সাম্প্রতিক

মেহেরপুরে রসালো মিষ্টি ফল লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে।

মাসুদ রানা, মেহেরপুর প্রতিনিধি : গ্রীষ্মের রসালো মিষ্টি ফল লিচু বাজারে উঠতে শুরু করেছে। সদ্য বাজারে ওঠা এই ফল কিনতে মানুষ ভিড় করছে মেহেরপুরের লিচুর দোকানগুলোতে। রোজার মাস, তার ওপর গরমে লিচুর কদর কমেনি। ফলন ভালো হওয়ায় এবং দাম ভালো পাওয়ায় আশায় ব্যবসায়ীরা এখনই লিচু বাজারে নিয়ে আসছে।মেহেরপুররে আগাম লিচু হিসেবে চায়না-১, চায়না-২, চায়না-৩ ও বোম্বাই জাতের লিচুর বাজারে আসতে শুরু করেছে।
জ্যৈষ্ঠের ফল লিচু বৈশাখের শেষেই মেহেরপুর জেলার বাজারে উঠেছে। মিষ্টি স্বাদের স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত আটি লিচু বিক্রিও হচ্ছে ভালো। তবে কৃষি অধিদপ্তরের বলছে, আরও ১৫ দিন লাগবে লিচু পুষ্ট ও স্বাদযুক্ত হতে। কিন্তু অনেকে বেশি দাম পাওয়ার আশায় কিছু কিছু ব্যবসায়ীরা লিচু গাছে স্প্রে দিয়ে পাকিয়ে বাজারে আনছেন লিচু। এতে করে লিচুর স্বাদ টক হচ্ছে।
মেহেরপুর বাস স্ট্যান্ড এলাকায় পাইকারি বাজারে গিয়ে দেখা যায়, আশপাশের বাগান থেকে লিচু চাষীরা লিচু নিয়ে এসেছেন বিক্রির জন্য। গাছ থেকে সদ্য পেড়ে আনা লিচুগুলো রসে ভর্তি। মিষ্টি স্বাদের এসব লিচু ১২শত টাকা থেকে ২২শত টাকা ক্রাউন হিসেবে বিক্রয় হচ্ছে। প্রতি ৮০টি লিচুতে এক থোকা হয়, যা স্থানীয়ভাবে ‘একপন’ হিসেবে বিক্রি হয়। অর্থাৎ ১৬ পোনে এক ক্রাউন। ৮০টি লিচু বিক্রি হচ্ছিল ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়।
আমজাদ হোসেন নামের একজন আড়ৎদার জানান, ঘূর্ণিঝড় ফণীর কারণে মেহেরপুর জেলাজুড়ে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে কিছু কিছু বাগানে আগাম লিচু পাকতে শুরু করেছে। আবার অনেক বাগানের লিচু ফেটে যাচ্ছে তাই বাগান মালিকেরা লিচু নিয়ে বাজারে পাইকারি বিক্রি করছেন।
মেহেরপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি বাগানে গিয়ে দেখা যায়, রংপুর থেকে আসা কয়েকজন ব্যবসায়ী গাছের লিচু পাহারা দিচ্ছেন। তারা প্রতি বছর এই বাগান লিজ নেয়। বাগানের মালিক নিজে দাঁড়িয়ে থেকে লিচু পাড়ার তদারকি করছেন। তিনি বলেন, হঠাৎ বৃষ্টিপাত হওয়ায় বাগানের কয়েকটি গাছে লিচু পাকতে শুরু করেছে। বাজারে আগাম লিচুর দামও ভালো পাওয়া যায়। সে কারণে বাগানের দুটি গাছে লিচু পেড়ে বাজারে নেবেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আখতারুজ্জামান বলেন, মেহেরপুরের আম ও লিচুর স্বাদ অন্যান্য এলাকা থেকে একটু বেশিই। চলতি বছরের মেহেরপুরের তিন উপজেলাতে ৫৭৭ হেক্টর জমিতে লিচুর বাগান রয়েছে। হেক্টর প্রতি ৮ মেট্রিকটন লিচু উত্তোলন করা সম্ভব হবে। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে।