবস্থায় থাকলেও ব্যাংকিং খাত খুব বেশি বড় হয়ে গেছে। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দুটোই বেশি। এগুলোর সীমিতকরণ (কনস্যুলেশন) দরকার হতে পারে।’

এসব ব্যাংক খুব সত্বর মার্জার (এককীভূতকরণ) শুরু হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ক্ষমতায় এলেই একীভূতকরণের কাজ শুরু হবে। যদি অন্য কেউ (দল) ক্ষমতায় আসে তাহলে তাদেরকেও আমি ব্যাংক সংস্কারের বিষয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়ে যাব।’

তাহলে কেন নতুন ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হচ্ছে প্রশ্নে মুহিত বলেন, ‘পলিটিক্যাল গ্রাউন্ডে (রাজনৈতিক বিবেচনা) দেয়া হচ্ছে।’

এর আগে একজন সাবেক মন্ত্রীকে ব্যাংক দেয়ার অভিজ্ঞা ভালো নয় আবার একজন মন্ত্রীর আত্মীয় ব্যাংক পেতে যাচ্ছে এতে পুনরায় খারাপ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হবে কি না- প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অনেক মন্ত্রীই ব্যাংকের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে এই সংখ্যা বেশি হওয়ায় ব্যাংকগুলো একীভূত করা হবে। এর জন্য আইনও করা হচ্ছে।’

এদিকে শুরুতে আপত্তি জানালেও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক বিবেচনায় আরও চার ব্যাংক প্রতিষ্ঠার সবুজ সংকেত দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকারের শেষ সময়ে সায় পাওয়া চার ব্যাংক হলো- কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশ, দ্য বেঙ্গল ব্যাংক, পিপলস ব্যাংক এবং দ্য সিটিজেন ব্যাংক। এর মধ্যে পুলিশ সদস্যদের মালিকানায় কমিউনিটি ব্যাংক অব বাংলাদেশকে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। তবে বাকি তিন ব্যাংকের কিছু কাগজপত্রে ত্রুটি থাকায় চূড়ান্ত অনুমোদন পায়নি।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসার পর ৯টি ব্যাংকের অনুমোদন দেয়া হয়। রাজনৈতিক বিবেচনায় ব্যাংকের অনুমোদন দেয়ার সমালোচনা করে আসছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা। তবে সমালোচনা উপেক্ষা করেই সবশেষ অনুমোদন পায় পুলিশের জন্য ব্যাংক।

আপনার মন্তব্য লিখুন

আপনার ইমেইল প্রকাশ করা হবে না