সাম্প্রতিক

মেহেরপুরের খোকসায় জব্দ করার পরও উধাও সরকারি দেড়শ গাছ

মেহেরপুর প্রতিনিধি ॥ জব্দ করার পরও মেহেরপুর সদরে সরকারি খাস জমি থেকে দেড় শতাধিক মেহগুনি গাছ কেটে বিক্রি করেছে আলম মোল্লা ও তার দুই ভাই। অভিযুক্ত আলম মোল্লা খোকসা শেখ পাড়ার মোস্তাকিন মোল্লার ছেলে।
সদর উপজেলার আমঝুপি ইউনিয়নের খোকসা কদমতলা এলাকায় কাজলা নদীর তীরবর্তী সরকারি এক নম্বর খাস খতিয়ানভুক্ত জমির দেড় শতাধিক মেহগুনি গাছ বিক্রি করেছেন তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কাজলা নদীর পাড় দিয় প্রায় একশ শতক ফালি জমির উপর দেড় শতাধিক গাছ কেটে বিক্রি করা হয়েছে। প্রায় দুই দফায় তারা এ গাছ গুলি কেটে সাবাড় করেছে। প্রথম দিকে ৪৯টি গাছ কাটার খবর পেয়ে আমঝুপি ইউনিয়ন সহকারি ভুমি কর্মকর্তা নওজেশ আলী এসি ল্যান্ডের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছ গুলো জব্দ করে। তার পর থেকে বেশ কিছুদিন গাছ কাটা বন্ধ ছিল। নওজেশ আলী বদলি হয়ে অন্যত্র চলে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা পরবর্তিতে গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দেয়।
আজ রবিবার সকালে ওই জমিতে সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, গাছের গোড়া উপড়ে ফেলে সেগুলো নতুন মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। জমির দুই পাশ দিয়ে প্রায় দেড় শতাধিক এমন চিহৃ পাওয়া গেছে।
ওই এলাকার রিপন আলী নামের একজন জানান, গাংনী উপজেলা মাইলমারী ধলা গ্রামের কয়েকজন ব্যাপারীর কাছে গাছগুলো বিক্রি করেছে। পাওয়ার ট্রলিতে করে গাছগুলি নিয়ে যেতে দেখিছি। ওই জমিতে প্রায় দেড়শর মত মেহগুনী গাছ ছিল। আমরা দির্ঘদিন ধরে জানি ওই জমিটা সরকারি।
শরিফুদ্দিন নামের এক চাষী বলেন, দির্ঘদিন ধরে তারা জমির মালিক বলে দাবি করে আসছে। কিন্তু আমরা জানি এটা সরকারি জমি। প্রায় দেড় দুইশ মেহগনি গাছ তারা কেটে বিক্রি করেছে।
অভিযুক্ত আলম হোসেন জানান, ওটা আমাদের কেনা জমি। আমরা ১৯৮৬ সালে আমরা জমিটা কিনেছি। কিন্তু রেকর্ডে ওঠেনি। ওখানে আম গাছ আছে। সেখানে কিছু আগাছা পরিস্কার করেছি। সব ধরণের গাছ ছিল।

কতটাকায় বিক্রি করেছেন তার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, আপনি এসি ল্যান্ডও না, এসপি সাহেবও না, ডিসি সাহেবও না ,আপনি সাংবাদিক। আপনাকে ওত হিসেবে দিতে পারব না।
আমঝুপি ইউনিয়নের সাবেক ইউনিয়ন ভুমি সহকারি (তহশিলদার) নওজেশ আলী জানান, এক নম্বর খাস খতিয়ানের (কাজলা নদী পাড়ের) জমি ওই টা। এসি ল্যান্ড অফিসের নির্দেশে ঘটনাস্থলে গিয়ে ৪৯টি মেহগনি গাছ জব্দ করি। পরে আমার বদলি হয়ে যাওয়ায় আর তেমন কিছু জানিনা। তিনি আরো জানান, আলম মোল্লারা জমিটি তাদের কেনা সম্পত্তি হিসেবে দাবি করলেও তারা কোন কাগজ দেখাতে পারেনি।
বর্তমান ইউনিয়ন ভুমি সহকারি কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, এসি ল্যান্ড স্যারের নির্দেশে গতকাল বিকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি আনুমানিক দেড়শ গাছ তারা কেটে বিক্রি করেছেন। তারা ওই জমি নিজেদের দাবি করলে আমরা কাগজ নিয়ে এসি ল্যান্ড স্যারের সাথে দেখা করতে বলেছি। আজ রবিবারের মধ্যে এ বিষয়ে একটি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মেহেরপুর সদর উপজেলার সহকারি কমিশনার (ভুমি) সামিউল হক জানান, এর আগে ৪৯টি মেহগনি গাছ ওই জমিতে জব্দ করা হয়েছিল। পরবর্তিতে গাছ কাটার বিষয়টি জানার পর তহশিলাদার পাঠানো হয়েছে। ওই ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে।