সাম্প্রতিক

বাল্যবিয়ের অপরাধে চুয়াডাঙ্গায় ভ্রাম্যমাণ আদালতে বর ও কনের পিতাকে করাদণ্ড কাজিকে গ্রেফতারের নির্দেশ

imagesডিঙ্গেদহ প্রতিনিধি: বাল্যবিয়ের অপরাধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বর ও কনের পিতাকে ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৫টার দিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের প্রোসেস সার্ভেয়ার ওসমান গনি বলেন, গত ১০ ফেব্রুয়ারি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার মোমিনপুর ইউনিয়নের আমিরপুর গ্রামের ইদবার আলীর মেয়ে প্রাইমারি স্কুলের ৫ম শ্রেণির ছাত্রী কানিজ ফাতিমার (১১) সাথে সরিষাডাঙ্গা গ্রামের ইদু মণ্ডলের ছেলে আবদুল হালিমের (২২) গোপনে বাল্যবিয়ে দেয়া হয়। আর এ বিয়ে পড়ানো হয় আলমডাঙ্গা উপজেলার নাগদাহ গ্রামের বরের নানার বাড়িতে। এ সংবাদটি দৈনিক মাথাভাঙ্গা পত্রিকায় প্রকাশ হলে বিষয়টি তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে উপজেলা কার্যালয়ের প্রসেস সার্ভেয়ার ওসমান গনির ওপর দায়িত্ব প্রদান করেন। প্রসেস সার্ভেয়ার ওসমান গনি গোপনে তদন্ত করে বাল্যবিয়ের সত্যতা পেলে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে গতকাল বুধবার বেলা ২টায় চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মাসুদ পারভেজ সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে বর আবদুল হালিম ও কনের পিতা ইদবার আলীকে আটক করে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে হাজির করান।

অপরদিকে বাল্যবিয়ে পড়ানোর অভিযোগে কাজি আবদুর রহমানের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কাজি আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বাল্যবিয়ে করার অপরাধে বর সরিষাডাঙ্গা গ্রামের ইদু মণ্ডলের ছেলে আবদুল হালিমকে ১৯২৯’র ৪ ধারা মোতাবেক ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও মেয়েকে বাল্যবিয়ে দেয়ার অপরাধে পিতা আমিরপুর গ্রামের ইদবার আলীকে ১৯২৯’র ৬ ধারা মোতবেক ১ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন। বাল্যবিয়ে পড়ানোর অপরাধে কাজি আবদুর রহমানকে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৃনাল কান্তি দে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার এসআই মাসুদ পারভেজ, মমিনপুর ইউপি সদস্য আনিসুর রহমান, প্রসেস সার্ভেয়ার ওসমান গনি।